গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবারের হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রংপুর সংবাদদাতা : রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও প্রকৃত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। পাশপাশি সারাদেশে খুন-ধর্ষণ, ছিনতাই-চাঁদাবাজি ও মাদক বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নগরের প্রধান সড়ক হয়ে স্থানীয় কাচারি বাজারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলা সমন্বয়ক ও বাসদের জেলা আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সিপিবি রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাফি সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরাম সদস্য সীমা দত্ত, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা রজত হুদা, বাসদ(মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা শওকত হোসেন আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদ রংপুর জেলা সভাপতি শাহিনুর রহমান বাদল, বাসদ মার্কসবাদী জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুন হন রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ। তিনি একরকম ঘোষণা করে বললেন অল্প সময়েই খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পুলিশ সফল হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা একে একে শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে, অথচ ডোপটেস্টে আসামিদের মাদক গ্রহণের প্রমাণ মেলেনি। এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে যত ধরনের মোটিভ থাকতে পারে তা আমলে নেয়া হয়নি। এছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে আলামত ধুয়ে নষ্ট করায় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার বিচার করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুর ছিল শান্তিপ্রিয় নিরাপদ শহর। অথচ অল্প কয়েকদিনেই রংপুর নগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় দাসপাড়ায় ১ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, একটি অটো রিকশা গ্যারেজে ১ জনকে হত্যা করেছে। ১৫ দিনে এরকম অন্তত ৮/৯ জন খুন হয়েছে। এই নগর এখন আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর গলির রাস্তায় হাটতেও গা ছমছম করে। ছিনতাই-মাদকে নগরবাসী অতিষ্ঠ। গোটা শহরের অলি-গলি মাদকে সয়লাব। বক্তারা আরও বলেন, মাদকের হটস্পটগুলো পুলিশের অজানা থাকার কথা না। মাদক সরবরাহে কারা জড়িত, এদের প্রশ্রয়দাতা কে? এদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ ধরণের খুনের পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। তারা আরও বলেন, রংপুরসহ সারাদেশেই প্রতিদিনই খুন-ধর্ষণ, চাঁদাবাজি-ছিনতাই-মাদকে মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করে এসব অপরাধ বন্ধ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর ব্যত্যয় হলে রংপুরসহ সারাদেশে প্রতিবাদের যে ঝড় বইবে তা সামাল দিতে পারবেন না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..