উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারে ট্রাম্প

Posted: 13 সেপ্টেম্বর, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক : উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারে ঝড় তুলতে ট্রাম্প এবারে দাবি করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাইডেন দেশকে ‘বিক্রি করে দিচ্ছেন’ চীনের কাছে। নভেম্বরের ৩ তারিখ মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উপরাষ্ট্রপতি মাইক পেন্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। করোনা মহামারী সহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে পর্যদুস্ত মার্কিন মুলুকে ট্রাম্পের হাতিয়ার চীন বিরোধিতার সঙ্গেই উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচার এবং শ্বেতাঙ্গ ও অ-শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে মেরুকরণ। ১১ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের অভিযোগ করেন, চীন প্রশ্নে বাইডেন ‘দুর্বল’, তাঁর পরিবার দেশকে সরাসরি ‘বিক্রি করে দিচ্ছে’ চীনের সেনাবাহিনীর কাছে। এছাড়া জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন মিশিগানের একটি অটো সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাকে বিক্রি করে দিয়েছে চীনের একটি দাপুটে সামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার কাছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। আলাপ তুলেছেন যে সাঙহাই-কেন্দ্রিক বেসরকারি ইক্যুইটি সংস্থা বোহাই হারভেস্ট আরএসটি’তে রয়েছে জো বাইডেন পুত্র হান্টার বাইডেনের ১০ শতাংশ শেয়ার। মিশিগান লেনদেন নিয়ে লিখছে না বলে সাংবাদিকদের পক্ষপাতী বলে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আপনার এসব নিয়ে লিখতে চাইছেন না। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং কাজ পাচ্ছে চীনের সেনাবাহিনী, পরিবর্তে বাইডেনের পরিবার পাচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।’ বিপরীতে বাইডেন বলেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তিনি যে পুরোপুরি ব্যর্থ, তা বুঝেই ট্রাম্প বলেছেন, ‘এই নির্বাচন খুব সহজে, খুব দ্রুততার সঙ্গে হতো, কিন্তু তা হলো না চীনা-ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে।’ এরই পাশাপাশি, নিজেকে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকার ‘মাসিহা’ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন ট্রাম্প। নিজেই হিংসায় মদত দিচ্ছেন। বর্ণবাদের প্রিজমে গত সপ্তাহে জনমত সমীক্ষা করেছে সিবিএস নিউজ। তাতে দেখা গিয়েছে, ভোটারদের ৬৬ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গদের স্বার্থ দেখেছেন। যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ বলেছেন রাষ্ট্রপতি তাঁদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। বিপরীতে, ২০ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গের স্বার্থ দেখেছেন, আর ৫০ শতাংশ বলেছেন রাষ্ট্রপতি তাঁদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ৮১ শতাংশই বলেছে, ট্রাম্প তাঁদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এই সমীক্ষায়, শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের ৫১ শতাংশ যখন ট্রাম্পের পক্ষে, তখন বাইডেনের প্রতি সমর্থনের হার ৪৩ শতাংশ। আবার কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থনের হার মাত্র ৯ শতাংশ, যেখানে বাইডেনের পক্ষে ৮৫ শতাংশের সমর্থন। হিসপানিকদের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে যখন ২৫ শতাংশ, তখন বাইডেনের প্রতি সমর্থনের হার ৬৩ শতাংশ।