জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের বিক্ষোভ [ ছবি: রতন কুমার দাস ]একতা প্রতিবেদক :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘অমৎববসবহঃ ড়হ জবপরঢ়ৎড়পধষ ঞৎধফব (অজঞ)’ নামক বাণিজ্যচুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে চুক্তি বাতিল না করলে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী প্রদান করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নেতারা।
এ দাবিতে গত ১৭ মে বিকেল ৪:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমাবেশ ও মিছিল থেকে সরকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানানো হয়, এই চুক্তি বাতিল না হলে তীব্র গণআন্দোলন অনিবার্য।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও জোটের শীর্ষ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মাসুদ রানা, নাসিরুদ্দিন আহমেদ নাসু ও ডা. মুশতাক হোসেন বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখতিয়ার কেবল রুটিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সীমা লঙ্ঘন করে দেশবাসীকে না জানিয়ে এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যার মেয়াদ আগামী ১৫ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই চুক্তিটি মোট ১৭৭ পৃষ্ঠার, কিন্তু মার্কিন পক্ষ মাত্র ৩২ পৃষ্ঠা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। আর বাংলাদেশ সরকারতো দেশবাসীকে জানানোর প্রয়োজনই বোধ করছে না। সেই ৩২ পৃষ্ঠার মধ্যেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অসংখ্য অসম শর্ত প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১৪৫ পৃষ্ঠায় কী লেখা আছে তা বাংলাদেশের জনগণ তো দূরের কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও প্রকাশ করেনি। এই গোপনীয়তা একটি বিপজ্জনক সংকেত।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে চুক্তির বিভিন্ন ক্ষতিকর শর্ত তুলে ধরেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে এই চুক্তি সংসদে আলোচনায় তুলতে চাইলে স্পিকার তা ‘বিধিবহির্ভূত’ বলে আটকে দিয়েছেন। কোন বিধির আওতায় জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী একটি চুক্তির আলোচনা বন্ধ রাখা যায়? আসন্ন সংসদ অধিবেশনেও যদি জামায়াতের পক্ষ থেকে এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে জনগণ বুঝবে তারা মিথ্যাচার করছে। সাম্রাজ্যাবাদী আমেরিকার সাথে আঁতাত করেই তাঁরা চলছে। বিএনপি সরকার খলিলুর রহমানকে পুরস্কৃত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। আর বলছে চুক্তিতে তাদের ‘সম্মতি’ ছিল। তাহলে এই সরকার কি জনগণের সরকার, নাকি মার্কিন স্বার্থের সরকার?
বক্তারা বলেন, মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে একই ধরনের চুক্তি ‘বাতিল ও অকার্যকর’ ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট চুক্তির অনুসমর্থন স্থগিত রেখেছে। ভারত আলোচনা স্থগিত করেছে। প্রশ্ন একটাই-মালয়েশিয়া পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারী প্রদান করেন।