
একতা প্রতিবেদক :
শোষণ নয়, অধিকার চাই, আগ্রাসন নয়, স্বাধীনতা চাই, এসো সাম্রাজ্যবাদ রুখে বৈষম্যহীন স্বদেশ গড়ি- এই শ্লোগানকে ধারণ করে গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সূত্রাপুর থানা কমিটির নবম সম্মেলন বাহাদুর শাহ পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিজুল ইসলাম। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি কমরেড গোলাম রাব্বী খান, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আশিকুল ইসলাম জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপায়ন হোসেন, প্রিতম ফকির। সঞ্চালনা করেন দীন ইসলাম।
প্রধান অতিথি গোলাম রাব্বী খান বলেন, বিশ্ববাসির জন্য সাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধ ও ধ্বংস নিয়ে আসছে। বাজার দখল করে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য আমেরিকা একের পর এক দেশে আগ্রাসন চালাচ্ছে। তারা ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ করেছে। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে হামলা করছে তেলের জন্য। লুটপাট চালাচ্ছে। তাদের সহযোগী ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে গাজাতে, মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের ময়দান বানিয়েছে। আমেরিকা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিলো। বাংলাদেশকে লুটে নিয়ে তাদের আজ্ঞাবহ লোকজনকে ক্ষমতায় বসাচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকার তাই অসম বাণিজ্যচুক্তি করে বাংলাদেশকে আমেরিকার দাসে পরিণত করেছে। নিরাপত্তার নামে এদেশে ঘাঁটি করতে চায় আমেরিকা। আমাদের দেশকে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করতে চায়। তিনি প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কি এজন্য হয়েছিলো? দেশের মানুষ আজ ভালো নেই, চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানেও মানুষের মুক্তি মিলেনি। তাই সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে লড়াই করা আজ অতি জরুরি হয়ে গেছে।
যুবনেতা আশিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ৪ কোটি যুবক বেকার। এইবছর আরো ৬ লক্ষ কর্মক্ষম লোক নতুন করে বেকার হবে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নির্বিকার। তারা উন্নয়নের নামে মেগাপ্রকল্পের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিগত হাসিনা সরকারের মতো। চব্বিশের আন্দোলনের পরও দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। কারা করছে। ক্ষমতায় গেলে কোটি টাকার সম্পদ কি করে হয়? এদিকে যুব সমাজ হতাশায় মাদকাসক্ত হয়ে নানান অপরাধ করছে। কোটি কোটি যুবকে আজ আওয়াজ তুলতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে যুব ইউনিয়নের নীল পতাকা তলে সমবেত করতে হবে।
অন্যরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়তে কোটি কোটি যুবকদের নিয়ে লড়াই সংগ্রাম অব্যহত রাখতে হবে।
সমাবেশ শেষে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে বিপ্লব গোলদারকে সভাপতি, দীন ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও নূরুন্নবী সবুজ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গেন্ডারিয়া শাখার বন্ধুরা।