অবিলম্বে এই অমানবিক কাজ বন্ধ হোক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার এবার ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই সেখানকার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এবং সেই আশঙ্কাটা যে অমূলক ছিল না- সেটা বোধহয় এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার কোনো ধরনের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে বাংলাভাষী মুসলমানদের রাতের আঁধারে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এসব মানুষ অবৈধভাবে সেদেশে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার কিংবা বিজেপি কি এটা জানে না যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা আন্তর্জাতিক আইনে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন? না জানার কোনো কারণ নেই। তবু তারা শুধু ধর্মীয় কারণে খেটে-খাওয়া, দিনমজুর, সাধারণ মানুষদের সঙ্গে এই অন্যায়, অমানবিক কাজ করছে বলে দেশটির ভেতর থেকেই অভিযোগ ওঠেছে। গণমাধ্যমে যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে বলা হচ্ছে, ১ জুন থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার অন্তত ২১টি চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বিজিবি। অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকে। সীমান্তে ঠেলে দেওয়া মানুষদের অনেকেই চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত শূন্যরেখায় রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-বজ্রপাত উপেক্ষা করে দিনরাত অবস্থান করছেন। বাঁচার আকুতি জানিয়েও অনেকক্ষেত্রে ফল হচ্ছে না। এটা এক চরম অমানবিক আচরণ। এবং এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। শিশুসহ পরিবারগুলোকে খাবার, পানীয় এবং চিকিৎসাসেবা ছাড়া খোলা মাঠে ফেলে রাখা চরম নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মার্চে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিতর্কিতভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়। নাম বাদ পড়া এসব মানুষ এখন আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক’ নাগরিকত্ব যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার (এনআরসি) ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছিল। সে সময় রাজ্যের হাজার হাজার বাংলাভাষীকে ডিটেনশন সেন্টারে (হোল্ডিং সেন্টার) বন্দি করা হয়েছিল। বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বিএসএফ ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। তাদের মধ্যে ১২০ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তবে গত মে মাস থেকে আবার সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অমানবিক পুশ ইনের ঘটনা বন্ধে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ যথার্থই বলেছে, ভারতসহ যেকোনো দেশ থেকে লোকজনকে ফেরত আনতে হলে তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। কাজেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মানবাধিকার এবং মানবিক প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সেটা করতে হবে। তাই একতরফাভাবে লোকজনকে সীমান্তের ভেতরে জোর করে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। এটা করা অবৈধ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ রাতের অন্ধকারে সীমান্তে লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর অপপ্রয়াস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশের এই অবস্থান মেনেই ভারতকে এ ব্যাপারে মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভারত যতদিন সীমান্ত হত্যা, পুশ ইনের মত অমানবিক ও অনায্য কাজ বন্ধ না করবে, তত দিন বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে তারা প্রতিবেশীসুলভ শ্রদ্ধাবোধ আশা করতে পারে না। তাই অবিলম্বে, এই ধরনের অমানবিক কাজকে ভারতের বন্ধ করতেই হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..