‘সরকার নির্ধারিত দাম পায় না কৃষক’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বগুড়া সংবাদদাতা : গত ৩ মে থেকে সারা দেশব্যাপী সরকারিভাবে শুরু হয়েছে ধান, চাল সংগ্রহ অভিযান। সরকার আপদকালিন খাদ্য মজুত গড়ে তোলা এবং কৃষককে ধান চাষে উব্ধৃতকরণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিয়ে খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এবার মণ প্রতি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪০ টাকা। কিন্তু বগুড়ার কৃষকরা ধানের এই দাম পায় কি-না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এলএসডি গুদাম কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, ফরিয়া, মজুতদার ও খাদ্য ব্যাবসায়ীরা কুষকের কষ্টার্জিত ধান দিচ্ছে গুদামে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান গুদামে বিক্রি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ আদ্রতা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু কৃষক অধিকাংশ সময় এই শর্ত নিশ্চিত করতে পারে না। সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ঠিক এই জায়গাতেই সুযোগটা নেয়। এ ক্ষেত্রে ঐ মধ্যস্বত্বভোগী চক্র বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পেশার মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে (যার মধ্যে প্রকৃত কৃষকের নাম নেই) কৃষক অ্যাপসের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন এবং ব্যাংকে কৃষক একাউন্ট খোলে। এদিকে গুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি গোপন সমঝোতার মাধ্যমে একই ব্যক্তি গুদামে টনকে টন ধান ঢুকিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, গুদাম থেকে সরবরাহকৃত খালি বস্তা ভর্তি করেই গুদামে ধান দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে গুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিরাই কেবল বস্তা পেয়ে থাকেন। ঐ বস্তা ভর্তি করেই গুদামে ধান দিতে হয়। বিভিন্ন খাদ্য গুদাম সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ট্রাক ও ভটভটি ভর্তি টনকে টন ধানের বস্তা গুদামে ঢুকলেও সেখানে কোনো কৃষককে খুঁজে পাওয়া যায় না। গুদাম কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট সদস্য ও মধ্যস্বত্বভোগীরা জানান, এক মেট্রিক টন ধান গুদামে ঢুকাতে গেলে ঘাটে ঘাটে টাকা খরচ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে গুদাম কর্মকর্তা ছাড়াও প্রভাবশালী, ক্ষমতাশালী দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করতে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। স্থানীয় কৃষকরা এই সিন্ডিকেট সদস্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরু্েদধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি দামে ধান ক্রয় করার অনুরোধ করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..