মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মিছিল একতা প্রতিবেদক :
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গার্মেন্ট শ্রমিকরা অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। ফলে এই শিল্পের শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভুত হচ্ছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু না হয়, তাহলে তা বিক্ষোভে পরিণত হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
মহান মে দিবস উদযাপনে গত ১ মে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভে গার্মেন্ট শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ এবং শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার এবং মালিকপক্ষকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকরা রেশনের দাবি তুললে সরকার অর্থ নেই এই অজুহাতে তাদের রেশন থেকে বঞ্চিত রাখছে। অথচ সরকার মার্কিনিদের সাথে ইউনুস সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মোতাবেক আমেরিকার কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকার বোয়িং বিমান ক্রয় করেছে।
তিনি তালবাহানা বন্ধ করে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
রাজধানীর কমরেড মণি সিংহ সড়কে ট্রাকমঞ্চে অনুষ্ঠিত এই শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি জলি তালুকদার, জিয়াউল কবীর খোকন, গার্মেন্ট টিইউসির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আজিজুল ইসলাম, রিফাত হাবিব, শেখ রাসেল, সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির নেতা আওলাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, তাওলাত প্রমুখ।
সমাবেশে মন্টু ঘোষ বলেন, দ্রব্যমূল্যের কথা বিবেচনায় অবিলম্বে কারখানা ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একইসাথে বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, যে সমস্ত বন্ধ কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের বকেয়া প্রদান করেনি এবং যারা চুক্তি করেও শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছে না, তাদের বকেয়া পরিশোধে বাধ্য করতে হবে। শ্রমিকের পাওনা আদায়ে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা নিজেদের পাওনা আদায়ে বিক্ষুদ্ধ হলে এর দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
সমাবেশে মন্টু ঘোষ মালিকদের স্বার্থ ও মতামতের ভিত্তিতে শ্রম আইন সংশোধন না করে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশনামার আলোকে শ্রম আইন সংশোধন করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল লাল পতাকার মিছিল পল্টন মোড়-প্রেসক্লাব-কদমফুল ফোঁয়ারাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কেন্দ্রীয় শ্রমিক সমাবেশ ছাড়াও মহান মে দিবস উদযাপনে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, আশুলিয়া, কাঁচপুরসহ ১৩টি গার্মেন্ট শিল্প এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।