আন্দোলনকারী কিশোরের মৃত্যুতে কলম্বিয়ায় বিক্ষোভে নতুন গতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : দুর্নীতি এবং আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। সেখানে ডাকা হয়েছে দেশব্যাপী ধর্মঘট। আন্দোলনে সমর্থন রয়েছে দেশটির লাখ লাখ মানুষের। তবে এরইমধ্যে কলম্বিয়ার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন পুলিশের গুলিতে নিহত এক আন্দোলনকারী কিশোর। ডিলান ক্রুজ নামের ওই কিশোর তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২৬ নভেম্বর মারা যায়। মৃত্যুর পর ডিলান ছিলেন ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বেশি ট্রেন্ডিং। সাড়া ফেলেছেন টুইটারেও। একদিনের মধ্যেই তার নামে টুইট হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানী বোগোটার রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন ডিলান। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পরেও বেঁচে ছিলো ডিলান। আইসিইউতে দুদিন থাকার পরে মারা যায় সে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব চেষ্টা সত্যেও তা ব্যর্থ করে ডিলান ক্রুজ মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর পর বিক্ষোভ নতুন গতি পেয়েছে। তার গুলিবিদ্ধ হবার এবং তার পরের কয়েক মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে নিপীড়ণের যে অভিযোগ এনেছিলেন তাও এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গেছে। মৃত্যুর দিনেই তার স্কুল থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে বেরুনোর কথা ছিলো। শিক্ষায় ঋণ না পেয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলো ডিলান। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এ দাবি অস্বীকার করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ডিলানের বিক্ষোভরত মুখের একটি ছবি ক্রমেই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়ে উঠছে। ডিলানের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা যেন পুরো কলম্বিয়া এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ছিল। তার সম্পর্কে সর্বশেষ খবরের অপেক্ষায় ছিল পুরো দেশ। এখন তার ঘটনা অন্যদের সাহস আর প্রেরণা যোগাচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আন্দোলনে নিহত হয়েছেন ৪ জন। আহত হয়েছে প্রায় ৩৫০ বিক্ষোভকারী ও ১৮২ পুলিশ সদস্য। ডিলানের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে এবং শান্তিপূর্ণভাবে যাতে বিক্ষোভ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এদিকে কলম্বিয়ায় বিক্ষোভ দমনে রাজপথে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডুক বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে যৌথ টহলে অংশ নেবে সেনা সদস্যরা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কলম্বিয়ার সব জনসাধারণের পক্ষ থেকে আমরা ভাঙচুর, নৈরাজ্য ও লুটতরাজ সর্বোতভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বিক্ষোভ পুনরায় শুরু হলে পুলিশ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা বোগোটার ন্যাশনাল পার্কে জড়ো হয়েছিলেন। এছাড়া দেশটির কংগ্রেস ভবন বলিভার প্লাজার কাছেও জড়ো হয়েছিলেন তারা। এটি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভবনের পাশেই অবস্থিত। রাজধানী বোগোটায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে এরপরও রাজপথে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..