বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে শ্রমিক ইউনিয়ন ভারতজুড়ে ধর্মঘট

Posted: 12 জানুয়ারী, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক : সিএএ, এনআরসি, এনপিআর’সহ একাধিক ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বামপন্থি সংগঠনগুলির ডাকা একদিনের ধর্মঘটের প্রভাব পড়লো গোটা ভারতে। একই সাথে ধর্মঘট ডেকেছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও। বেসরকারিকরণ ও প্রবৃদ্ধির শ্লথগতিতে বেকারত্ব বাড়ছে এমন অভিযোগকে সামনে রেখে ভারতজুড়ে ধর্মঘট করছে দেশটির লাখো শ্রমিক। ধর্মঘটে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং সেবা বিঘিœত হয়েছে। বামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসঘনিষ্ঠ ট্রেড ইউনিয়নও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রম সংস্কার নীতির বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে। মোদী সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার নীতিতে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবাহী সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ও তেল কোম্পানি বিপিসিএল’কে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি বেশকিছু সরকারি ব্যাংককে একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ঘাটতি, পেট্রো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দেশীয় ব্যাংকগুলিকে একত্রিত করার পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া, বিপিসিএল ও ভারতীয় রেলের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন বহু কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা। শ্রমিকদের এ ধর্মঘটে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিবঙ্গের কলকাতায় ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে; বেশ কিছু শহরের দোকানপাট ও ব্যাংক বন্ধ ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালাসহ একাধিক রাজ্যে বাস, টেক্সি ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকলেও রাজধানী দিল্লি ও ব্যবসায়িক রাজধানী খ্যাত মুম্বাইয়ে ধর্মঘটের তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। ধর্মঘটের বিষয়ে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সি এইচ ভেঙ্কটাচালাম বলেছেন, সরকার ১০টি ব্যাংককে একীভূত করে চারটিতে নামিয়ে আনার যে প্রস্তাব করেছে তাতে অনেকেই চাকরি হারাবেন। ব্যাংকগুলো থেকে মন্দ ঋণ পুনরুদ্ধারের হার কমবে, এর ফলে সরকারের অন্তত ১৪ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হবে বলেও আশঙ্কা তার। “মোদী সরকারের নীতি অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দা নিয়ে এসেছে এবং ব্যাংকগুলোতে মন্দ ঋণের হার বাড়িয়েছে,” শ্রমিকদের বেতনভাতা বাড়ানোর মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ে চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলেও পরামর্শ দিয়েছেন এ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা। ধর্মঘটে অংশ নিলে শ্রমিকদের বেতন কাটাসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল মোদী সরকার। দশটি ট্রেড ইউনিয়নের একযোগে ডাকা এই ধর্মঘটে মূলত স্তব্ধ হয়ে যায় রাজ্যগুলো। শামিল হয় ২৫ কোটির বেশি শ্রমজীবী মানুষ। অন্তত পনেরটি রাজ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। ১৭৫টি কৃষক, খেতমজুর সংগঠন মিলে তাঁদের নিজস্ব দাবিতে গ্রামাঞ্চলগুলোতেও ধর্মঘট পালন করে। ছাত্রদের ৬০টি সংগঠন ছাড়াও, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অংশ নেয় ধর্মঘটের সমর্থনে ছাত্র ধর্মঘটে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চলে ধর্মঘট। এছাড়া বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো সারা ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট সফলে করে। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অথনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগে ঘাটতি এবং পণ্য ক্রয়ে চাহিদা কমতে থাকায় এ বছর দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, এ হার গত ১১ বছরের মধ্যে হবে সর্বনিম্ন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটারে মোদী সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সরকারের ভুল পদক্ষেপ ‘মারাত্মক বেকারত্ব’ সৃষ্টি ও রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের লাখো শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন; ঋণগ্রস্ত কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশটিতে গেল ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছে যায় বলে মুম্বাইভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির দেয়া তথ্যে দেখা গেছে। ২০১৯ এর শুরুতেও এ হার ছিল ৭ শতাংশ।