যে পথে আসবে মুক্তি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
লুৎফর রহমানঅর্থনীতিই হচ্ছে সমাজনীতি-রাজনীতির ভিত্তি। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির জন্ম হলেও এর তখনকার একচেটিয়া পুঁজির সেবাদাস শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ ও উঠতি ধনিকদের সীমাহীন শোষণের শিকলে বেঁধে ফেলেছিলো। মানুষ তা মানে নাই, বিদ্রোহ করে। সংঘঠিত হয় ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। আমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করি নতুন দেশ, বাংলাদেশ। নেতৃত্ব দেয় উঠতি ধনিকরা, অর্থনীতির ভাষায় আমরা যাদের পাতি বুর্জোয়া বলি, পাকিস্তানি একচেটিয়া পুঁজি যাদের বিকশিত হতে দিচ্ছিলো না। ছোট পুঁজিকে বড় পুঁজি বিকশিত হতে দেয় না, এটাই বুর্জোয়া অর্থনীতির নিয়ম। তখন বাংলাদেশের ছোট পুঁজি মনে করে দেশ স্বাধীন হলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা নির্বাধ বিকশিত হতে পারবে। কিন্তু একা তো স্বাধীন করা যাবে না, তাই ৬ দফার সাথে তারা মেহনতি মানুষের দাবি ১১ দফাকে যুক্ত করে। স্বাধীনতার পর তারা তাদের লক্ষ্যে এগোতে থাকে। যে যেখান থেকে পারে লুণ্ঠন শুরু করে দেয়। যেমন- রিলিফের মালামাল, বিদেশি সাহায্যের অর্থ, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি, পরিত্যাক্ত কারখানা সবখান থেকে। কারণ, দ্রুত তাদের পুঁজি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছিলো। তখন বঙ্গবন্ধুর গৃহীত রাজনৈতিক কৌশল এদের দমাতে পারেনি। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, সাম্রাজ্যবাদ আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকলেও স্বাধীন দেশে তারা এই লুটেরাদের পক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। ফলে পাকিস্তান আমলের সামরিক-বেসামরিক আমলারা প্রশাসনে কর্তৃত্ব পেয়ে যায় এবং মুক্তিযোদ্ধারা কিনারে পড়ে থাকে। ওদের ষড়যন্ত্রে সামাজিক অবস্থার বিপর্যয় দেখা দেয়। ডাকাতি-রাহাজানি-খুন-ধর্ষণ-লুণ্ঠন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সৃষ্টি হয় মন্বন্তর, খুলতে হয় লঙ্গরখানা। বঙ্গবন্ধু এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের মানসে একদলীয় শাসনের প্রবর্তন করেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মূল অর্জন গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, যা প্রতিক্রিয়াশীলদের অধিকতর সুযোগ এনে দেয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়, যা শতাব্দির বড় ট্র্যাজেডির একটি। অর্থনীতি-রাজনীতি-সমাজনীতিতে ঘটে যায় পটপরিবর্তন, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। দেশ পেছনের দিকে ঘুরে যায়। জারি হয় পাকিস্তান আমলের মতো সামরিক শাসন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলেন। এর আগেই কারাগারে হত্যা করা হলো মুক্তিযুদ্ধের চার ত্যাগী নেতাকে। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধান থেকে কেটে দিলেন এর চার মূলনীতিকে, ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে হলো বিসমিল্লাহ্, বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থলে ধর্মাশ্রয়ী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। মেহনতি মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ সমাজতন্ত্রকে তিনি নিষ্ঠুরভাবে ছাঁটাই করলেন। আর সামরিক শাসন গণতন্ত্রকে যে নির্বাসনে দিয়েছিলো আজো তা নির্মল আকাশে সূর্যের মুখ দেখতে পায়নি। জিয়া লুটেরাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন, তোমরা এগিয়ে চলো টাকা কোনো সমস্যা না। সাম্রাজ্যবাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক অর্থের রজ্জুতে জাতিকে বেঁধে ফেললো। চেতনার ক্ষেত্রে জাতি পিছিয়ে গেলো। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে ধর্মভিত্তিক সংস্কৃতি চালু হলো, মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে যা পরিত্যাক্ত হয়েছিলো। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো কবর থেকে বেরিয়ে এলো। নেমে এলো প্রগতিশীলদের ওপর নির্যাতন। সামরিক শাসনের ছাতার তলে গঠিত হলো নতুন দল বিএনপি। এই দলে জায়গা পেলো অতিবাম, মুসলিম লীগার, রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ অর্থাৎ স্বাধীনতার সব শত্রুরা। সবই করা হলো সাম্রাজ্যবাদের তত্ত্বাবধানে দেশীয় লুটেরা পুঁজির দ্রুত বিকাশের প্রয়োজনে–যে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহী নয়, কমিশন ও বিদেশে অর্থপাচারে আগ্রহী। অর্ধযুগের মাথায় হত্যার ভেতর দিয়ে পতন ঘটানো হলো জিয়ার। ক্ষমতায় এলেন জেনারেল এরশাদ। সামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় তিনিও জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। তিনি জিয়ার অর্থনৈতিক নীতি, বাজার অর্থনীতি অর্থাৎ লুটপাটের অর্থনীতি বজায় রাখলেন। নতুনভাবে সংবিধানে যুক্ত করলেন ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’। তিনি অর্থনীতি-সমাজনীতি-রাজনীতি থেকে রাখঢাক উঠিয়ে দিলেন। ব্যাংকসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভেঙে দিয়ে লুণ্ঠনকে প্রকাশ্য করলেন, যা এখনো বজায় আছে। তিনি গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে সিল মেরে ভোট ডাকাতি চালু করলেন। তিনি রাজনীতিতে চাটুকারিতাকে চরমসীমায় নিয়ে এলেন। সমাজে লজ্জাহীনতা, লাম্পট্য, হত্যা, গুম, ধর্ষণ দুর্নীতি সব খোলামেলা হলো। তিনি বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের সাথে যুক্ত করলেন। এরশাদ স্বৈরশাসন প্রবর্তন করে দোর্দণ্ড প্রতাপের সাথে একটানা ৯ বছর দেশ শাসন করলেন। তার শাসনামলে লুটেরা পুঁজিবাদ শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে গেলো। বেগম খালেদা জিয়া মূলত জিয়ার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক নীতিই অনুসরণ করেন। তিনি পাকিস্তানি ধারাকেই প্রাধান্য দেন। বাজার অর্থনীতিই তার অর্থনৈতিক নীতি হয়। বাড়তি যা করেন ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকাকে আলবদর, রাজাকারের গাড়িতে তুলে দেন, পরবর্তীতে বিচারে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। লুণ্ঠন ও ক্ষমতার রাজনীতিই তার আমলের আদর্শ হয়ে দাঁড়ায়। তার সময়ে সন্ত্রাসবাদের চরম বিকাশ হয়, একসাথে ৫০০ স্থানে সন্ত্রাসীদের বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। হাওয়া ভবনের দুর্নীতি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এ আমলেও লুটপাটের অর্থনীতি লাগামহীন থাকে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের শাসনামল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটির নিকট থেকে দেশের মানুষের অনেক পাওয়ার ছিলো। কিন্তু হিসেবটা গোলমেলে। এই দল একটা প্রহসনের নির্বাচন করে জাতিকে তাক লাগিয়ে দেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোট ছাড়াই ১৫৪ সংসদ নির্বাচিত হন। তারপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতে ভোট কেটে ফেলে। ২০২৪-এর নির্বাচনে বিরোধীদের বিশ হাজার নেতাকর্মীকে জেলে বন্দি করে এক ডামি প্রহসনের নির্বাচন করে সরকারের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকৃত অর্থে দেশের সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এভাবে শাসকরা লুটপাটের স্বার্থে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে দেয়। হাসিনার শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদকে তুষ্ট করতে গিয়ে সরকারের উদারনৈতিক আর্থিক নীতি দেশের সাধারণ মানুষকে সংকটে ফেলে দিয়েছিলো। লুটপাট হয়েছিলো ব্যাংকের টাকা। শেয়ার মার্কেট লুট হয়েছিলো। ক্যাসিনো জুয়া থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছিলো। গুম-খুন-হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠন ছিলো নিত্য ব্যাপার। দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিলো সরকারের সকল শাখা। ছাত্র ও যুব সংগঠন সন্ত্রাসী বাহিনীতে রূপ নিয়েছিলো। রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পিটিয়ে মানুষ মারা হচ্ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বাসে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষিত হচ্ছিলো নারীরা। রাষ্ট্র পুলিশি রাষ্ট্রে, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলো। প্রতিবাদ করলেই হামলা-মামলা। সভা করতে, মিছিল করতে অনুমতি নিতে হতো। প্রায়ই অনুমতি দেয়া হতো না। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছিলো না। ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ থেমে পড়েছিলো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব ফেলেছিলো। অনেক সুযোগ দেয়ার পরও ঋণখেলাপিদের টাকা জমা হচ্ছিলো না, ছিলো না কোনো শাস্তির ব্যবস্থা। রামপাল তাপবিদ্যুতের নামে সুন্দরবনকে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো বিদেশিদের স্বার্থে। ‘আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র’ সরকারের এই নীতির ফলে সমাজে সৃষ্টি হয়েছিলো ব্যাপক বৈষম্য। একদিকে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অন্যদিকে লুটেরা ধনিকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলো সম্পদের পাহাড়। হাসিনার সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে পড়েছিলো। এরশাদের করা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রেখেছিলো। ইসলামি দলগুলোর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলো বিএনপির মতো। জামাতের লোকরা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছিলো। গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন, এই দলে রাজাকারও আছে। দলটি সারাদেশে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তুলছিলো- যা বিএনপি করেনি, অথচ উচিত ছিলো বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশের উদ্যোগ নেয়া। হাসিনার আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত চার মূলনীতি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র থেকে সরে পড়েছিলো। হয়ে পড়েছিলো ফ্যাসিবাদী। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিলো দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল সরকার। এটা ছিলো মূলত জামাতের সরকার। জনগণের প্রতি অবহেলা এবং নীরবে লুণ্ঠন ছিলো এই সরকারের নীতি। ইউনূস সরকার দেশের স্বার্থকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দিয়েছিলো। ক্ষমতা ছাড়ার তিনদিন আগে করা অসম বাণিজ্যচুক্তি এর প্রমাণ। শোনা যায়- আরো গোপন চুক্তি আছে, যা রণনৈতিক দিক থেকে দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। বর্তমান বিএনপি সরকার, তারেক রহমানের সরকার, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার। এই সরকার সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় হয়তো এখনই হয়নি। তবে সকাল বলে দেয় দিনটি কেমন যাবে। এই সরকার সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছে। অসম বাণিজ্য চুক্তিটির বিষয়ে কিছু বলছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আগ্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গিয়ে ইরানের পক্ষে একটা বিবৃতি দিতে পারেনি। রাশিয়া থেকে তেল কিনতে তাকে আমেরিকার অনুমতি নিতে হয়। এখানে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি এসে যায়। সরকার একজন ঋণখেলাপিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করেছে। উলঙ্গ শোষণের বাজার অর্থনীতিই তার অর্থনৈতিক নীতি। উত্থাপিত তার প্রথম বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি, সব স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে লুটেরা ধনিকগোষ্ঠীর। তাই সাম্রাজ্যবাদ জাতিসংঘে সভাপতির পদ দিয়ে তাকে পুরস্কৃত করেছে। বর্তমান সরকারটি জামাত ও বিএনপির মিলেমিশে সরকার। ৫৫ বছর সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ প্রভূত উন্নতি করেছে, যার সিংহভাগ লুণ্ঠন করেছে লুটেরাগোষ্ঠী। বাংলাদেশে জনগণের সরকার জনগণের দ্বারা জনগণের মধ্য থেকে এখনো হয়নি, যারা বদল করবেন বর্তমান ব্যবস্থা, গড়ে তুলবেন এক মানবিক সমাজ। সেজন্য দেশপ্রেমিকদের এক হয়ে লড়াই করতে হবে, যার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বাম শক্তির দায়িত্ব সর্বাধিক। কিন্তু নানা কারণে বামশক্তির সাথে দেশের মানুষের সেভাবে মিথস্ক্রিয়া ঘটছে না। এ অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। এটাই বড় বিষয়। একে পুঁজি করে আজ বামশক্তিকে এগোতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সংগঠন। গড়ে তুলতে হবে ছাত্র আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক ও নানা পেশাজীবীদের আন্দোলন। এর মধ্য থেকেই গড়ে ওঠবে নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন পথ–যে পথে আসবে মুক্তি। লেখক: কলামিস্ট মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব লেখকের। -সম্পাদক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..