সুনীল রায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে সিপিবির স্মরণসভা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : আজীবন বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা সুনীল রায়ের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে মাসদাইর সিটি শ্মশানে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিপিবি কেন্দ্রীয়-জেলা ও শহর কমিটি, বাসদ জেলা কমিটি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রগতি লেখক সংঘ’সহ জেলার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টায় নারায়ণগঞ্জের নগর কেন্দ্রীয় শ্মশানে এ স্মরণসভা করা হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, সিপিবি জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা ও কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান বাঙ্গালী প্রমুখ। স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড সুনীল রায় একজন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও নিবেদিতপ্রাণ কমিউনিস্ট বিপ্লবী। শ্রমিক আন্দোলন ও গরীব মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে কিংবদন্তিতুল্য শ্রমিক নেতা কমরেড সুনীল রায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। পাকিস্তানী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রেণি সংগ্রাম করতে গিয়ে কমরেড সুনীল রায় বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন, অনেক সময় আত্মগোপনে রয়েছেন। অদম্য শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে ১৯২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করে ছিলেন এবং ২০০১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার চিত্তরঞ্জন কটন মিলে তাঁত শ্রমিকের কাজ করতেন। কমরেড সুনীল রায় শ্রমিক হওয়ার কারণে শ্রমিক ও গরীব মানুষের দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা, চেতনা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। সমাজের শ্রেণি বিভক্তির চেতনা ছিল তার প্রখর। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বা কারো দয়ার উপর শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি আসবে না। শোষণ-বৈষম্যের সমাজ বদলানো ছাড়া তা সম্ভব না। শ্রমিক শ্রেণীর অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে শ্রেণি হিসেবে নিজেদেরই তা করতে হবে। তাই নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রেখে ছিলেন তিনি। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শোষণ-বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় কমরেড সুনীল রায়ের সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি ও শোষণ-বিষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার চলমান লড়াই-সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..