
একতা প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থতার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতন।
তিনি বলেন, বিগত ৬ মাসের শাসনকালে ক্ষমতাসীন সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু রংপুরের হত্যাকাণ্ডে সুষ্ঠ তদন্তের পরিবর্তে দ্রুত ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে প্রমাণ করেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আয়োজিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালানা করেন মঈনুদ্দিন চৌধুরী লিটন।
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনায় প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নানা গড়িমসি করা হয়েছে। তদন্তে শক্তিশালী কোনো পক্ষের প্রভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অন্য কোনো শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি, বিচারহীনতা, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম অনিরাপদ করে তুলেছে।
তারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমন ছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
পরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দল ৭ সেপ্টেম্বর রংপুর যান।
সেখানে তারা শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের বাসস্থান পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন।