কার্বন শুষে নেবে ব্যাকটেরিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা পরিবেশ ডেস্ক : ই. কলাই। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া, যার নতুন একটি স্ট্রেইন সৃষ্টি করেছেন ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা, যা প্রকৃতি থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে নেবে। নিজের শক্তি জোগাতেই তাদের কার্বন ডাই অক্সাইড প্রয়োজন। বিজ্ঞানীদের এ উদ্ভাবন ব্যাকটেরিয়ার বিপাকক্রিয়ায় অসীম সম্ভাবনার ইঙ্গিতবাহী। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গোটা বিশ্ব এখন কার্বন নিঃসরণ নিয়ে সংকটে রয়েছে। কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করা হচ্ছে হাজার ধরনের উদ্যোগ। এ অবস্থায় এমন একটি ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব মানুষকে একটু হলেও স্বস্তি দেবে। ইসরায়েলি বাজ্ঞানীদের তৈরি করা এ ব্যাকটেরিয়া কৃত্রিমভাবে, আরও ভালো করে বললে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি। গত ২৭ নভেম্বর এ সম্পর্কিত গবেষণা নিবন্ধটি ‘সেল’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ও ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের জীববিজ্ঞানী রন মিলোর মতে, বিশ্ব কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে বিপাকে রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা চেয়েছি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে, যার মাধ্যমে কার্বন শোষণ আরও সহজ হয়। একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে, হাতে অনেকগুলো বিকল্প থাকা জরুরি। ই. কলাই সাধারণত প্রকৃতি থেকে কার্বন শোষণ করে। বিভিন্ন জৈব যৌগই এর শক্তির উৎস। বিজ্ঞানীরা জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে এই শক্তির উৎসকে কার্বন থেকে কার্বন ডাই অকসাইডে রূপান্তর করেন। শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, কাজটি তত সহজ ছিল না। একটু সহজ করা যাক। বিশ্বটাই উৎপাদক ও ভোক্তায় বিভক্ত। প্রকৃতিতে যেমন, সবুজ উদ্ভিদ থেকে শুরু করে নানা প্রাণ রয়েছে, যারা নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অন্যের জন্যও খাদ্য উৎপাদন করে। অনেকটা শ্রমিকের মতো। তাদের শ্রমে-ঘামেই তো এই বিশ্বটা গড়ে উঠেছে। আর আরেক দল আছে ভোক্তা। এরা কিছুই উৎপাদন করে না, শুধু নেয়। অন্যেরটা নেয়। পারলে লুট করে। সমাজের উঁচু তলায় থাকলে এ শ্রেণির দেখা মিলবে। এমনটা কিন্তু প্রকৃতিতেও আছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মানুষ। নিজের কোনো খাবার, বা কিছুই উৎপাদন করে না, প্রকৃতির অন্য সব উৎপাদন দখল করে। এই প্রথম শ্রেণির প্রাণীরাই পৃথিবীর জীবাশ্ম ও খাদ্য ও জ্বালানির সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। এরা প্রকৃতি থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, তা থেকে খাদ্য উৎপাদন করে। আর ওই ভোক্তা শ্রেণি উৎপাদিত খাদ্য গ্রহণ করে, তা থেকে নিজের শক্তিটি শুষে নিতে গিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয় কার্বন ডাই অক্সাইড। যতদিন এ দুইয়ের ভারসাম্য থাকে ততদিন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যখনই এ ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই বিপদের অন্ত নেই। আর এ বিষয়টিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ। মানুষ নামক ভোক্তা প্রাণীটি পৃথিবীকেই তার কর্মকাণ্ড দিয়ে গিলে খেতে বসেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..