ক্ষেতমজুররা ভিক্ষা চায় না, তারা কাজ চায়, ন্যায্য মজুরি চায়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ক্ষেতমজুর সমিতি আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: গ্রামীণ মজুরের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম [ ছবি:  রতন কুমার দাস ]
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: গ্রামীণ মজুরের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহের অন্যতম হলো কৃষি। কৃষিতে উন্নয়নের প্রধান কারিগর ক্ষেতমজুর তথা গ্রামীণ মজুর এবং মেহনতি মানুষ। ক্ষেতমজুররা কৃষি উন্নয়নের কারিগর হলেও এর সুফলের ভাগিদার হওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষেতমজুর তথা গ্রামীণ মজুররা ভিক্ষা চায় না- তাঁরা সারা বছর কাজ চায়, ন্যায্য মজুরি চায়, মানুষের মতো বাঁচতে চায়। প্রতিবছর বাজেট হয়, কিন্তু দেশের সিংহভাগ মানুষ এই ক্ষেতমজুর তথা গ্রামীণ মজুরদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। আলোচনা সভায় বক্তারা আসন্ন বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশন, পেনশন, কাজ, ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি করেন। গত ৮ মে সকালে মুক্তিভবনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, মনিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার ক্ষেতমজুর ছৈনউদ্দিন, কুমিল্লার চান্দিনার সুফিয়া খাতুন, দেবীদ্বারের তজু মিয়া, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফরিদ প্রধান প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা। সভা পরিচালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস পরেশ কর, রমেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, মোতালেব হোসেন, সহ সভাপতি আব্দুুল মান্নান, আশরাফুল আলম, সদস্য শাহীন রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, লোকনাথ বর্মন, শহীদুল ইসলাম, নাসিরউদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হলেও গরিব মেহনতি মানুষের উন্নতি হচ্ছে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে জুলুম থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু সে স্বপ্ন আজো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সচেতন করে অধিকার আদায়ের লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জমি বর্গা দেওয়া যায়, স্বার্থ বর্গা দেওয়া যায় না। খাসজমি ভূমিহীনদের- তা আদায়ে ভূমিহীনদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডে যাতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। সভায় অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বিভিন্ন এনজিও গরিবদের দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেবে বলে উল্টো তাদের ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। এই ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকে আত্মহত্যাও করছে। ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পেনশনের আওতায় বয়ষ্ক শ্রমিকদের মাসিক বেঁচে থাকার মতো মজুরির দাবিটা সামনে আনতে হবে। মজুরের ছেলেকে মজুর হবে- এটা হতে পারে না। তাদের শিক্ষিত করে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..