অভিজ্ঞতা থেকে শেখা

হায়দার আকবর খান রনো

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
[বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক উপদেষ্টা, বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ২০২৪ সালের ১১ মে মারা যান। তার মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে ২০১৪ সালের ২৩ র্মাচ সাপ্তাহিক একতায় প্রকাশিত তার একটি লেখা পুনঃপ্রকাশ করা হলো।] বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা কমরেড মনজুরুল আহসান খানের একটা চমৎকার গুণ হচ্ছে এই যে, তিনি কোনো কোনো জটিল বিষয় সহজবোধ্যভাবে বোধগম্য উদাহরণ দিয়ে কখনো বা ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন। তিনি বলেছেন, ওয়ার্কার্স পার্টি কমিউনিস্ট পার্টির জায়গা নিয়েছে আর কমিউনিস্ট পার্টি ওয়ার্কার্স পার্টির জায়গায় গেছে। দুই পার্টির মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিগত ও কৌশলগত লাইনের বিরোধ যা ছিল তা রয়েই গেল। কেবল স্থান পরিবর্তন হয়েছে। একসময় ওয়ার্কার্স পার্টি বাম বিকল্পের কথা বলতো এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বামগণতান্ত্রিক স্রোতধারা তৈরির জন্য একাধিকবার প্রস্তাব নিয়েছিল। বর্তমানে তারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ। অতএব তাদের চিন্তা থেকে বিকল্পের ধারণাটা উড়ে গেছে। তারা হয়তো ব্যাখ্যা দেবেন, বলবেন, তেমন বাস্তবতা নেই। বরং মৌলবাদের বিপদ এমনভাবে আছে যে, প্রথমে তাকে পরাজিত করা হোক, ইত্যাদি। তাই আওয়ামী লীগ সরকার যতই অগণতান্ত্রিক হোক এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি যতই দুর্বল হোক, সেসব দিকে চোখ বন্ধ রেখে সেই সরকারেই যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমার বিশ্বাস ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা সৎভাবেই এমন ভুল চিন্তায় এসেছেন। শুধু মন্ত্রীত্বের লোভ অথবা সংসদ সদস্য হবার বাসনা থেকে এরকম সিদ্ধান্তে আসেননি। কারণ, কিছুদিন আগেও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মন্ত্রীত্বের অফার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তখন আমি নিজেও তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। সিপিবি-র পুরানো নেতারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। যে পথে এখন ওয়ার্কার্স পার্টি হাঁটছে, সেটা তাদের বড় চেনা পথ। একদা সেই পথে তারা হেঁটেছিলেন। সেই পথ শেষ পর্যন্ত এমন কানাগলিতে নিয়ে যায় যে, সেখান থেকে আর বের হওয়া যায় না। সেখান থেকে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। যেমন হারিয়ে গিয়েছিলেন সিপিবি-র এককালীন সভাপতি সাইফুদ্দিন মানিক ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাহিদ। শেষ পর্যন্ত তাদের ঠিকানা হয়েছিল বুর্জোয়া শিবিরে। এ পথ টেনে নিয়ে যায় সেই মৃত্যুগুহায় যেখানে দৈহিকভাবে মৃত্যু হয় না, কিন্তু কমিউনিস্ট আত্মার বিনাশ ঘটে। সিপিবি কর্তৃক পরিত্যক্ত পথে এখন হাঁটছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা। সিপিবি-র একটা বড় অংশ একসময় দল ত্যাগ করেছিলেন। ভুুল পথে চলার পরিণতি। সিপিবি-র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অতীতের কিছু ভুল লাইনের কথা স্বীকার করেন। সমালোচনা ও আত্মসমালোচনাও করেছেন। মুক্ত মনে আত্মসমালোচনা করতে সাহস লাগে, মানসিক জোর লাগে, সততা লাগে, কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান হতে হয়। সিপিবি-র বর্তমান নেতৃত্ব সেটা দেখাতে পেরেছেন। তারা বলছেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট পার্টির উচিত ছিল বিরোধী দলে থেকে তদানিন্তন সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করা এবং শ্রেণি-সংগ্রাম গড়ে তোলা; যে শ্রেণি-সংগ্রাম অবধারিতভাবে সদ্য রাষ্ট্রক্ষমতা প্রাপ্ত শাসক দলের অনুগ্রহে গড়ে ওঠা নব্য ধনিক শ্রেণির বিরুদ্ধে পরিচালিত হতো। পাছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এই সুযোগে শক্তিশালী হয়ে ওঠে সেই ভয়ে সেদিনের সিপিবি সরকার বিরোধী অবস্থান নিতে চায়নি। তারা তদানিন্তন সরকারের সমালোচনা যে একেবারে কখনো করেননি তা-ও কিন্তু সঠিক নয়। কিন্তু সব মিলিয়ে বিরোধী দলের ছাপ রাখতে পারেননি। এর দ্বারা তারা কিন্তু সরকারকে শক্তিশালীও করতে পারেননি, অন্যদিকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকেও ঠেকাতে পারেননি। ভুল মানুষ মাত্রই করে। প্রতিভাবানরা কম ভুল করেন, অথবা করলেও দ্রুত সংশোধন করে নেন। সিপিবির অতীত ইতিহাসে ভুল যে ছিল তা তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন এবং সংশোধন করতে সচেষ্ট হয়েছেন। স্বাধীনভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করে বুর্জোয়া দলের প্রতি মোহগ্রস্ত থাকা শ্রমিক শ্রেণির পার্টির জন্য এক ধরনের অতীব ক্ষতিকর রোগ, যা পৃথিবীর বেশ কিছু পার্টির মধ্যে দেখা গেছে। একসময় হয়তো রোগ ধরা পড়ে। অর্থাৎ ভুলটা ধরা পড়ে। সংশোধনের চেষ্টাও হয়। তারপরও অনেক সময় সেই মোহটি নানাভাবে থেকে যায়। সেটার বিরুদ্ধে সংগ্রাম বেশ কঠিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়। ঠিক এটাই ঘটেছে সিপিবি-র ক্ষেত্রে। যাদের বিলোপবাদী বলা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠিন সংগ্রামটি করেছিলেন সিপিবির আজকের নেতৃত্ব। নেতৃত্বের এই ভূমিকা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল এবং সেজন্যই আমি ওয়ার্কার্স পার্টির ব্যাপারে হতাশ হয়ে সিপিবিতে যোগদান করেছিলাম। তাতে আর কিছু না হোক, ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য লাভ হয়েছিল যে আমি কমিউনিস্ট জীবন রক্ষা করতে পেরেছিলাম। একবার তা হারিয়ে গেলে অথবা সুবিধাবাদের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে আমার যা কিছু রাজনৈতিক অর্জন ছিল, সবটাই হারাতে হতো। বুর্জোয়ার সঙ্গে কখনোই কোনো ধরনের ঐক্য হবে না, এমন কথা আমি বলি না। বিশেষ করে আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন সমাজতন্ত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্যটি আশু কর্মসূচি হিসেবে আসছে না। কিন্তু বুর্জোয়ার সঙ্গে ঐক্য হবে কখন, কতটুকু ও কোন শর্তে? সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে বিশেষ সময়ের জন্য কিছু শর্তাধীনে বুর্জোয়ার সঙ্গে ঐক্য হতে পারে। এমনকি ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া দলের সঙ্গেও। কিন্তু কখনোই কোনো অবস্থাতেই শ্রমিক শ্রেণি তার স্বাধীন সত্তাকে বিসর্জন দেবে না। বুর্জোয়ার মুখোশ উন্মোচন, শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শ ও রাজনীতি প্রচার ও প্রসার ঘটানোর স্বাধীনতা এবং শ্রেণিসংগ্রাম এগিয়ে নেবার অধিকারকে কোনো অবস্থাতেই বিসর্জন দিয়ে এই ঐক্য হতে পারে না। ওয়ার্কার্স পার্টি যদি নিজেকে এখনো শ্রমিকশ্রেণির পার্টি বলে মনে করে তাহলে দেখতে হবে এসকল শর্ত রক্ষা হয়েছে কি না। সেই বিচার করবেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও কর্মীরা। বাইরের জনগণও পর্যবেক্ষণ করবেন। আমার বিবেচনায় যেভাবে ওয়ার্কার্স পার্টি বুর্জোয়া সরকারের মধ্যে ঢুকে গেল তাতে উপরে বর্ণিত স্বাধীনতাটাই হারিয়ে ফেলেছে। বুর্জোয়া সরকারে এই যোগদান করাকে রাজনীতির ভাষায় বলে ‘মিলেরাবাদ’। অবশ্য যুক্তি তারাও দেবেন, তা সে যত খোঁড়া যুক্তিই হোক না কেন। তারা বলছেন, মৌলবাদের বিপদটি এমনভাবে সামনে এসেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে এবং ভেতরে থেকেই মৌলবাদকে মোকাবিলা করতে হবে। এখন আর অন্য কোনোদিকে তাকানোর সুযোগ নেই। অথবা তাদের যুক্তিটাকে এভাবেও উপস্থিত করা যেতে পারে প্রথমে মৌলবাদকে পরাজিত করি, তারপর অন্য বিষয় দেখা যাবে। এর সরল অর্থ দাঁড়ায়, আপাতত গণতন্ত্রের বিষয়টি, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের বিয়ষটি, শ্রেণিসংগ্রামের প্রশ্নটি স্থগিত থাকুক। সম্ভবত এই রকম বিবেচনা থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারের মতো সৎ সংগ্রামী মানুষও ‘জনগণের একনায়কত্বের’ তত্ত্বটি এনেছেন। বাস্তবে এই তত্ত্বের প্রতিফলন হলো, মৌলবাদকে ঠেকানোর নামে আপাতত গণতন্ত্রকে পরিত্যাগ করা। আমরা এখন এক অসহনীয় অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছি। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তা টেকনিক্যালি বৈধ হলেও (কারণ সংবিধান অনুযায়ী এক ভোট পড়লেও তা বৈধ নির্বাচন) এই নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি নেই, আর তাই গ্রহণযোগ্যতাও নেই। তবু এমন অগ্রহণযোগ্য সরকার ক্ষমতায় আছে। তার জনপ্রিয়তা যে কত কম, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্নভাবে। সেজন্য সরকারের আচরণও হয়ে উঠছে খুব হিংস্র, অমানবিক, সন্ত্রাসমূলক এবং স্বৈরাচারী। পুলিশ-র্যাব ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে যেভাবে প্রিজাইডিং অফিসার দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় সরকার ও সরকারি দল কত নিচুতে। নানান কায়দায় চলছে গুপ্ত হত্যা ও বিচার বহির্ভূত হত্যা। কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা যখন বলেন যে, মানুষ ক্রসফায়ার সমর্থন করে তখন বুঝতে বাকি থাকে না, এরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই দেশ চালাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম মূলনীতি গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি যখন এসব করে তখন তা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপহাস করারই শামিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম মূল স্তম্ভ সমাজতন্ত্র তো বর্তমান শাসকরা ভুলেও উচ্চারণ করেন না। কারণ, তারা নিজেরাই বড় বড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন। তা-ও আবার শুধু ব্যবসা নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেপরোয়া দুর্নীতি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকারের সম্পদের পরিমাণ তাই পাঁচ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে বিস্ময়কর হারে। কথায় বলে আঙুল ফুলে কলাগাছ। এ যেন আঙুল ফুলে বটগাছ। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে অথবা মৌলবাদকে ঠেকানোর নামে এসকল বিষয়ে নীরব থাকতে হবে। এমনকি তাদেরই মন্ত্রিসভায় নিয়ে শোভাবর্ধন করতে হবে? তবু বলবেন, মৌলবাদকে ঠেকানোর কাজটিই প্রথম ও প্রধান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিজেই যে মৌলবাদকে অপসারিত করতে খুব একটা আগ্রহী তা তো মনে হয় না। বারবার তারা মৌলবাদ ও জামাতের সঙ্গে আপস করেছেন। ২০০৬ সালে খিলাফত মজলিসের সঙ্গে কুখ্যাত পাঁচ দফা চুক্তি অথবা ২৫তম সংশোধনীতে ইসলাম ধর্মকে বহাল রাখা কী প্রমাণ বহন করে। ইসলাম বলে যে বিধানটি সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছিল (অষ্টম সংশোধনী) তা করেছিলেন যে সামরিক শাসক এরশাদ তিনি তো এখন প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু, তার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতার পদ দখল করেছেন। আবার কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীও হয়েছে। আওয়ামী লীগের অপকীর্তির বহু ফিরিস্তি দেয়া যায়। সেজন্য জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিকল্প হিসেবে তারা আপাতত বিএনপিকে বেছে নিয়েছে, সে বিএনপিও ধোয়া তুলসী পাতা নয়। বিচার বহির্ভূত হত্যা তারাও করেছিলেন- ক্লিনহার্ট অপারেশনের মাধ্যমে। যা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ‘হাওয়া ভবনে’র দুর্নীতির খবর আমরা জানি। কিন্তু পরবর্তীতে মহাজোট আমলের দুর্নীতি (পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ইত্যাদি) হাওয়া ভবনকে যেন ভুলিয়ে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ মৌলবাদের সঙ্গে আপস করে আর বিএনপি মৌলবাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। তাহলে করণীয় কী? এই দুই অপশক্তির বাইরে গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলা। এমন অপশক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে কাজে লাগিয়ে মৌলবাদ বরং শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ পায়। কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর আহমেদ প্রায়ই বিবেকানন্দের সেই কথাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন–‘ফাঁকি দিয়ে কোনো মহৎ কাজ হয় না’। আওয়ামী লীগকে দিয়ে তাই মৌলবাদকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। আর বিএনপির তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই জরুরি হয়ে উঠেছে অন্য বিকল্প, গণতান্ত্রিক বিকল্প। কমিউনিস্টরা সেই বিকল্প গড়ার পথ নিয়েছে। যথাযথ মার্কসবাদী-লেনিনবানী তত্ত্ব-প্রয়োগ করে আজকের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে এবং বহু অভিজ্ঞতার ভিত্তিত্তে তারা এই পথ গ্রহণ করেছেন। অন্যান্য বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিকেও হাতে হাত মিলিয়ে একই সঙ্গে পথ চলতে হবে। ছোট ছোট বামদলগুলো কোনো অজ্ঞাত কারণে নিজেদের দূরে রেখেছেন। ওয়ার্কার্স পার্টিও হতে পারতো বিকল্প গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু হায়! তারা তো নিয়েছেন উল্টো পথ–যে পথে ক্ষমতার জৌলুস থাকে আদর্শের বিনাশ ঘটে। সিপিবি যে পথ বহু আগেই পরিত্যাগ করে এসেছিল, সেই পরিত্যক্ত পথে এখন বিচরণ করে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ। হয়তো ভবিষ্যতে কোনো একদিন তাদেরও অভিজ্ঞতা হবে, কত ভুল পথে তারা চলেছেন। ততদিনে সময় অনেক গড়িয়ে যাবে। ঠেকে শেখার চেয়ে দেখে শেখা কি ভালো নয়?

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..