বড় ফাঁপা বাজেট : জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বৈষম্য বাড়বে

সিপিবির বাজেট প্রতিক্রিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থবিল ২০২৬ (জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭)-এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রায় ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে গণবিরোধী চরিত্রের উল্লেখ করে তা স্বাগত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। গত ১১ জুন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনেক বড় অংকের কিন্তু একইসাথে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসার বা ফাঁকা বলে প্রতিভাত হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন আশাবাদ প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। এই বাজেট বৈষম্য বৃদ্ধি করবে। নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ করার জন্য বরাদ্দ আছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ এই বিশাল অংকের বাজেটে ঘাটতি মেটানোর জন্য নতুন করে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একদিকে নতুন ঋণ নির্ভর বড় অংকের বাজেট অন্য দিকে সুদ পরিশোধ করাই অন্যতম প্রধান ব্যয়ের খাত হওয়া প্রস্তাবিত বাজেটের অসারতা প্রমাণ করে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো দিক নির্দেশনা নেই। প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জিত হবে, সরকারের ওপর এমন আস্থাও রাখা যাচ্ছে না। উপরন্তু বড় টাকার অংক দিয়ে অর্থনীতির বাস্তব দুরবস্থা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরানো হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০১০-১১ সালে বাজেট ছিল ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১৬.৯ শতাংশ। এবার ২০২৬-২৭ সালে ৮ গুণ বৃদ্ধি করে বাজেটের আকার ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হলেও তা জিডিপির মাত্র প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের টাকার অঙ্ক ৮ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি; বরং ১৫ বছর আগের তুলনায় কম। নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপনা দেখে মনে হয় সরকার মূল্যস্ফীতির ভয়াবহ অবস্থাসহ এই সকল দুর্বলতা দেশের মানুষের কাছে লুকাতে চায়। সিপিবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আরো বলা হয়, আইএমএফ এর শৃঙ্খলে আটকে থাকা সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে করের জাল বিস্তৃত করার যে নীতি গ্রহণ করেছে সেই নীতিতে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও ক্ষেতমজুর, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত, চাকুরীজীবী, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অন্যদিকে শুধুমাত্র অল্পকিছু বড় ব্যবসায়ী, ব্যাংক মালিক ও আমদানিকারক গোষ্ঠী লাভবান হবে। যা বৈষম্য তীব্র করবে। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আরো বলা হয়, ৩ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন ব্যয়ের কত অংশ উৎপাদনশীল খাতে আর কত অংশ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও সরকারের বাস্তবায়ন দক্ষতার বিষয়ে সংশয় আছে। সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পর সিপিবির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমে বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..