বাতাসের মাধ্যমেও করোনা ছড়ায়?

Posted: 12 জুলাই, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণের কারণে গোটা বিশ্ব ব্যতিব্যস্ত। দীর্ঘদিন আগেই প্রশ্ন উঠেছিল করোনা ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় কিনা তা নিয়ে। এবার বিজ্ঞানীরা ডব্লিউএইচও'র উদ্দেশ্যে প্রেরিত খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস বায়ুবাহিত। এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও’ও তা স্বীকার করেছে। ৩২ দেশের ২৩৯ বিজ্ঞানী এক খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও'র গাইডলাইন হালনাগাদ করার আহ্বান জানানোর পর বিশ্ব স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফ থেকে স্বীকারোক্তি আসলো। ডব্লিউএইচও এর এমন ঘোষণার পর মানুষের মনে আতঙ্ক আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ বায়ুবাহিত রোগের সংক্রমণ হার অনেক বেশি। হু’এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্যা স্বামী নাথন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, করোনা জীবাণু বাতাসে ভাসার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনা জীবাণু বাতাসে ভাসতে এবং বাঁচতে পারে, সংক্রমণও ঘটাতে পারে। তবে সেটা খুব কম ক্ষেত্রেই। ডব্লিউএইচও'র টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরকোভে জেনেভা থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে বলেন, করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে বা বাতাসে ভাসমান ভাইরাল কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে কি না সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ২৩৯ বিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লেখা খোলা চিঠিতে প্রমাণসহ দেখিয়েছেন, বাতাসে ভেসে থাকা একেবারে ক্ষুদ্র ভাইরাসবাহী কণা থেকেও মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত হতে পারে। তাদের ওই চিঠি ৬ জুলাই ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বেনেদেত্তা আলেগ্রানজি বলেন, করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর প্রমাণ আসছে, কিন্তু বিষয় হল, সেগুলো নিশ্চিত কিছু নয়। তিনি বলেন, সেখানে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশে যেমন বদ্ধ জনাকীর্ণ ঘরে, যেখানে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেখানে বায়ুবাহিত সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, তবে এসব প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২৯ জুন প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, কেবল তখনই এ ভাইরাস বাতাস বাহিত হয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে যখন ভাইরাল জলকণা বা ড্রপলেটের আকার ৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট হয় (১ মাইক্রন = ১ মিটারের ১ মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ)। এদিকে ২০২১ সালের ৬ জুলাই থেকে কার্যকর হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ছাড়ার ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাওয়ার পর জাতিসংঘের তরফ থেকে ৭ জুলাই এ কথা জানানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও ছাড়ার এক বছর আগে নোটিশ দিতে হয় এবং একই সময়ে চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে হয়। সেই আনুষ্ঠানিকতা বাস্তবায়ন করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেবল বেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও'র সঙ্গে ৭০ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব দেশের টাকায় চলে, তার মধ্যে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদার পরিমাণই ছিল সবচেয়ে বেশি। ডব্লিউএইচও'র ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী চাঁদা বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও ২০ কোটি ডলারের বেশি পাওনা রয়েছে সংস্থাটির।