বায়ুদূষণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দেশের বায়ুদূষণের অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে, পাশাপাশি বায়ুদূষণের উৎসও দিন দিন বাড়ছে। বায়ুদূষণ রোধে মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। দূষণ ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর; কিন্তু তা দূষণ কমাতে খুব বেশি কার্যকর হচ্ছে না। যানবাহনের দূষণ, নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ নেই। বায়ুদূষণের জন্য মূলত দায়ী শহরের আশপাশের ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলা। বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে চলতি বছরের মার্চে একটি গবেষণা প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংক। তাতে দেখা যায়, দেশে বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ। আট বছর ধরে এই তিন উৎস ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশের ইটভাটাগুলোর ওপরে একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দেশে ইটভাটার সংখ্যা ৪ হাজার ৯৫৯। পরে ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে দেশের ১১টি শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, সাভার, ময়মনসিংহ, রংপুরের বায়ুর মান গত সপ্তাহের শুরুতে খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রামের বায়ুর মান কিছুটা ভালো ছিল। খুলনা ও কুমিল্লার বায়ুর মান চট্টগ্রামের চেয়ে খারাপ ছিল। বায়ুর মান অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল সিলেট শহরে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা যে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, পরিবেশ অধিদপ্তরও তা স্বীকার করছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ এখন ধুলায় আচ্ছন্ন। বাড়ছে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বাতাসে উড়ছে বিভিন্ন রোগের জীবাণু। বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যান্য রোগের আক্রমণ। ঢাকার দূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকেরা বলছেন, চলতি মাসে এ পর্যন্ত আট দিন (দিনের বেশির ভাগ সময়) ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাতাসে ভারি ধাতু ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা বেড়ে গেলে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুজনিত সমস্যা বেড়ে যায়, বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। বায়ুদূষণের কারণে নাক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাযুদূষণের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাকের নানা ধরনের অসুখ হয়। বাতাসে থাকা নানা ক্ষতিকর উপাদান গলা ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর উপাদান। শিশুরা বাইরে বেশি থাকে বলে আক্রান্ত হয়। আর বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যায়। এ কারণে সহজেই তারা আক্রান্ত হয়ে যায়। শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে ধুলাবালির সরাসরি সম্পর্ক আছে। ফলে দূষণ কমানোর বিকল্প নেই। শিশুদের ব্রংকোলাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, যক্ষা এসব রোগ ধুলাবালির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ধুলাবালির কারণে অ্যাজমা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। শীতকালে বাতাসে ধুলিকণা বেশি থাকে, ধুলিকণা ফুসফুসে গিয়ে তাদের অবস্থা আরও খারাপ করে দিচ্ছে। এ কারণে এসময় শ্বাসতন্ত্রের রোগী বেড়ে যায়। বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত বায়ুর দেশের তালিকায় ৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম উঠে আসে শীর্ষে। তাদের হিসাবে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের ভাসমান বস্তুকণার পরিমাণ ছিল গড়ে ৯৭ দশমিক এক শূন্য মাইক্রো গ্রাম। বায়ুদূষণ মোকাবিলার প্রথম কাজ হচ্ছে দূষণের উৎস বন্ধ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা আর জলাশয়গুলোকে রক্ষা করা। সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..