মাস্কও বানাচ্ছে যুব ইউনিয়ন

Posted: 22 মার্চ, 2020

একতা প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হওয়ার আহবানে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীসহ দেশবাসীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বানানো শুরু করেছে। স্বেচ্ছাশ্রমে গত ২০ মার্চ সকাল ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অস্থায়ী ল্যাবে স্থাপন করে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম জানান, ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রামে একই সময়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায়ও এই কার্যক্রম চলবে। যুব ইউনিয়ন ১০ লক্ষ মানুষের কাছে এই হ্যান্ড স্যানিটেজার ও মাস্ক পৌছে দেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। উদ্বোধনের দিন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুজ্জামান ননী, যুব ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, যুব ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, সাবেক সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য তারিখ হোসেন মিঠুল, সংগঠনের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শিশির চক্রবর্তী, ত্রিদিব সাহা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক হাবীব ইমন, শরিফ-উল আনোয়ার সজ্জন, ক্রীড়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজিম, সদস্য গোলাম রাব্বী খান উপস্থিত ছিলেন। এসময় কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সংকট থেকে বাঁচতে হলে সামাজিকভাবে সবাইকে নিয়েই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে আইসিইউসহ চিকিৎসা-সামগ্রীর অপর্যাপ্ততা রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সকলের সতর্কতা যেমন জরুরি, তেমনি সরকারে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, মহাবিপজ্জনক করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নিষ্কৃহতায় ও দায়িত্বহীন বক্তব্য কাক্সিক্ষত নয়। সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের বিপর্যয় তৈরি করেছে তা থেকে আমাদের সরকার কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। করোনা বিপর্যয় রোধে দীর্ঘদিন সময় পেলেও তা হেলায় নষ্ট করেছে। আজ তারা প্রস্তুতিবিহীন। সরকারের মন্ত্রীদের দিক থেকে নানা ধরনের অসত্য ও অসংলগ্ন বক্তব্য জনগণের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। একজন উপমন্ত্রী তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুরে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী যেহেতু নামাজি সেহেতু করোনাভাইরাস আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারনে না। এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবেলার পরিবর্তে অপ্রস্তুত ও অসর্তক করবে। যার পরিনাম হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যে কাজ শুরু করেছে তা আরো ব্যাপক হারে অন্যদেরকেও করতে হবে। সরকারি দলের ছাত্র-যুব সংগঠন কী করছে? তারা এখনও ফ্যাসিবাদ, লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত।