
একতা প্রতিবেদক :
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন।
তিনি বলেন, চরমভাবে অবহেলিত, নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত আদিবাসীরা ভূমি ভিটা থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সীমিত আয়ে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
তাই অবিলম্বে আদিবাসীদের অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সমতলের আদিবাসীদের জন্য দ্রুত ভূমি কমিশন গঠন করা দরকার।
১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ আলফ্রেড সরেনের বোন রেবেকা সরেন বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, টংক, তেভাগা, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আদিবাসীদের সংগ্রাম স্বীকৃত। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ক্রমাগত বণ্টন বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈষম্য কমিয়ে আদিবাসীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের উপদেষ্টা ডা. দিবালোক সিংহ, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, সুমিত্রা তনচঙ্গা, অবনিকান্ত হাজং, রাখী ম্রং, মহসিন রেজা, অবনি কান্ত হাজং, গনেশ মুর্মু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আদিবাসীরা সমতল ও পাহাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। ৪৪টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও ৩৪টি বিভিন্ন ভাষাসহ নিজস্ব সংস্কৃতি রীতিনীতি, আচার ব্যবহার, পোশাক পরিচ্ছেদ ও ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আদিবাসী তারাই যাদের নৃতাত্ত্বিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অন্য জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক এবং তাদের অবস্থা পুরোপুরি এবং আংশিকভাবে নিজস্ব আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, ঐতিহ্য বা বিশেষ আইন ও নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার দেয়া হচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্বৃত্ত ভূমি দখলদাররা জোরপূর্বক জমি-জমা বসতভিটা দখল করছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক আধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আর ও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে আদিবাসীরা।
এরকম একটি সামাজিক পটভূমিতে আদিবাসীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনীতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
মানব বন্ধন কর্মসূচি শেষে রাজধানীর পুরান পল্টনের মুক্তি ভবনে আদিবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেবেকা সরেনের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ডা. দিবালোক সিংহ, অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা, বদিউজ্জামান বদি, হরি শংকর, আসলাম খান, রাখী ম্রং, শ্রীকান্ত মাহাতো, গণেশ মুর্মু, অবনি কান্ত হাজং, সুমিত্রা তনচঙ্গ প্রমুখ।
সভায় আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সদস্যপত্র সংগ্রহ এবং শাখাসমূহের সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
নভেম্বর মাসে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাগদা র্ফামে সমাবেশ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এবং প্রগতিশীল সংগঠনসমূহের সাথে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ডেপুটি স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।