পূর্ণেন্দু দস্তিদার : এক বিদগ্ধ বিপ্লবীর জীবনালেখ্য

কানাই দাশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একদিকে সমুদ্রের অতন্দ্র তরঙ্গে অবিরল মুখরিত আর অন্যদিকে “গিরিশৃঙ্গ মালার মহৎ মৌনে ধ্যান নিমগ্না” চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, তার জল-হাওয়া, বৈরী প্রকৃতির সাথে মানুষের নিরন্তর লড়াই এ অঞ্চলের মানুষের মানস ক্ষেত্রে দ্রোহ আর সংগ্রামের বীজ যেন উপ্ত করে দিয়েছে সেই আদিকাল থেকেই। গান্ধীজীর সপ্রশংস স্বীকৃতি “ঈযরঃঃধমড়হম ঃড় ঃযব ভড়ৎব” সবার জানা। ১৯৩০ সালে সংঘটিত ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ এ অঞ্চলের ইতিহাসের একটি প্রধানতম বিপ্লবী অভ্যুত্থান। ১৯২০ ও ৩০ এর এই দ্রোহী আবহ জন্ম দেয় অনেক সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব ও বিপ্লবীর। আমৃত্যু বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদার ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন প্রবাদতুল্য বিপ্লবী ও বিদগ্ধ মনীষী। সমাজবিজ্ঞানের সাধারণ ভাষায় বিপ্লব হলো প্রচলিত শোষণমূলক কাঠামো ভেঙে নতুনতর জনকল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আর বিপ্লবী হলেন তাঁরাই যাঁরা শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন শুধু চান না, চান প্রচলিত শোষণমূলক পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টে দিতে। সে অর্থে দেশে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পরে সমাজ পরিবর্তনে বিশ্বাসী বিপ্লবীদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে। তাই স্বাধীনতার পর পরই ১৯৪৮ সালে প্রকৃত বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদারকে জেলে যেতে হয়েছে এবং প্রায় পুরো পাকিস্তান আমল তাঁকে জেলে কাটাতে হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যাভিসারী তাঁর আজীবনের নানামুখী কর্মকাণ্ডের জন্য চট্টগ্রামের মানুষের কাছে তাঁকে বিশেষ অভিধায় অভিহিত করার প্রয়োজন কোনদিন হয়নি। সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ধলঘাটের দস্তিদার পরিবার শুধু চট্টগ্রামের নয় সারা বাংলাদেশের এমন একটি বিপ্লবী পরিবার যে পরিবারের প্রায় প্রত্যেক সদস্য বিপ্লবী বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অনুজ চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের শহীদ অর্ধেন্দু দস্তিদার, জালালাবাদ যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তাঁর আরেক অনুজ সুখেন্দু দস্তিদার এ দেশের বাম আন্দোলনের এক খ্যাত কীর্তি পুরুষ। এদের সবাই প্রাণিত হয়েছিলেন অগ্রজ পূর্ণেন্দু দস্তিদারের বিপ্লবী সংস্পর্শে। পুরো পরিবারকে এভাবে সে সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক বাম রাজনীতিতে নিয়ে আসার এমন বিরল কৃতিত্ব চট্টগ্রামে আর দ্বিতীয় কোথাও দেখা যায় না। এখানেই পূর্ণেন্দু দস্তিদারের প্রকৃত বৈপ্লবিক সত্তার পরিচয় মেলে। মানবমুক্তির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাজাত নিরন্তর সংগ্রামের ধারায় আঠাশ শতাব্দির সাড়া জাগানো ফরাসি বিপ্লব ও ১৮৭১ সালের প্যারিস কমিউনের ব্যর্থতার পর নবরূপে বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকে তথা ১৯১৭ সালে লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়াতে এক নতুন বিপ্লব সংঘটিত হয়। সেই অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক মহাবিপ্লবের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার তাৎক্ষণিক অন্যতম সদর্থক অবদান হলো এই যে, তা শুধু রাশিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেনি সমগ্র মানবজাতিকে তা ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। সারা পৃথিবীর মানুষকে মুক্তির তীব্র আবেগ ও আকাঙ্ক্ষায় উদ্বেলিত করেছিল। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে বিশেষত বাংলায়ও সেই বিপ্লবের বার্তা দ্রুত পৌঁছে যায়। এর পূর্বে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এদেশে বিংশ শতাব্দির প্রথম দশক থেকেই প্রচণ্ড গণআন্দোলন ও সংগ্রাম এমনকি গুপ্ত সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়, যার ভবিতব্য সম্পর্কে সবাই ছিলেন অনেকটা সন্দিহান। কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব নিখাদ সমাজ বিপ্লবীদের জন্য হয়ে গেল এক সাহসী ঠিকানা। এরপর থেকে পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মত আমাদের দেশেও বিপ্লবীরা ধীরে ধীরে মানব মুক্তির পথ হিসেবে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদকে মুক্তির বিকল্প পথ মনে করতে লাগলেন। ১৯২০ সালের পর থেকে এদেশে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান ধারণার বিস্তার ও কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠিত হতে থাকে। ঠিক এ পটভূমিতে ধলঘাটের অবস্থাপন্ন দস্তিদার পরিবারের মেধাবী সন্তান পূর্ণেন্দু দস্তিদার এই বিপ্লবী হাওয়া থেকে নিজেকে নিস্পৃহ রাখতে পারলেন না। ১৯২০ এর দশকের শেষ দিকে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় গোপন বিপ্লবী সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। ১৯৩০ সালে জালালাবাদ যুদ্ধের পর পর তিনি প্রথম বারের মত গ্রেপ্তার হন। ফলে তাঁর আর ইঞ্জিনিয়ার হওয়া হলো না। পরে জেল থেকে তিনি বি.এ ও এল.এল.বি পাস করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বিপ্লবী সমিতির পক্ষ থেকে নিজ জেলা চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগ করে চট্টগ্রামেই কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মাস্টার দা’র একান্ত বিশ্বাসভাজন হিসেবে গোপন সব সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়-দায়িত্ব পালন করতে আরম্ভ করলেন। তাঁর হাত ধরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় প্রীতিলতা, কল্পনা দত্ত প্রমুখ বিপ্লবী নারীরা গোপন সশস্ত্র আন্দোলনে সামিল হন। চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ এবং জালালাবাদ যুদ্ধের ইতিহাস কম বেশি সবার জানা। পূর্ণেন্দু দস্তিদার ছিলেন সে যুদ্ধের পূর্বাপর সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। কলকাতায় সে যুদ্ধের সপক্ষে তার কর্ম তৎপরতার প্রমাণ বিশ্বখ্যাত লেখক নীরদ সি চৌধুরীর বই “ঞযু ঐধহফ এৎবধঃ অহধৎপয”-এ পাওয়া যায়। এরপর সারা চট্টগ্রামে তিন চার বছরব্যাপী ইংরেজদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গোপন সশস্ত্র সংগ্রামে তিনি ছিলেন মূল সংগঠক। তাই চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ নিয়ে তাঁর রচিত মহাকাব্যিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম’-এর মত বড় রচনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। বইটিতে তিনি নিস্পৃহভাবে নানা তথ্য, উপাত্ত ও ছবি দিয়ে চট্টগ্রামের সে অনন্য সাধারণ ঘটনার আলেখ্য তুলে ধরেছেন। সে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য লেখকদের রচনার মত তাঁর বইতে কোথাও সাবজেক্টিভিজম চোখে পড়ে না। নিজেকে আড়াল রাখার এ এক তাঁর বিরল গুন। সন্ত্রাসবাদী পথের ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক পরিসরে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতরের প্রবল উত্থান ও মানুষের মুক্তির সংগ্রাম দেখে খুবই বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া জেলখানাতে বন্দি সব স্বাধীনতা সংগ্রামী ভবিষ্যৎ বিপ্লবী সংগ্রামের নিশানা ঠিক করে ফেলেন। তাঁরা সবাই মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে সারা বাংলার জেলখানাগুলো মার্কসবাদীদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সেলে পরিণত হয়ে পড়ে। ফলে ১৯৪০ সালের দিকে রাজবন্দিদের যখন জেল থেকে ছাড়া হতে থাকে তখন তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ ছেড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে কমিউনিস্ট হিসেবে বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এর ফলে অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে এসময় এক গুণগত পরিবর্তন ও বিপ্লবী উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। পূর্ণেন্দু দস্তিদারও ছিলেন এ মিছিলের সামনে সারির একজন অগ্রসর যোদ্ধা ও বিপ্লবী। তিনি ১৯৪০ সালে কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির বিপ্লবী মর্যাদাপূর্ণ একজন সদস্য নির্বাচিত হন। এজন্যই পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর পরই তাঁকে ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বোয়ালখালী-পটিয়া আসন থেকে কমিউনিস্ট প্রার্থী হিসেবে জেলখানাতে থেকেই আরেক স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনোদ চৌধুরীকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি জেল থেকে মুক্তি পাননি। প্রায় দুই বৎসর পর ১৯৫৬ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবী সামরিক শাসন জারির পর দিনই তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৯৬২ সালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। জেলখানাতেই তিনি তাঁর সহজাত মননশীলতার তাগিদে লেখালেখি কাজ শুরু করেন। এসময়ে তিনি ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম’ বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। কিন্তু গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ সে পাণ্ডুলিপি বাজেয়াপ্ত করে ফেলে। সমস্ত তথ্য-উপাত্ত আবার জোগাড় করে নতুন করে পাণ্ডুলিপি তৈরি করার মুহূর্তে ১৯৬৩ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৭ সালে তাঁর স্ত্রীর উদ্যোগে বইটি প্রকাশিত হয়। ইতোপূর্বে বইটি প্রকাশের জন্য বাংলা একাডেমি তাঁকে দুই হাজার টাকা প্রদান করেন। ১৯৬৯ সালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। যেমন ব্রিটিশ বেনিয়ারা তেমনই পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তাঁকে তারা কোনদিন মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেয় নি। কিন্তু তাঁর বিপ্লবী দৃঢ়তা ও ত্যাগ-তিতিক্ষা তাঁকে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এক কিংবদন্তির রাজপুত্রে পরিণত করে। জেলে থেকেও এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে তিনি ন্যাপ থেকে প্রার্থী হন। তাঁর বিজয় সম্পর্কে পটিয়ার সর্বস্তরের মানুষ ছিল একেবারেই নিশ্চিত। কিন্তু পশ্চিম পটিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট রিগিং করে তাঁকে মাত্র শতাধিক ভোটের ব্যবধানে জোর পরাস্ত করা হয়। কারা তাঁকে সেদিন জোর করে হারিয়ে দিয়েছিল তা অনেকেই জানেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সে সব অতি উৎসাহীদের দল আজকের আমাদের জাতীয় জীবনের এই ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী। তাঁর মত মননশীল বিপ্লবীর উপস্থিতি যে আইনসভার মর্যাদা অনেকগুণ বাড়িয়ে দিত তা এসব কূপমণ্ডূকদের বোঝার কথা নয়। পটিয়ার মানুষ সেদিন তাঁর এই ‘পরাজয়ে’ বিস্মিত হয়েছিল। পূর্ণেন্দু বাবু শুধু একজন সার্বক্ষণিক ও জনপ্রিয় বিপ্লবী রাজনীতিবদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক বড় মাপের এবং বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। শুধু একজন সাহিত্যিক হিসেবে বিচার করলেও তাঁর অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় মেলে। বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর অনুবাদে মোপাসাঁ ও চেখভের গল্পের বেশ কয়েকটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তাঁর এই সাবলীল অনুবাদ বাংলা গল্প সাহিত্যকে এক ভিন্ন মাত্রায় ঋদ্ধ করে। পার্ল বাকের একটি উপন্যাসও তিনি অনুবাদ করেন। ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম’ বইটি ১৩৭৯ সালে শ্রেষ্ঠ ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে পুরস্কৃত হয়। এছাড়াও চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠ লোককবি যিনি তাঁর অনুপ্রেরণাতেই কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন, সেই কবিয়াল রমেশ শীলের কবিতা ও গান নিয়ে রচনা করেন ‘কবিয়াল রমেশ শীল’ নামে লোকসাহিত্যের এক অমূল্য দলিল। তিনিই মূলত সেদিনের কবি গানকে অশ্লীলতা ও ধর্মীয় ভাঁড়ামি থেকে মুক্ত করে গণমানুষের সংগ্রামের শাণিত হাতিয়ার রূপান্তরের ব্যাপারে কবিয়ালদের উৎসাহিত করেন। বিপ্লবী সংগ্রামে তাঁর বহুমাত্রিক অবদানের এ এক অনন্য নজির। তাঁর সম্পর্কে অনেকে যা জানেন না তা হলো, তিনি একজন শিল্পীও ছিলেন। জেলের মধ্যে বসে নানা ধরনের স্কেচ করতেন তিনি। মাস্টার দা ও প্রীতিলতার যে প্রতিকৃতি তিনি স্কেচ করেছিলেন তাই এখন তাঁদের ছবি হিসেবে বাজারে প্রচলিত আছে। এমনকি তাঁর নিজে লেখা বইয়েরও প্রচ্ছদ নিজে আঁকতেন। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন এদেশের অপর দুই বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তের সমগোত্রীয়। কিন্তু বরাবরই ছিলেন অন্তর্মুখী। তখনকার দেশের দুই বিখ্যাত কবি জসীম উদ্দীন ও সুফিয়া কামাল চট্টগ্রামে এলে প্রায়ই তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করতেন। বুদ্ধিজীবী মহলে তাঁর সমসাময়িক অন্য কোনো বিপ্লবীর এমন গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। এটাও বিপ্লবী সংগ্রামকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যাভিসারে সমস্ত জীবন প্রকৃত অর্থেই দেশমাতৃকার বেদীমূলে নিঃশেষে নিবেদন করে একজন প্রকৃত বিপ্লবী যোদ্ধার মতই ১৯৭১-এর ৯ মে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রান্তরে শহীদের মৃত্যুবরণ করেন। বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন এ ত্যাগী, ব্যতিক্রমী ও প্রতিভাধর বিপ্লবীর জীবন পাঠ আজকের এই অন্ধকার সময়ে প্রত্যেক সচেতন রাজনৈতিক ও সমাজকর্মীর জন্য অত্যন্ত জরুরি এক কর্তব্য। লেখক : সভাপতি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..