মিশরে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত আইনের সংশোধন

Posted: 17 মে, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক : জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী করে নিজের ক্ষমতা বাড়ালেন মিসরের প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসি আইনের সংশোধনীতে অজুহাত হিসেবে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় এই সংশোধনীর প্রয়োজন পড়ে বলে দাবি করেছেন। আইনের সংশোধনীতে প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থায় আনা সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধনীর বিবৃতিতে মিসর সরকার বলছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আইনগত শুন্যতা পূরণের জন্য জরুরি অবস্থায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীতে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া, বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাবলিক ও প্রাইভেট মিটিং, বিক্ষোভ, উদযাপনসহ নানা ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, করোনাভাইরাসের মহামারিকে ব্যবহার করে ক্ষমতা সম্প্রসারণ করতে চাইছে মিসর সরকার। জরুরি অবস্থার সংস্কার তাদের লক্ষ্য নয়। প্রায় দশ কোটি জনসংখ্যার দেশ মিসরে প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫০৪ জনের। আবদেল ফাতাহ আল সিসি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন পরিচালক, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাক্তন জেনারেল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক-কমান্ডার হিসাবে সিসি সামরিক ক্যু’তে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৪ই আগস্ট ২০১৩-এ রাবা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে কয়েকশত বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল এবং হাজার হাজার আহত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৬ এবং ২৮ মে তথা কথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেন সিসি। তারপর দুই দফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আছেন তিনি। নিজেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখতে গত বছর সংবিধানও সংশোধন করেছেন তিনি। মানবাধিকার গ্রুপগুলোর অভিযোগ, সিসির আমলে ভিন্নমতালম্বীদের ওপর দমনপীড়ন জোরালো হয়েছে। কারাগারে ঢোকানো হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে।