হাতে হাত ধরে জোর কদমে চলো এগিয়ে যাই-কমরেড
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
এ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নেতৃবৃন্দ ‘কমরেডদের সাথে হাত মিলাও’ বা ‘মিট দি কমরেডস’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ২/৩ সপ্তাহ ধরে কেন্দ্র ও বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রীরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পার্টির প্রতিটি সদস্য-কর্মীর সাথে কথোপকথন-শলাপরামর্শ করবেন। ৭/৮ মাস আগে সমাপ্ত হওয়া ত্রয়োদশ পার্টি কংগ্রেসে যে কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে, নেতৃবৃন্দ তা বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল থেকে তৎপরতা শুরুর বার্তাটি পৌঁছে দিবেন। শুধু কথামালা, জ্বালাময়ী-আবেগপূর্ণ বক্তৃতাই নয়, প্রতিটি কমরেড, প্রতিটি প্রাথমিক শাখাকে সুুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে কাজের পরিকল্পনা নির্ধারণ করে দিয়ে আসবেন। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কি-না তা মনিটর ও চেকআপ করার ব্যবস্থাও তারা করে দিয়ে আসবেন। ‘আপনার কাজকর্ম পার্টির সিসিটিভি তার নজরদারিতে রেখেছে আছে’–এরকম একটি উপলব্ধি ও কার্যক্রমের ধারা পার্টিতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
সিপিবির এই ‘মিট দি কমরেডস’ কর্মসূচি শুধু একটি ‘সাংগঠনিক ইভেন্ট’ বা ‘ওয়ান টাইম পারফরমেন্সের’ বিষয় নয়। সিপিবির কংগ্রেসে যেভাবে পার্টির রাজনৈতিক কর্তব্যকে নতুন স্তরে, নতুন মাত্রায় উল্লম্ফন ঘটানোর ইতিহাস প্রদত্ত দায়িত্ব চিহ্নিত করা হয়েছে, সে জন্য পার্টি প্রস্তুত করার অপরিহার্য করণীয়। আগামীতে ধারাবাহিক এবং নিয়মিতভাবে এ ধরনের আরো আরো ‘মার্চ উইথ দি কমরেডস’, ‘স্টে উইথ দি কমরেডস’ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
পার্টি কংগ্রেসে নির্ধারিত কর্তব্য পালন করতে হলে পার্টির শক্তি, সামর্থ্য, জমায়েত ক্ষমতা, ক্যাডার সংখ্যা, তাদের কাজের দক্ষতা ইত্যাদিকে গুণগত নতুন এক স্তরে উন্নতি করতে হবে। আশু রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য হলে এ কাজটি একটি অপরিহার্য্য শর্ত। একইসাথে দেশের কমিউনিস্ট, বামপন্থী, প্রগতিবাদী, গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলাও আজ একটি জরুরি ও আবশ্যক কর্তব্য। রাজনৈতিক দল হিসাবে যারা সংগঠিত হয়ে আছে শুধু তারাই নন, এর বাইরেও সমাজের নিগৃহীত নানা অংশের সম্প্রদায়ের-তরিকার-অনুসারীদের-আত্মপরিচয়ের সামাজিক শক্তির ও ব্যক্তিকে এই ঐক্যে সামিল রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। সিপিবিকে এই কাজে নেতৃত্বের তথা (চরাড়ঃধষ) ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন বলিষ্ঠ উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য্য। সেটি করার জন্যও আজ পার্টির নিজস্ব শক্তি বাড়াতে হবে।
আমাদের সামনে আরেকটি অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কর্তব্যটি আজ খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। দলাদলি, কোন্দল, রেষারেষি, ব্যক্তিগত সমীকরণ ইত্যাদির কারণে যেটুকু সম্ভাবনাপূর্ণ শক্তি আছে, সেটুকুও কাজে নিয়োজিত হচ্ছে না। এই রূগ্নতা পার্টির জীবনী শক্তিকে ক্ষয় করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রেও পরিত্রাণ পেতে হলে তৃণমূল থেকে অর্থাৎ নিচ থেকে বিভেদের বিরুদ্ধে ও ঐক্যের স্বপক্ষে পাল্টা ইউনিটি অফেনসিভ চালাতে হবে। এক্ষেত্রে কমরেডদেরকে ‘কান কথার’ মধ্যবিত্তসুলভ সুখকর চর্চা থেকে বাস্তব শ্রেণি সংগ্রাম, গণসংগ্রাম, জনগণের ভেতরে কাজ–ইত্যাদিতে মনযোগী ও ব্যস্ত রাখতে হবে। ‘মিট দি কমরেডস’ কর্মসূচির শুরুর ও তাৎপর্য এদিক থেকেও বিবেচনা করতে হবে।
আমাদের দেশ এখন, যাকে প্রচলিত কথায় বলা হয়ে থাকে ‘মাইনকার চিপা’- বহুদিন ধরে অনেকটা সে ধরনের ফাঁদে আটকা পড়েছে। এদিক-ওদিক, চতুর্দিক অন্ধকার করে তোলা রুগ্নতা, অবক্ষয়, সংকটের ভয়াবহতা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। মানুষের ও দেশ-জাতির দম বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। এ অবস্থা থেকে কোনোদিক দিয়েই যেন বের হতে হলে কী করতে হবে? এই প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই বলা প্রয়োজন যে–‘সর্বাঙ্গে যখন ব্যথা তখন শুধু হেথায় হোথায় ওষুধ দিয়ে’ যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব করা গেলেও, রোগের নিরাময় তাতে হবে না।
মানুষের রক্ত যখন দূষিত হয়ে পড়ে, তখন নানা আকারের ও প্রকারের উপসর্গ রূপে শরীরে তার প্রকাশ ঘটতে থাকে। শুধুমাত্র সেসব উপসর্গের নিরাময় করে সেরূপ গুরুতর রোগ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় না। উপসর্গের চিকিৎসার পাশাপাশি তখন অপরিহার্য হয়ে ওঠে দেহকে রক্ত দূষণের মূল রোগ থেকে উদ্ধার করা। দূষিত রক্তের পরিবর্তে রোগমুক্ত রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থাগত উত্তোরণ সাধন করা। মানব দেহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এ বিষয়টি দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।
এক শতাব্দীর মধ্যে এ দেশের মানুষ তিন-তিনবার তাদের ‘দেশ’ বদল হতে দেখেছে। দেশ বদলের পাশাপাশি ডজন-ডজনবার দেশের ‘সরকার’ বদল হয়েছে। বিগত বছর দুয়েকের মধ্যে দেশবাসী ৩টি সরকার দেখেছে। তারা কেউই ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি। এখনও, সে পথে অগ্রসর হওয়ার তেমন কোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন আর কিছু জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) প্রসাধনমূলক চটকদার কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে মাত্র। এ দিয়ে সংকট মোচন সম্ভব হবে না। মানুষের প্রশ্ন, দেশ বদল হয়, সরকার বদল হয়– তবুও কোনো কিছুতেই মানুষের ‘অবস্থার’ মৌলিক ধরনের কোনো বদল হয় না কেন? এই প্রশ্নের জবাব হলো–প্রবল যন্ত্রণাময় উপসর্গগুলোর উৎস হলো আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে দেশ-সরকারের বদল হলেও কখনই ব্যবস্থার বদল হয়নি। ফলে তার উপসর্গগুলো বারবার নতুন করে আবির্ভুত হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্তহীন অস্থিরতা, বিরামহীন নৈরাজ্য ও ক্রমাগত অনিশ্চয়তা দূর হোক,– তা কে না চায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ বার বার আশায় বুক বেঁধেছে। প্রতিবার যখন ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, নতুন কোনো শক্তি গদিতে আসীন হয়েছে, মানুষ প্রত্যাশা করেছে যে এবার হয়তো অবস্থার হেরফের হবে। রাজনীতিতে স্থীতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। গদির বদল হলেও রাজনীতির রুগ্নতার ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি ঘটেনি। মানুষের জিজ্ঞাসা হলো কেন এমন হয়?
অনেকেই ভাবেন যে গোটা বিষয়টি হলো সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তার উপাদানগুলো এভাবে আর থাকবে না। আর, যে কোনো উপায়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে সুশীল মানুষদের বসাতে পারলেই সুশাসন নিশ্চিত হবে। সুশাসন নিশ্চিত হলেই রাজনীতিতে প্রশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সুস্থ ধারাবাহিকতা ফিরে আসবে।
রাজনীতির অবক্ষয় ও রুগ্নতার সমস্যা কী কারণে সৃষ্টি হয়েছে– এ নিয়ে দু’রকম মত আছে। একটি হলো–প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণেই যাবতীয় সমস্যার উদ্ভব ঘটছে। ‘সিস্টেম’ বলতে এক্ষেত্রে বোঝানো হচ্ছে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা।
এ বিষয়ে অপর মতটি হলো–রাজনীতির অবক্ষয় ও রুগ্নতার কারণ প্রচলিত ‘সিস্টেমের’ অভ্যন্তরেই প্রবিষ্ট রয়েছে। ‘সিস্টেমের’ স্বরূপই হলো এমন যে তা অবধারিতভাবে অবক্ষয় ও রুগ্নতার জন্ম দিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে ‘রুগ্ন সিস্টেমের’ সুপরিচালনা রুগ্নতাকেই বর্ধিত মাত্রায় পুনরুৎপাদিত করবে।
আমাদের দেশে চলছে ‘সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর উন্মুক্ত ও অবাধ বাজার অর্থনীতির’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় দেশের যে সম্পদ তৈরি হচ্ছে তার প্রায় অর্ধেকটাই জমা হচ্ছে মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির অপ্রদর্শিত ও অবৈধ আয় হিসেবে।
চূড়ান্ত বিচারে রাজনীতি হলো অর্থনীতিরই ঘনিভূত প্রকাশ। আমাদের দেশে যে ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ বিদ্যমান, তা তার নিজস্ব তাগিদেই ‘লুটপাটের রাজনীতির’ জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিতে ঘটেছে বাণিজ্যিকীকরণ এবং তারই অনুসংগ হিসেবে দুর্বৃত্তায়ন, ভোগবাদ, প্রদর্শনবাদ ইত্যাদি। রাষ্ট্রক্ষমতাকে করে তোলা হয়েছে প্রধানত লুটপাটের ব্যবস্থা চালু রাখার ও মুষ্ঠিমেয় লুটেরা ধনী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার একটি যন্ত্র। অপরাধী দুর্বৃত্ত ক্যাডার বাহিনী লালন করাটা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার জন্য অপরিহার্য করে তোলা হয়েছে।
এর ফলে রাষ্ট্র ক্ষমতার বিষয়টি লুটপাটের লোভ এবং ক্ষমতার লালসার হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতায় যেতে পারার বিষয়টি জিম্মি হয়ে পড়েছে দুর্বৃত্ত ক্যাডার বাহিনী দ্বারা পুষ্ট পেশী শক্তি এবং বিত্তবানদের বিপুল অর্থ-শক্তির হাতে। সেই বিবেচনায় দেশের রাজনীতি এখন এসব অপশক্তির হাতে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে।
পেশী শক্তির পাশাপাশি, অর্থ-শক্তির কাছেও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারার বিষয়টিকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। বিত্তবানরা রাষ্ট্রকে তাদের লুটপাটের ম্যানেজার হিসাবে গণ্য করে। সেজন্য আগে তারা টাকা দিয়ে রাজনীতিবিদদের বশে রাখার ব্যবস্থা করতো। এখন তারা এ বিষয়ে ডাইরেক্ট টু ডাইরেক্ট পথ গ্রহণ করেছে। তারা নিজেরাই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পদ, এমপি পদ, মন্ত্রিসভা দখল করে নিচ্ছে।
ঘুষের কারবারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত অফিসে-প্রতিষ্ঠানে সৎ লোক টিকে থাকতে প২ারে না। তাকে টিকে থাকতে দেয়া হয় না। শরীরের রক্ত বিষাক্ত হয়ে গেলে তাতে সুস্থ রক্তকনিকার আগমন ঘটলে তাকেও যেমন রুগ্ন করে তোলার ব্যবস্থা থাকে, সমাজ ও রাজনীতিতেও সেরূপই ঘটে।
পাকিস্তানী জামানাসহ বাংলাদেশের বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের দেশ পরিচালিত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর লুঠেরা ধনবাদী ব্যবস্থায়। এখনো দেশ সেই ‘সিস্টেমের’ মধ্য দিয়েই চলছে। এই ‘সিস্টেমের’ কাঠামোতে গনতন্ত্র অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমাদেরকে আগাগোড়াই গনতন্ত্রহীনতার কবলে নিপতিত থাকতে হয়েছে। আইউব খান দিয়েছিল মৌলিক গণতন্ত্র, জিয়া ও এরশাদ দিয়েছিল ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র’। তার আগে কয়েক মাসের জন্য ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র চালু হওয়ার আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এরশাদ পরবর্তী সরকারগুলো দেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক সিস্টেমে পরিবর্তন না এনেই শাসন কাজ চালিয়েছে। এই সিস্টেমে গণতন্ত্র ‘ফিট-ইন’ করে না। ফলে অনিবার্য কারণে গণতন্ত্রকে কাট-ছাট করতে হয়েছে। তাই এটি বিস্মিত হওয়ার কোনো বিষয় নয় যে আমাদেরকে বারবার ‘উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে’, ‘গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন’ ‘মালয়েশিয়া মডেলে উন্নয়ন’ ইত্যাদি তত্ত্ব ও কথাবার্তাগুলো শুনতে হয়েছে।
প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে সূচনা করতে হবে শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ অভিমুখে যাত্রা। এ কাজটি একটি বিশাল মহাযজ্ঞের মতো কঠিন। যে শ্রেণি শক্তি যুগ যুগ ধরে তাদের শোষণ চালানোর জন্য রাষ্ট্রের ওপর তাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্বকে ব্যবহার করবে এবং সমাজ বিপ্লবকে রুখতে প্রাণপণ চেষ্টা করবে। জনগণের ইচ্ছা ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্য সেই সমাজতন্ত্র অভিমুখী বিপ্লবের সাফল্যের জন্য শোষকশ্রেণির সন্ত্রাসী হামলা উপযুক্ত পন্থায় মোকাবিলা করতে হবে। সেই ‘উপযুক্ত পন্থাটি’ কী? পরিস্থিতি তা বলে দিবে ঠিকই, কিন্তু যে সমাজ ব্যবস্থার বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটাতে হলে শোষকশ্রেণির আধিপত্য থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্র বদলে ফেলতে হবে। ক্ষমতা থেকে শোষকশ্রেণিকে উৎখাত করতে হবে। মেহনতি শ্রেণিসহ জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা চাই আর না চাই কমিউনিস্ট ও বামপন্থীদের সামনে অতি জরুরি কর্তব্য হিসাবে সামনে এসে পড়েছে। এই দায়িত্ব পালনে অপারগতা দেশকে স্থায়ীভাবে আরেকবার মধ্যযুগীয় বর্বরতার যুগে নিয়ে যাচ্ছে। সে শক্তি তার মতো করে প্রস্তুত হচ্ছে। তা মোকাবিলায় সমাজ বিপ্লব ও বামপন্থিদের নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দ্রুত তৈরি হওয়ার কোনো বিকল্প নাই। দেশের আপামর মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই সত্যকে উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে আমাদেরকে অনেক বড় করে নিজেদের দায়িত্বের কথা ভাবতে হবে। এখানে একটি দাগ কাটার মতো ব্রেক থ্রু করতে হবে। সিপিবির ‘মিট দি কমরেডস’ অভিযানের তাৎপর্য ও গুরুত্বকে সে আলোকেই বিবেচনায় নিতে হবে।
দেশ বাঁচাতে সমাজ বিপ্লবের পথে অগ্রসর হতে হবে। সেজন্য বহুমুখী ধারায় শক্তি-সামর্থকে প্রস্তুত করতে হবে। বহুদিক থেকে রচিত বাধা-বিঘ্ন, সন্দেহ-অবিশ্বাস, হতাশা-বিভ্রান্তির জালে সেই কাজে বাধা আসবে। কিন্তু থামলে চলবে না। এবার ‘দৃঢ় পণে’ এগিয়ে যেতে হবে।
“বুক বেধে তুই দাঁড়া দেখি, বারে বারে হেলিস নে ভাই।”
সমাজ বিপ্লবের বিজয় হবেই। তাই হাতে হাত ধরে জোর কদমে চলো এগিয়ে যাই–কমরেড।
‘দেশ বদল হয়, সরকার বদল হয়– অথচ মানুষের অবস্থার বদল হয় না কেন’– এই জিজ্ঞাসার জবাব রয়েছে এই সত্যের মাঝে। সরকার বদলের পাশাপাশি তথা ‘সিস্টেমের’ তথা ‘ব্যবস্থারও’ বদল ঘটাতে হবে। তাই, ‘সিস্টেমের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য ছাড়া সাধারণ মানুষের মুক্তি নেই।
প্রথম পাতা
বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির গণবিরোধী প্রস্তাব বাতিল কর : সিপিবি
তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ
সিপিবির পথ পরিক্রমণের তথ্য-কণিকা
মানবিক বিশ্ব গড়তে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার
ক্ষেতমজুররা ভিক্ষা চায় না, তারা কাজ চায়, ন্যায্য মজুরি চায়
হাওরের সমস্যা বিচিত্র ধরনের আছে সমাধানের পথও
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
‘হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইউনূস ও তার সরকারের’
‘শিশু কোটা’
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন