‘স্পিকটি নট’

Posted: 11 অক্টোবর, 2020

একতা প্রতিবেদক : বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গণমাধ্যম বিরাজ করছে। টিভি, রেডিও, পত্রিকার বাড়বাড়ন্তের কথা সরকারও খুব বুক ফুলিয়ে বলে। এটা দিয়ে সরকার বুঝাতে চায়, দেশে বাক-স্বাধীনতাও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভাল। কিন্তু বেশি গণমাধ্যম মানে যে বেশি বাক-স্বাধীনতা না সেটি সরকারই আবার প্রমাণ করে দিয়েছে। বরং বেশি ‘মাধ্যম’ থাকলে নিজেদের প্রচার বেশি হয়। আর ‘মাধ্যম’ থেকে যদি ‘গণ’কে বাদ দিয়ে যায় তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। একেবারে ‘স্পিকটি নট’। সরকার এটাই চায়। আর এজন্যই সরকারের পক্ষ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে, ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, মন্তব্য, লাইক ও শেয়ার করতে পারবেন না সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর আগে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও এরকম সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ফলে এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সরকারের মুখোশটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ, ছাত্রলীগের নেতাদের ধর্ষণের প্রতিবাদ করলে দেশ অশান্ত হতে পারে- অতএব স্পিকটি নট। রাতের বেলায় ভোটের বিরুদ্ধে কথা বললে মানুষ প্রতিবাদ করতে পারে- অতএব স্পিকটি নট। শেয়ারবাজার-ব্যাংক থেকে লাখো কোটি টাকা লুট হয়ে গেলেও স্পিকটি নট।