পরিবেশ বিপর্যয়, রোগের বিস্তার ও ইতিহাসের শিক্ষা

মুরশেদুল হাকিম শুভ্র

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
২৬ আগস্ট ২০২৬ নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পর্বতের হিমবাহ, পাহাড় ধস এবং মহাপ্লাবনে সহস্রাধিক প্রাণ সংহারে বিশ্ববাসী নতুন করে শিক্ষা নিতে পারে। ভয়াবহতার দিক থেকে কেউ কেউ হিরোশিমা নাগাসাকির পারমাণবিক বোমার বিপর্যয়ের সঙ্গেও তুলনা করছেন। সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা নতুন কিছু নয়। তবে আর কতো শিক্ষা নিয়ে মানুষ শিক্ষিত হবে, সে প্রশ্ন থেকেই গেলো। কেননা বিজ্ঞানীরা বহুভাবেই প্রমাণ করে সফল হয়েছেন যে, প্রায় সকল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্তর্নিহিত অন্যতম কারণই হচ্ছে মানুষের স্থুল ভাবনা ও যথেচ্ছা কর্মযজ্ঞ। মানুষ তার অভ্যাস ও আচরণ, গোষ্ঠীগত, আঞ্চলিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়গত, রক্ষণশীলতা, জাতিগত, শ্রেণিস্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও ভোগবাদিতা, মতাদর্শ, ক্ষমতা ও প্রভাব বলয় সৃষ্টি, প্রতিহিংসামূলক, ইত্যাদি নানা ধরনের স্বার্থের বশবর্তী হয়ে যথেচ্ছা কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছে। মানুষ তার স্থুল ভাবনা পরিত্যাগ করতে পারছে না। নিজস্ব স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারছে না। মানুষের এইসব কর্মযজ্ঞের প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পড়ছে প্রকৃতির উপর। প্রকৃতি সম্ভবত মানুষের এসব আচরণ সহ্য করতে পারছেনা। প্রকৃতির ওপর বিরূপ আচরণে প্রকৃতিও প্রতিহিংসাপরায়ণ হতে বাধ্য হয়। নেপালে প্রকৃতির এই ভয়াবহ বিপর্যয় আবারো তা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণিত হলো। বাংলাদেশের মানুষও প্রায় প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কারণে আমদের কৃষিজমি, ঘর-বাড়ি, মৎস্য সম্পদসহ যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লবণাক্ততা ও অন্যান্য কারণে দেশের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস, রেমাল-এর মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও নিরাপত্তা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জার্মানভিত্তিক সংস্থা Germanwatch-এ প্রকাশিত সূচকে ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চরম উগ্র আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে ৯,৭০০ চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সংগঠিত হয় এবং ৮,৩২,০০০ প্রাণ সংহারের ঘটনা ঘটে। আর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয় ৪.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। জলবায়ু পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক গবেষকগণ প্রধানত: ৮ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে- উপকূলীয় প্লাবন, চরম তাপদাহ, চরম বাতাস, বন্যা, বনে দাবানল, জল জমে যাওয়া ও গলে যাওয়া, ভূ-অবক্ষেপণ এবং ঘূর্ণিঝড়। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে বহুদিন আগে থেকেই। প্রায় সকল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায়ই বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে চরম ঝুঁকিপুর্ণ দেশ হিসেবে। Global Climate Risk ২০২৬ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে ১৩তম অবস্থানে বাংলাদেশ। এর আগে এই অবস্থান সুচক ছিলো ২১তম। Intergovernmental Panel on Climate Change-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে ক্রমাগত”। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রভাব দেশজুড়েই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। Scientific Report (২০২৪) অনুযায়ী দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ লবণাক্ততার প্রভাবে আক্রান্ত। আর Bangladesh Soil Resources Developments Institute (SRDI) এর তথ্য অনুযায়ী ১০.৫৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততার প্রভাবে আক্রান্ত। BBS, ২০২২ এর তথ্য অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে আমাদের দেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, তা বোধহয় গবেষকগণের সূচক দিয়ে প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, তীব্র খরা, জলাবদ্ধতা, ভূমি ক্ষয়, পাহাড় ধস, ইত্যাদি নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিনিয়তই মোকাবিলা করে আসছে। মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্রমান্বয়ে নিরাপদহীন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশগত ভারসাম্য। এর ফলে কৃষি আবাদি জমি, বসত ভিটা, বিশুদ্ধ খাবার পানির উৎস, মৎস্য সম্পদ এবং ঘর-বাড়িসহ স্থানীয় অবকাঠামো ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবন ধারণের অন্যতম উপাদান নিরাপদ পানির প্রাপ্যতাও সংকুচিত হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয়ের কারণে অসংখ্য পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। দেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ও স্থানচ্যুতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের এই স্থানচ্যুতির ফলে চলমান জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা ব্যহত হচ্ছে। মানুষ শোষণ নির্যাতনের শিকার হয়ে সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারী ও শিশু কিশোর কিশোরীদের জীবনে নেমে আসছে এক চরম দুর্বিসহ জীবন। এদের শিক্ষা কার্যক্রম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।ব্যপকহারে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অস্থায়ী বাসস্থানে, তাবু টানিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা জায়গায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানসিকভাবেও সুষ্ঠু জীবনযাপন করতে পারছে না বাস্তহারা মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রবল আকারে ধারণ করছে। শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর। ইউনিসেফ (UNICEF, ২০১৮) এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে এবং দেশের এক তৃতীয়াংশ জেলা উচ্চ ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত। আমাদের মতো কৃষিনির্ভর দেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষি চাষ, মৎস্য চাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরির মতো জলবায়ু সংবেদনশীল জীবিকার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের এই পরিস্থিতি সম্ভবত: অনেকেরই জানা থাকার কথা। জলবায়ূ পরিবর্তনে আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে জলবায়ু অভিযোজন ও সুষ্ঠু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা বেশ কয়েক বছর ধরেই চিন্তা করে আসছে। এসব চিন্তার মৌল লক্ষ্য হচ্ছে; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, কৌশল, নারীর ক্ষমতায়ন, ইত্যাদি। এসব চিন্তাকে সামনে রেখেই বিভিন্ন প্রকল্প গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে; জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, নারী উন্নয়ন নীতিমালা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, National Adaptation Plan, National Determined Contributions, Mujib Climate Prosperity plan ২০২৩, Climate Change and Gender Action Plan, Child Protection Policy উল্লেখ্যোগ্য। তবে জলবায়ু সহনশীলতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিশু সুরক্ষা, নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় শাসনব্যবস্থাকে সংযুক্ত করে “সমন্বিত উদ্যোগ” লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রেও আমাদের স্থুল ভাবনা ও স্ব-স্বার্থের বেড়াজাল আটকে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আমাদের সমন্বিত ও বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এই মুহূর্তের জন্য জরুরি হলো—১। বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” প্রকল্প ঘোষণা এর মধ্যে অন্যতম। ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অধীনস্থ করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপাঞ্চলসহ দেশব্যাপী সরাসরি ও পরোক্ষভাবে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে হবে। বিজ্ঞানের আধুনিকতা ও বাস্তবসম্মত উপায়ে অত্যন্ত সৃজনশীলতার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। উপকূলীয় সহনশীল বৃক্ষরোপণ কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং Geographic Information System (GIS) ও Remote Sensing ভিত্তিক একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে হবে। এচঝ ভিত্তিক প্রতিটি গাছ ট্র্যাকিং, বৃদ্ধি, বেঁচে থাকার হার, রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা নিরূপন, স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ, Web Dashboard এবং Mobile App-এর মাধ্যমে রিয়েল টাইম মনিটরিং চালু করা গেলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সহনশীল বনায়ন প্রকল্পে এওঝ ভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিং এখন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২। পরিবেশবান্ধব ও নিম্ন কার্বন প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং নিম্ন-কার্বন নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করতে হবে। ৩। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। এই অবকাঠামো হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বহু ব্যবহার উপযোগী (multipurpose) জলবায়ু সহনশীল সেন্টার (climate resilient center)। স্বাভাবিক সময়ে এই সেন্টারগুলো প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি কার্যক্রম ও শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। এই সেন্টারগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও শিশুবান্ধব সুবিধাসহ সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। ৪। নারী ও পুরুষদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। ৫। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানি পরিশোধনের প্রযুক্তি ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ৬। লবণাক্ততা সহনশীল ফসল, পানি দক্ষ কৃষি প্রযুক্তি, জৈব সার, মৎস্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম প্রবর্তনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আয়ের বৈচিত্রতা নিশ্চিত করতে হবে। ৭। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপদ শিক্ষা সহায়তা এবং দুর্যোগকালীন শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশু ঝুঁকি হ্রাস করতে হবে। ৮। নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে। ৯। দুর্যোগকালীন সময়ে সতর্কবার্তা, উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ১০। এছাড়াও জনসচেতনামূলক কর্মসূচি হিসেবে ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি চালাতে হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষ মানবসম্পদ, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, শক্তিশালী বহুমুখী অবকাঠামো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সহনশীল স্থানীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে। এর ফলে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, স্থুল ভাবনা, স্ব-স্বার্থ দূরীভূত হতে সহায়তা করবে। জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্য ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। লেখক: রাজনীতিক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..