‘প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমিক স্বার্থবিরোধী’
বরিশাল সংবাদদাতা :
বরিশাল টিইউসির নেতারা বলেছেন, বিএনপি সরকার সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা করেছেন। এর মধ্যে ২৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা বৈদেশিক ঋণ দ্বারা পূরণ করা হবে। এই ঋণের টাকার সুদ সবটাই জনগণকে দিতে হবে। এককথায় বলা যায় এ বাজেট বিদেশ নির্ভর, লুটেরা ধনি বণিক শ্রেণির বাজেট। দারিদ্র্যে হার কমানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শ্রমিক কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা, রেশন দেয়ার কোন পরিকল্পনা এই বাজেটে নেই। এছাড়া আমাদের দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এ বাজেট শ্রমিকের স্বার্থের বিরোধী।
গত ৯ জুন সকাল ১০টায় বরিশাল অশ্বনী কুমার হল চত্বরের উত্তর পার্শ্বে ফকিরবাড়ী রোড সংলগ্ন এক শ্রমিক সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি এ.কে আজাদ এ কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, স্বপন দত্ত, সভাপতি বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিন মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বরিশাল জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, তুষার সেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পদক বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বরিশাল, শেখ আবুল হাশেম, সভাপতি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল, সেকান্দার সিকদার, সভাপতি বরিশাল ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, জে. কে মুকুল, বিদ্যুৎ শ্রমিক নেতা, রনি তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, নাসির সরদার প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে- ১। ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করা, বিদেশে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা, চাকরি সুরক্ষা, শ্রমিক-কর্মচারীদের রেশন দেয়া, বকেয়া বেতন দেয়া এবং বন্ধ কলকারখানা চালু ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য শিল্প ও শ্রম খাতে বাজেটে বেশি বেশি বরাদ্ধ দেয়া।
২। শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বাজেটে ব্যয় বরাদ্ধ দিতে হবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের রেশন দিতে হবে।
৩। বাজেটে পে স্কেলের কথা থাকলেও মজুরির বিষয়ে কোনো কথা নেই। তাই বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কিছুই বলা হয় নাই, তাই বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিম্নতম বেতন ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা। প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর যাতে সংক্রীয়ভাবে এই মজুরী বৃদ্ধি পায় তার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪। গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু দাসের হত্যার বিচার দ্রুত করা। এবং খুন ধর্ষণ হত্যা, মব সন্ত্রাস, তৌহিদি সন্তাস, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি-নির্যাতন বন্ধ করা।
৫। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। ৬। শ্রমিক ছাটাই শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা, বিদেশে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরি নিরাপত্তার বিধান, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনিত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৭। সাম্প্রদায়িক উস্কানি বন্ধ করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালানার অঙ্গিকার এই বাজেট প্রস্তাবনায় আনতে হবে। এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করার পরিকল্পনার এই বাজেটে ঘোষণা করা।
৮। শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি নিরাপত্তার জন্য নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করা বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি বাধ্যতামূলক করা।
শেষের পাতা
বন্ধ থাকা ৬ চিনিকল চালুর দাবি না মানলে ‘মার্চ টু পিএমও’
প্রস্তাবিত বাজেট সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের পরিপন্থি
কমরেড রেহানা মল্লিক স্মরণে শোকসভা
‘সরকার নির্ধারিত দাম পায় না কৃষক’
তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমিকদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি : স্কপ
বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত ভোগান্তিতে গ্রামের মানুষ
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন