কোভিড-১৯ এরপর : পরিবর্তন না অচল অবস্থা?

Posted: 28 জুন, 2020

মহসিন সিদ্দীক: যতই কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস শহরের পর শহর, নগরীর পর নগরীতে পরিব্যপ্ত হয়ে নির্বিকারভাবে জীবন সংহার করছে, ততই এই পরিস্থিতির পরস্পরবিরোধী প্রকৃতি লক্ষ্য না করা দূরহ হয়ে পড়েছে: এই মহামারী যদিও বিশ্বব্যাপী, এর মোকাবেলায় কার্যকর বৈশ্বিক কোনো ব্যবস্থা নেই। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই ভূমিকা পালন করার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সংঘের সদস্য দেশগুলো শর্ত অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য দিতে অস্বীকার করার ফলে সংস্থাটি যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার নাগরিক ডা. তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান প্রধান কর্মকর্তা হওয়াতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটিকে অর্থ প্রদান করা বন্ধ করে দিয়েছেন কিনা এমন সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না। সোশিওপ্যাথ ট্রাম্প ও অভব্য বাচাল বরিস জনসনের মত দুই ‘নেতা’ শুরুর দিকে এই বৈশ্বিক মহামারীর আসন্ন বিপদকে আমলেই নিতে চাননি। বড় বড় রোগতত্ত্ববিদ, সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, জৈব পরিসংখ্যানবিদ, এবং আরো অনেক বিশেষজ্ঞের আবেদন নিবেদনের পরেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকার লক ডাউনের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কারণ তা ব্যবসার জন্য ক্ষতি। পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগের উৎস সনাক্ত করা, এবং ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামের (personal protection equipment, ppe) অভাব, ইত্যাদি কারণে আরো বেশি সময় ধরেই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করা করা ছড়া পথ নেই। অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনেই রয়েছে নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, নিম্নমানের ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন এবং পয়ঃপ্রণালী ও বিশুদ্ধ জলের অভাব। সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতিমালা নেই এমন অস্বাস্থ্যকর কর্মক্ষেত্রই এই ভাইরাস বিস্তারের জন্য আদর্শ। বাজারস্থ করার জন্য মাংস হাতাহাতি করে যে শ্রমিকরা এই ভাইরাসের আক্রান্তের হার তাদের মধ্যে বেশি হওয়ার এটাই কারণ। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকায় দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যেও আক্রান্তের হার ভয়াবহ রকম বেশি। অন্য সবকিছুর মত পুঁজিবাদও একই সংগে এই ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের মাধ্যমে চলে। উপনিবেশিক যুগের পর থেকে পুঁজিবাদ শোষণের নতুন নতুন ফন্দি বের করেছে যার জন্য তাকে খুব একটা প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়নি। তার উপর নয়া উপনিবেশবাদের অধীনে পুঁজিবাদীরা দেশে দেশে এমন কিছু স্থানীয় বেনিয়া বুর্জোয়াদের হাত করেছে যারা তাদের হয়ে সেসব দেশে উপনিবেশিক প্রভুদের কার্য হাসিল করে থাকে। এভাবেই ৬ শতাধিক বছর স্থায়ী উপনিবেশ বলবত রাখার নয়া উপায় তারা আবিস্কার ও বলবৎ করেছে। তাদের ভাষ্য হচ্ছে ‘নিজেদের পুঁজি’ বিনিয়োগ করে তারা বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মার্কসের ভাষায়, এই পুঁজির উৎস হল পণ্যের উদ্বৃত্ত মূল্য, যা বিনিয়োগ করে সৃষ্টি হয় আরো বেশি উদ্বৃত্ত মূল্য। অর্থাৎ, পরম্পরা ধরে যে শ্রমিকেরা কেবল শ্রম ব্যতীত আর কিছুরই মালিক নয় তাদের সেই শ্রম নিংড়েই তৈরি হয় এই উদ্বৃত্ত মূল্য। পশ্চিমের কর্পোরেশনগুলোর হাতে জমা হওয়া এই পুঁজির সিংহভাগেরই প্রাথমিক উৎস এশিয়া, আফ্রিকা, এবং ল্যাটিন আমেরিকা থেকে লুটে নেওয়া বিপুল সম্পদ। আর এই লুটেরই ধারাবাহিকতা হচ্ছে উদ্বৃত্ত মূল্য। উপনিবেশিক কালের লুটপাটের ফলে যে অবস্থায় শোষিত দেশ গুলোর যে পরিণতি, আজ তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনুন্নতি’। [১] নয়া উদারবাদ ও বিশ্বায়ন যে পুঁজিবাদেরই ছলাকলার অংশ তা কার্ল মার্কস শত বছর আগেই ভবিষ্যৎবাণী করেছেন এবং পরবর্তীতে লেনিন এটি বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন। নয়া উদারবাদের বর্তমান সংস্করণটি লুডভিগ ভন মিজেস ও ফ্রেডরিক হায়েকের সম্মিলিত চিন্তার ফলাফল এবং তাদের সাথে পরবর্তীতে যোগ দেন চিলির সামরিক জান্তা জেনারেল পিনোশের আদর্শিক গুরু মিল্টন ফ্রিডম্যান ও পুঁজিবাদী শোষণের আরো কিছু স্তাবক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে বিকশিত হতে চলা সম্মিলিত অর্থনীতির মডেলকে টেক্কা দেওয়ার জন্য এর সৃষ্টি। সেসময় সম্মিলিত অর্থনীতির সফলতা সবে উঁকি দিচ্ছিল আর তা দেখেই পুঁজিবাদীরা ও শাসক শ্রেণিতে থাকা তাদের মিত্ররা বিচলিত হয়ে পড়ে। একেবারে শুরু থেকেই তারাই সমাজতান্ত্রিক প্রকল্পকে চূর্ণ করে দিতে চেয়েছিল। পুঁজিবাদের অধীন সকল কিছুই পরিণত হয় নিছক পণ্যে। যৌথ অর্থনীতির বিপরীতে তারা সবকিছুই ব্যক্তিমালিকানাধীন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করার অঙ্গীকারের নামে বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা রাখতে এবং দেশগুলোতে বেসরকারিকরণ চাপিয়ে দিয়েছে। এই অপকর্মের আদর্শগত ভিত্তি সৃষ্টি হয় ১৯৬৮ সালে ‘বিজ্ঞান’ নামে এক বিখ্যাত সাময়িকীতে প্রকাশিত গ্যারেট হারডিনের ‘দ্য ট্র্যাজেডি অব কমনস’ প্রবন্ধ প্রকাশের পর। ঐতিহ্যগতভাবে, সামাজিক মালিকানা (দ্য কমনস) হল এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ থাকতো যৌথ মালিকানায় এবং তা যৌথভাবে টেকসই কায়দায় রক্ষা ও বণ্টন করা হত। অথচ, যৌথতার এই ধারণাটিকেই ব্যবহার করা হল ব্যক্তিমালিকানাকে উৎসাহিত করায় এবং সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচনে। এবং সেইসাথে ঢালাও বেসরকারিকরণকে এই বলে জায়েজ করার চেষ্টা হল যে, যত বেশি ব্যক্তি উদ্যোগ তৈরি হবে তত বেশি সামগ্রিক কল্যাণ সাধিত হবে। পুঁজিবাদের অধীনে সবকিছুই পণ্যে পরিণত হয়— লেনিনের এমন উপলব্ধি মোটেই অমূলক ছিল না। প্রমাণস্বরূপ, নয়া উদারবাদের অধীনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে আন্তর্জাতিক ঋণ সংস্থাগুলো যেন তারা দ্রুত তাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, গৃহায়ণ, এমনকি শিক্ষা খাতের ব্যয়ও সংকুচিত করে। পরবর্তীতে এলিনর ওসট্রম হার্ডিন এর অনুমানকে খণ্ডন করেন। সামাজিক মালিকানার ধারণা হয়ত এখন আর প্রচলিত নয়, কিন্তু পারস্পরিক নির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা তো এখনো হারিয়ে যায়নি সমাজ থেকে। ভবিষ্যৎ সমাজে, সমবায়ই হবে বৈশ্বিক সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মৌলিক একক। নয়া উদারবাদি অর্থনীতিতে বিনিয়োগের (সাধারণত অনুন্নত দেশগুলোই আর্জি করে) সাথে বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো তাদের স্বার্থের অনুকূল শর্তারোপ করে থাকে। ২০১৮ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ৫০০ কোম্পানির সম্মিলিত আয় ছিল ৩৬.৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মুনাফা ২.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ৩৪টি দেশের মোট ৬৯.৩ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান হয় এই কর্পোরেশনগুলোতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা যে দেশে বিনিয়োগ করে সেখানে কোনো কর পরিশোধ করে না, এবং ব্যবসার জন্য এসব দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতেও তাদেরকে কোনো কানাকড়ি খরচ করতে হয় না। সুবিধাজনক নীতিমালা ও বিনা তদারকি, শিথিল পরিবেশ বিধিমালা, ট্রেড ইউনিয়নের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, এবং বিনিয়োগ গ্রহণকারী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর সুযোগ—এই সবগুলো আনুকূল্যই তারা পেয়ে থাকে। ভুক্তভোগী মানুষের দৃষ্টি সমস্যার আসল কারণ থেকে সরিয়ে রাখতে পুঁজিবাদ হেন কোনো কৌশল নেই যা প্রয়োগ করে না। এভাবে বিভ্রান্ত করতে না পারলে তো যেকোনো সময় শ্রমিক শ্রেণি ও দরিদ্র জনগণ বিদ্রোহ করে বসবে। এত কৌশল অবলম্বনের পরও শ্রমিক শ্রেণি তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দিয়ে বুঝতে পারে পুঁজিবাদী ধ্বংসযজ্ঞের বিকল্প হচ্ছে কেবল সমাজতন্ত্রই। দুনিয়াজুড়ে তরুণরাও আজ এ সত্য উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। আশা করি, বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরাও এই পৃথিবী ও মানবজাতিকে রক্ষায় সমাজতন্ত্রের পথকেই অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করবে। ভোগবাদী, বিলাসী এবং অপব্যয়ী জীবনধারাকে হটিয়ে যে সামাজিক মালিকানাগুলো বৈশ্বিকভাবেই মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন সেগুলো হল, প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান পেতে প্রতিটি মানুষের ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা; [২] সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা; সুলভ আবাসন; বিনামূল্যে উচ্চ-মানসম্পন্ন শিক্ষা; সকলের জন্য ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা; সকলের জন্য টেকসই জীবন মান। একইসাথে আমাদের কাজের ধারণায়ও পরিবর্তন জরুরি, এবং পুঁজিবাদীদের খেদমতে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টিতে মগ্ন না থেকে সমাজের জন্য সেবামূলক কাজেও মনোনিবেশ করতে হবে। আজকের দুনিয়াতে এই চাওয়াগুলো পূরণ করা খুবই সম্ভব; উৎপাদন শক্তি এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে মানুষের চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব না কোনোভাবেই, কিন্তু তার আগে অপচয় ও ভোগবাদিতা ত্যাগ করতে হবে। আফ্রিকান আমেরিকান, আদিবাসী আমেরিকান, এবং অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ মানুষদের প্রতি যে অপরাধ করা হয়েছিল সে ক্ষত মুছে ফেলা না গেলেও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের জন্য তো লড়াই করা যায়। উপনিবেশিক শোষণের ক্ষতিপূরণের দাবি খুবই ন্যায়সঙ্গত এবং যে কোনো নিরপেক্ষ মানুষই এটি সমর্থন করবে। সেইসাথে উপনিবেশিক শক্তিগুলো উপনিবেশ শাসিত দেশগুলো থেকে যেসকল ধন সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে তা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও আওয়াজ তুলতে হবে। বিপুল সম্পদ লুট হওয়ায় বহু দেশ স্থায়ীভাবে অনুন্নত রয়ে গেছে। তথাকথিত মুক্তবাজারের দুনিয়ায় আর ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। [৩] দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয়। খাদ্য, পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন এবং পরিবহনের মত যে সমস্যাগুলো মানুষকে মোকাবেলা করতে হয় তা এখন বৈশ্বিকভাবেই আন্তঃসম্পর্কযুক্ত। এখানে কিছু কিছু সমস্যা আছে, বিশেষ করে দারিদ্র, যা জাতীয় পর্যায়ে নিরসন করা সম্ভব না এবং এর বৈশ্বিক সমাধান জরুরি। বাস্তবে, আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখতে পাই যে প্রচলিত বৈষম্যের নীতি হল একটি অংশের মানুষের কল্যাণে প্রচুর সম্পদ বিনিয়োগ করা এবং বাদবাকি বেশিরভাগ জনসাধারণকে অপর্যাপ্ত খাদ্য এবং পুষ্টির অভাব জর্জরিত এক জীবন যাপনে অভিশপ্ত করা। যে জঘন্য পরিবেশে তারা বসবাস করে তাকে আবাস গণ্য করা একরকম নির্মম পরিহাস। শিক্ষার অভাব, পরিষ্কার জল, স্যানিটেশন এবং একটি পরিষ্কার পরিবেশ; এবং স্বাস্থ্য সেবার জন্য অর্থাভাব তাদের দৈন্দিন বাস্তবতা। পুরো সমাজ এই ধরনের নীতির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কস পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, পুঁজিবাদের বিলোপ ছাড়া শ্রমশক্তি শোষণের অবসান হবে না। আর এজন্য তিনি কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছেন। একটি নতুন সমাজের আবির্ভাব অবশ্যই টেকসই হতে হবে: “এমনকি একটি পুরো সমাজ, একটি জাতি, কিংবা এমনকি যুগপৎভাবে বিদ্যমান সকল সমাজ মিলেও পুরো দুনিয়ার মালিক বনে যেতে পারে না। তারা কেবল এর ভোগ দখলকারী, ‘জিম্মাদার’, এবং একজন ভাল গৃহকর্তার মত তাদের কর্তব্য হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটিকে আরো ভাল অবস্থায় হস্তান্তর করা”। [৪] এই স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা মোটেও সুখকর ছিল না এবং তা এযাবৎ সফলও হয়নি। কিন্তু বহু সমাজতন্ত্রী ও অন্যান্য প্রগতিশীলদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখতে পাই গণতন্ত্রই একমাত্র হাতিয়ার যা দিয়ে পরিবর্তন সাধন সম্ভব এবং একইসাথে সামাজিক উন্নতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও। কিন্তু এক্ষেত্রে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের চেয়ে অধিকতর মহৎ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গণতন্ত্র অপরিহার্য; এবং দরকার জনগণের ক্ষমতায়ন এবং অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয়/আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বদলে গণতান্ত্রিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। [৫] সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারাভিযানের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টি ফিরে এসেছে। যদিও, দলীয় প্রার্থিতার লড়াইয়ে প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল আবারও প্রমাণ করলো যে সমাজতন্ত্রের লড়াই শুরু করতে হবে একেবারে তৃণমূল থেকেই। উপর থেকে জনগণের উপর এটি চাপিয়ে দেওয়া যায় না। আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ এলাকায় ‘পরিচিত’ সমাজতন্ত্রী/কমিউনিস্ট হতে না পারি, কিংবা স্থানীয় স্কুলের পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত হওয়ার মত আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হই, তাহলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন সমাজতন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া হবে বিশাল বড় অঘটন। নি:সন্দেহে এ পরিবর্তনের জন্য অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। [১] “পলাশী ও ওয়াটারলু এর যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে— যখন ব্রিটিশ পুঁজিবাদ তার বিকাশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছিলো— আনুমানিক ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি পাউন্ড ভারত থেকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” উইলিয়াম ডিগবি, “প্রসপারাস” ব্রিটিশ ইন্ডিয়া (১৯১১); উদ্ধৃতি দ্য পলিটিকাল ইকনোমিক অব গ্রোথ, পল ব্যারন (১৯৫৭), পৃষ্ঠা. ১৪৫। পলাশীতে, যা বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের অংশ, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লর্ডক্লাইভের বাহিনীর কাছে পরাজিত হওয়ার মধ্য দিয়েই ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশ শুরু হয় যা ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। [২] সকল মানুষের প্রায় একই পরিমাণের পুষ্টিমান প্রয়োজন নেই এমন দাবির পক্ষে নৈতিকভাবে অবস্থান করা সম্ভব না। একটি আদর্শ জীবিকার অর্থ হচ্ছে তা দিয়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা তার উপর। এটি অর্জনে, বর্তমান অভ্যাসে পরিবর্তন আবশ্যক। [৩] এই তাত্ত্বিক নির্মাণটি জরুরি ছিল যখন ‘স্বাধীনতা’র জন্য প্রোপাগান্ডা জারি রাখতে হয়েছিল যদিও পুঁজিবাদী সমাজে স্বাধীনতা কখনোই ছিলো না বা কোনোদিন সম্ভবও না। [৪] কার্ল মার্কস, পুঁজি, ৩য় খণ্ড [৫] মার্কস কখনো অর্থনীতির রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেননি; তিনি বলেছিলেন ‘সামাজিক নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘যৌথ নিয়ন্ত্রণ’ এর কথা যেগুলো একদমই আলাদা ধারণা। (এই লেখাটার বেশির ভাগ ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জাহেদুর রহমান; তবে ব্যক্ত মতামতের জন্য একমাত্র লেখকই দায়ী।)ড. সিদ্দীক, ওয়াশিংটন ডি সি থেকে লেখেন।