বেতন-বোনাস খয়রাতি সাহায্য নয়, শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য: সিপিবি

Posted: 24 মে, 2020

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম গত ২০ তারিখ দেয়া এক বিবৃতিতে গার্মেন্টসহ সব কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পরিপূর্ণ ঈদ বোনাস আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছিলেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যখন সাধারণ ছুটি চলছে, তখন গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কারখানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং শ্রমিকদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অথচ শ্রমিকদের মজুরি ও ঈদ বোনাস নিয়ে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। গার্মেন্টস-মালিকরা একদিকে সরকারের কাছ থেকে ‘প্রণোদনা’সহ নানা সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। গার্মেন্টস-মালিকদের অন্যায্য কার্যক্রমে সরকার সহযোগিতা করে যাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বেতন-বোনাস খয়রাতি সাহায্য নয়, এটা শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। গার্মেন্টস-শ্রমিকদের বেতন কেটে নেয়ার পর ন্যাক্কারজনকভাবে এখন ঈদের বোনাস কেটে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। অনেক গার্মেন্টে এখনও বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। মালিকপক্ষ ও সরকার একজোট হয়ে শ্রমিকদের ওপর যেসব অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভে শামিল হতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই বিক্ষোভ দমন করতে নানা স্থানে পুলিশ নির্যাতন করছে, হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করে শ্রমিকদের দমন করা যাবে না। বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, মালিকপক্ষ ও সরকারের শ্রমিকবিরোধী যে তৎপরতা এবং শ্রমিকদের ওপর যে জুলুম চলছে, তা কোনো বোধসম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না। এসবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ করোনা দুর্যোগের মধ্যে সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই অবিলম্বে বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পূনর্বহাল, আইন ও প্রতিশ্রæতি ভঙ্গকারী মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ, সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, করোনা সংক্রমিত শ্রমিকের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।