গ্রামে গ্রামে আবার আনো বিপ্লবী পুনর্জাগরণ

Posted: 22 মার্চ, 2020

আরিফুল ইসলাম নাদিম : এদেশে কৃষকদের আন্দোলনের ইতিহাস অনেক পুরোনো। এই আন্দোলনগুলোতে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ ছিল গ্রামের ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক তথা ক্ষেতমজুর। ‘তেভাগা আন্দোলনের’ পটভূমিতে লেখা উপন্যাসগুলোতে মহাশ্বেতা দেবী দুঃখ করে উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষেতমজুররা এই আন্দোলনের একটি প্রধান শক্তি হলেও তাঁদের কোনো দাবি সরাসরি এই আন্দোলনে ছিল না। বিশাল এই ক্ষেতমজুরদের বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতি ও সংগ্রামী ভূমিকার কথা সেসময়েই বোঝা গেলেও সংগ্রামী ভূমিকায় তাঁদের জন্য আলাদা সংগঠন গঠন করা ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে সেসময়ের কমিউনিস্ট পার্টিতে ছিল নানা বিতর্ক-আলোচনা। এই দেশের সমাজ কাঠামোর চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়েও ছিল নানা মতভেদ। সমাজের চরিত্র কি ধনতান্ত্রিক, নাকি সামন্ততান্ত্রিক, না আধা সামন্ততান্ত্রিক-এসব নিয়ে ছিল নানা মতভেদ। এই মতভেদ নিয়ে, তুমল তর্ক-বিতর্ক চলেছিল আশির দশকের আগ পর্যন্ত। ক্ষেতমজুরদের সংগঠন আলাদা করার বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তি ছিল এই যে, ক্ষেতমজুরদের পৃথক সংগঠন করা হলে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যে যে সংঘাত সৃষ্টি হবে তা গ্রামাঞ্চলের ঐক্য বিনষ্ট করবে, এবং তাতে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর্যায়ের মূল লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিবেচনায় তখন ক্ষেতমজুরদের জন্য আলাদা সংগঠন করার চিন্তা পরিহার করা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামাঞ্চলের এই বিশাল সংখ্যক ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের পৃথকভাবে সংগঠিত করার ইস্যুটি আর এড়িয়ে যাওয়া যায়নি। ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসে ক্ষেতমজুরদের জন্য আলাদা সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই ভিত্তিতে পৃথকভাবে ক্ষেতমজুরদের সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হয়। ১৯৮০ সালের আগস্ট মাসে সেজন্য সদ্য কারামুক্ত কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই উদ্দেশ্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নুরুর রহমান, কাজী আকরাম হোসেন প্রমুখকে নিয়ে পার্টির একটি ‘টিম’ কাজ শুরু করে। পার্টির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারীণ দত্ত, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদও এই টিমের সাথে যুক্ত থাকেন। এছাড়াও নূরুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম বাবলা, জেয়াদ আল মালুম, মাহবুব প্রমুখ এই ‘টিমের’ সরাসরি কাজে যুক্ত হন। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের চর গজারিয়া, জামালপুরের নুরুন্দি, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনসহ দেশের কয়েকটি স্থানে খাসজমি কেন্দ্রিক আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলনগুলো সংঘর্ষের রূপ নিতে থাকে। অনেকে শহীদ হন। কোনো সংগঠিত উদ্যোগ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনগুলো শুরু হয়। ‘পার্টি টিমের’ পক্ষ থেকে সংগ্রামরত ক্ষেতমজুরদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং এসব সংগ্রামকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। ক্ষেতমজুর সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার আগে, এ উদ্দেশ্যে গঠিত ‘পার্টি টিম’ কৃষক সমিতির সাথে যুক্ত হয়ে গ্রামে গ্রামে যোগাযোগের কাজ চালায়। শত শত গ্রামে ক্ষেতমজুরদের নিয়ে অসংখ্য বৈঠক করে। ক্ষেতমজুরদের সাথে আলোচনা করে তাদের প্রকৃত অবস্থা ও তাদের দাবি ও কর্মপন্থা ঠিক করার কাজ এগিয়ে চলে। বছরখানেক ধরে এসব প্রস্তুতিমূলক কাজকর্ম চলতে থাকে। গ্রামের বৈঠকগুলো থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে ক্ষেতমজুরদের আন্দোলন ও সংগঠন সম্পর্কে ‘পার্টি টিম’ তার বিশ্লেষণ ও সুপারিশমালা হাজির করে। সেই আলোকে পার্টির অনুমোদন নিয়ে ক্ষেতমজুরদের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠনসহ জোরেসোরে যাবতীয় প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়ে যায়। সারা দেশে গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যে তৈরি হওয়া যোগাযোগগুলোকে সাংগঠনিক রূপ দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও জেলায় সংগঠনের কাজ বিশেষভাবে জোরদার হয়ে ওঠে। ক্ষেতমজুরদের প্রস্তাবিত সংগঠনের দাবিনামা, ঘোষণা-কর্মসূচি, গঠনতন্ত্র ইত্যাদির খসড়া প্রস্তুত করে সকলের মতামতের জন্য দ্রুত সারা দেশে পৌঁছে দেয়া হয়। ১৮ মার্চ ১৯৮১ (৪ চৈত্র ১৩৮৭ বঙ্গাব্দ) ‘ঢাকা জেলা ক্রীড়া সমিতি মিলনায়তনে’ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ক্ষেতমজুর সমিতি। হাজারের অধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে, যাদের প্রায় ৮০/৯০ শতাংশ ছিল পেশাগতভাবে ক্ষেতমজুর, অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সংগঠনের ঘোষণাপত্র-কর্মসূচি অনুমোদন এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন। সিপিবি, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণ আজাদী লীগ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা করে তাদেরকে ক্ষেতমজুরদের এই নতুন সংগঠনে সামিল থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধি রাখার জন্যও তাদেরকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ‘ক্ষেতমজুর সমিতির’ প্রতিষ্ঠাকে তারা অভিনন্দিত করলেও একমাত্র সিপিবি ও ন্যাপ ব্যাতিত আর কোনো দল কেন্দ্রীয় কমিটিতে দলের কাউকে রাখতে রাজি হয়নি। তবে এসব দলের নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রেখেছিলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের উদ্বোধনীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন শেরপুরের একজন প্রবীণ ক্ষেতমজুর মো. মছদ আলী ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সম্মেলনে শুভেচ্ছা ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আব্দুস সালাম, জাতীয় কৃষক লীগের হাসানুল হক ইনু, জাতীয় কৃষক সমিতির আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষক লীগের অধ্যাপক আবু সাঈদ, বাংলাদেশ কৃষক মুক্তি সমিতির রাশেদ খান মেনন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চৌধুরী হারুনুর রশীদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোশারফ হোসেন, প্রবীণ সাহিত্যিক আবু জাফর সামসুদ্দিন প্রমুখ। সম্মেলন শেষে একটি র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। সম্মেলনে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক ও কাজী আকরাম হোসেন, অ্যাডভোকেট হাসান আলী, নুরুল ইসলাম, খায়রুল আলম, মাহবুবুল আলম, সামসুল ইসলাম বাবলাকে সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ‘ক্ষেতমজুর সমিতি’ গঠিত হওয়ার পরপরই সংগঠনের আন্দোলন ও সংগঠন সারা দেশে আগুনের লেলিহান শিখার মত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই বিস্তৃতি এত বিশাল ছিল যে দেশের অজপাড়াগাঁয়ে বা গ-গ্রামগুলিতেও সংগঠন গড়ে উঠতে শুরু করে। চারিদিকে খাসজমির আন্দোলন বিস্তৃত হতে থাকে। একইসাথে জোরদার হয় প্রজেক্টের গম চুরির বিরুদ্ধে আন্দোলন। ক্ষেতমজুরদের উত্তাল আন্দোলনের জোয়ারের মুখে গ্রামের শোষক-টাউট-বাটপারদের ভেতর ত্রাস সৃষ্টি হয়। সারা বছর কাজের দাবি, ন্যায্য মজুরির দাবি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের দাবিসহ অন্যান্য দাবিও আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। খাসজমির আন্দোলনের সমান্তরালে সমবায় গঠনের চেষ্টাও চলতে থাকে। ‘ক্ষেতমজুর সমিতির’ অভিনব বিকাশের গতি অনেক গবেষকদের গ্রাম ও দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে আগ্রহী করে তোলে। বিপ্লবী ধারায় দেশ পরিচালনার জন্য মানুষকে সংগঠিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তিরা ছাড়াও মানবতাবাদী ব্যক্তিরাও ক্ষেতমজুর সমিতিতে যুক্ত হতে থাকেন। সংগঠনের বিকাশের সাথে সাথে সংঘাত-সংঘর্ষ তীব্র হতে থাকে। জেলজুলুম বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই ৫ হাজারেরও বেশি গ্রামে ক্ষেতমজুর সমিতির রেজিস্ট্রিকৃত গ্রাম কমিটি গঠিত হয়। ‘সদস্য কার্ড’ নিয়ে ৫ লক্ষ ক্ষেতমজুর সংগঠনে যুক্ত হন। ক্রমান্বয়ে আরো কয়েক লক্ষ ক্ষেতমজুর আন্দোলনে যুক্ত হন। এ সময়ে স্বৈরশাসক এরশাদের সামরিক শাসন জারি হলেও তা ক্ষেতমজুর সমিতির আন্দোলনের গতিকে রোধ করতে পারেনি। ভূমি সংস্কার সংক্রান্ত সামরিক সরকারের প্রশ্নমালাকে কাজে লাগিয়ে সামরিক শাসনের মধ্যেই ক্ষেতমজুর সমিতি বিকশিত হতে থাকে। একে একে আদায় করে নিতে থাকে খাসজমির অধিকার, কৃষি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নীতিমালা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দসহ নিজেদের অধিকারসমূহ। নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকারের রাজনৈতিক দাবিতেও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মানুষকে নিয়ে আন্দোলনের সামনের কাতারে থেকে শরিক হয় ক্ষেতমজুর সমিতি। সে সময় ক্ষেতমজুর সমিতির “গম চোর-ভোট চোর-ঘুষখোর হুঁশিয়ার” পোস্টারটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদ হন ফজর আলী (পিরোজপুর), জয়নাল আবেদীন (সিরাজগঞ্জ), নিরঞ্জন টুকুল (কুড়িগ্রাম), জয়নাল, সৈয়দ আমিনুল হুদা টিটো (কিশোরগঞ্জ), লখাই হাওলাদার (গাজীপুর)সহ অনেকে। ক্ষেতমজুর সমিতির বিকাশ গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনগুলোতে ক্ষেতমজুর সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে থাকে। আন্দোলনের নেতাদের অনেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদসহ এসব নির্বাচনে জয়লাভ করতেও সক্ষম হন। শহীদদের রক্তে গড়ে উঠা সংগঠনের বিপ্লবী চরিত্র বিনষ্ট করতে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সংগঠনের বিপ্লবী তেজকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা নিলেও তাতে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে ব্যর্থ হয়। তবে একটি অংশ সংগঠন থেকে বেরিয়ে ‘বাওপা’ নামে এনজিও হিসেবে রূপান্তরিত হয়। সকল ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার ভেতরেও ক্ষেতমজুর সমিতি তার আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজও স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। ১৯৮১ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি এবছর তার ৩৯ বছর পূর্ণ করছে। গ্রামীণ শ্রমজীবী, বঞ্চিত, শোষিত মানুষের কাছে আজও আস্থা ও ভরসার প্রতীক ক্ষেতমজুর সমিতি। ক্ষেতমজুর সমিতি সম্প্রতি তার ১০ম জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করেছে। সম্মেলনে হাজার হাজার ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরের কণ্ঠে তাদের দাবি উচ্চারিত হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত যোগদানকারীদের জনস্রোত ৮০’র দশকের ক্ষেতমজুর আন্দোলনের বিকাশের কথা মনে করিয়ে দেয়। একথা ঠিক যে, ৮০-র দশকের তুলনায় বর্তমানে গ্রামীণ জীবনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু গ্রামীণ মজুররা তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। ৮০’র দশকের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আদায় করা অধিকারও তাদের থেকে নানা কায়দায় কেড়ে নেয়া হচ্ছে। আজও গরিব মেহনতিদের জন্য বরাদ্দ থাকা নানা প্রজেক্টের অর্থ ‘বরাদ্দ লুটপাটকারীরা’ লুটে নিচ্ছে, খাসজমি আজও ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত না দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমি দস্যুদের দখলে, ন্যূনতম মজুরি, সারা বছর কাজ নিশ্চিত হয়নি, উন্নয়নের নামে ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। লুটপাটতন্ত্র ও ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের দুঃশাসন দেশের ওপর চেপে বসেছে। ক্ষেতমজুর সমিতির ১০ম সম্মেলনের জনস্রোত ইঙ্গিত দিচ্ছে আবারও গ্রাম জেগে উঠছে। গ্রামের মেহনতি মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তাদের অধিকারের প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। গ্রামীণ বরাদ্দ লুট বন্ধ করতে হলে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি এই বরাদ্দ বিতরণের দায়িত্ব ক্ষেতমজুর ও মেহনতি কৃষকসহ গরিব গ্রামবাসীর স্বার্থরক্ষাকারী শক্তিকে নিয়ে নিতে হবে। আর সেজন্য স্থানীয় সরকার তথা উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতি সংস্থার মেম্বর চেয়ারম্যান পদে নিজেদের লোক নির্বাচিত করতে হবে। একইসাথে, যেখান থেকে এই বরাদ্দ প্রদান করা হয় সেই জাতীয় সংসদ ও সরকার গরিব মেহনতি মানুষের দখলে আনতে হবে। সেজন্য দুর্বার সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। ছিনিয়ে নেয়া ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গ্রামে গ্রামে দূর্গ গড়ে তুলতে হবে। লুটেরা শোষকদের হাত থেকে আমাদের স্থায়ী মুক্তি চাই! এই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আজ কত প্রবল ক্ষেতমজুর সমিতির ১০ম জাতীয় সম্মেলনের জনস্রোত তার প্রমাণ। মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এই জনস্রোতকে সাথে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়া এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ক্ষেতমজুর সমিতি