লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বৈরুতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস টার্গেট করে বিক্ষোভ হয়েছে। বৈরুত থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ‘আওকার’ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। দূতাবাস লক্ষ্য করে বিক্ষোভ শুরু করে হিজবুল্লাহপন্থি একটি গ্রুপ। কিন্তু দূতাবাসগামী সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনি স্থাপন করে বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করে লেবাননের সেনাবাহিনী। ফলে তারা ওই দূতাবাসে পৌঁছতে পারেনি। বিক্ষোভে অংশ নেয় কমিউনিস্ট পার্টি, সিরিয়ান সোশ্যাল ন্যাশনালিস্ট পার্টি এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা। বিক্ষোভে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেফ্রে ফেল্টম্যান লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিয়ে যে মত দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তারা এই বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করে। সেনাবাহিনীর গড়ে তোলা নিরাপত্তা বেষ্টনির কাঁটাতার কাউকে কাউকে কাটতে দেখা যায়। এ সময় কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। সৃষ্টি হয় দাঙ্গা পরিস্থিতি। এর আগে গত ৭ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপ এবং একই ধরনের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসগুলোতে কর আরোপ প্রস্তাবের প্রতিবাদে লেবাননে বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। এই প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক সংকট, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ। হোয়াটসঅ্যাপে কর বাতিলের আন্দোলন পরিণত হয় তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া ও জীবনমানের অবনতির জন্য সরকারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভের মুখে ২৯ অক্টোবর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। তবে প্রেসিডেন্টের অনুরোধে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হারিরি। হারিরি আর পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী নন। এক বিবৃতিতে সাদ হারিরি ইতোমধ্যে তা নিশ্চিত করেছেন। তবে সাদ হারিরির পদত্যাগের পর থেকেই নতুন সরকার গঠনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে হিজবুল্লাহ। ইরান সমর্থিত দলটির উপপ্রধান শেখ নাঈম কাসেম রয়টার্স-এর কাছে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত একটি সরকার প্রতিষ্ঠায় লেবাননে জনগণের সরকার গঠনে বাধা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। কমিউনিস্ট পার্টি, সিরিয়ান সোশ্যাল ন্যাশনালিস্ট পার্টিসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনও হিজবুল্লার সাথে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একই ইস্যুতে অভিন্ন আলাপ করে আসছিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..