রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ হবে ‘ধ্বংসাত্মক ও আত্মঘাতী’

Posted: 28 জুন, 2020

একতা প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগে বিভিন্ন মহলের বৈঠক ও তৎপরতায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। ২৪ জুন রাতে সংগঠনের এক জরুরি সভায় এ ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানানো হয়। স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে এক অনলাইন সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সাইফুজ্জামান বাদশা, চৌধুরী আশিকুল আলম, রাজেকুজ্জামান রতন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, কামরুল আহসান, শামিম আরা, পুলক রঞ্জনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠক থেকে এ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের অপচেষ্টা বাদ দিয়ে সেগুলোকে পূর্ণোদ্যমে চালু এবং পাট শিল্প আধুনিকায়নেরও দাবি তোলা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় পাটকলসমুহ বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক এবং পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাট বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যের প্রতীক। শুধু পাটকল শ্রমিক নয় পাট চাষি, পাট ব্যবসায়ী এবং পাটের সঙ্গে যুক্ত আছে কোটি কোটি মানুষ। হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারিসহ এক বিশাল জনগোষ্ঠী পাট শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের পদক্ষেপ পাট শিল্পের জন্য ধ্বংসাত্মক এবং আত্মঘাতী হবে বলে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে দেশের চাহিদা পূরণ করেও যে শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, তা বন্ধ করার পরিণতি যে দেশের জন্য ভাল হয় না সেটা আদমজী বন্ধের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বব্যাপী পাটসহ প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বাড়ছে। বর্তমান কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পরিবেশ বান্ধব এই শিল্পের চাহিদা দেশে এবং বিদেশে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘আমরা স্কপের পক্ষ থেকে পাট শিল্পকে আধুনিক ও লাভজনক করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি এবং সরকারের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছি। ফলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পাট শিল্পকে আধুনিক করা হবে ও নতুন উদ্যমে চালু করা হবে। কিন্তু তা না করে পাটকল বন্ধের পদক্ষেপ শ্রমিক ও দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে,’ বলেন তারা। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, করোনা দুর্যোগের এই সময়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণা বেসরকারি মালিকদেরকে শুধু উৎসাহিত করবে তাই নয়, তাদেরকে বেপরোয়া করে তুলবে। শ্রমিক ছাঁটাই করে সরকারের প্রণোদনা নেয়ার প্রবণতা বাড়বে, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হবে। স্কপ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রীয় পাটকলসমুহ বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্ণোদ্যমে সেগুলো চালু ও পাট শিল্পকে আধুনিক করার জোর দাবি জানান।