
একতা বিদেশ ডেস্ক :
চীনে গত মাসে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এ মানুষের মতো দেখতে রোবট (হিউম্যানয়েড রোবট) লাফিয়েছে, বক্সিং করেছে, নেচেছে। দ্রুতগতির কয়েকটি রোবট ১০০ মিটার দৌড়ে কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের চেয়েও বেশি গতি তুলেছে।
রোবটগুলোর সক্ষমতা বাড়তে দেখে দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার রোবটের হোঁচট খাওয়ার দৃশ্যও তাঁদের আনন্দ দিয়েছে। সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিমে জায়গা করে নেওয়ার মতো ছিল এসব দৃশ্য।
দুই দিন পর এ আয়োজন থেকে ভিন্ন এক বার্তা দেয় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সরকারি সংবাদপত্র। ‘পিএলএ ডেইলি’ গবেষকদের আহ্বান জানায় গবেষণাগারে তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে দ্রুত সামরিক প্রশিক্ষণক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে। লক্ষ্য, রোবটকে ‘যোদ্ধা’ হিসেবে তৈরি করা।
চীনের প্রতিরক্ষা খাত মানবসদৃশ রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধে এসব রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। চীনের সামরিক বাহিনীর শতাধিক ক্রয় বিজ্ঞপ্তি, গবেষণাপত্র, পেটেন্ট, সরকারি নথি ও প্রকাশনা এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছে রয়টার্স।
ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ) গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে যত হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সামরিক রোবট তৈরির সময় চীনের দ্রুত বেড়ে ওঠা রোবটশিল্পের সহায়তা পাচ্ছে পিএলএ।
আগে প্রকাশ্যে না আসা এসব নথিতে দেখা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটকে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা বুঝতে সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। রোবট ও সেগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রযুক্তি কেনার চেষ্টাও চলছে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে রোবট কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা হচ্ছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসব কর্মকাণ্ডে গতি আসে। গবেষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে রোবটের আশপাশের পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা, বিভিন্ন বস্তু ধরা ও নাড়াচাড়া করার দক্ষতা এবং রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ) গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে যত হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সামরিক রোবট তৈরির সময় চীনের দ্রুত বেড়ে ওঠা রোবটশিল্পের সহায়তা পাচ্ছে পিএলএ।
চীনের রোবট নিয়ে এ সামরিক গবেষণা দেখাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আধা স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রোন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে পথ নির্ধারণ ও লক্ষ্য শনাক্ত করে। এতে নজরদারি ও হামলার ধরন বদলে গেছে। রোবট ব্যবহার করে রসদ বহন এবং হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজও হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ সংঘাত থেকে চীনের সামরিক বাহিনী কীভাবে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা আগেও নথিবদ্ধ করেছে রয়টার্স।
সামরিক প্রযুক্তির এ পরিবর্তনের ফলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর আগ্রহ বাড়ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের যন্ত্র ও মহাকাশ প্রকৌশলের অধ্যাপক ডেনিস হং বলেন, ‘যেখানে মানুষকে পাঠাতে চাই না, সেখানে রোবট পাঠানো যায়—রোবট তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ এটি। একটি রোবট হারানোর অর্থ যদি একজন মানুষের জীবন বাঁচানো হয়, তবে প্রয়োজনে সেই রোবটকে বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে।’