রাজনৈতিক দল বিলুপ্তে আইন সুদানে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সুদানের অন্তর্বর্তী কাউন্সিল ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিকে (এনপিসি) বিলুপ্তে আইন করেছে। সামরিক ও বেসামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত এ কাউন্সিল নারীদের পোশাক ও চলাচলের স্বাধীনতা খর্বকারী একটি বৈষম্যমূলক আইনও বাতিল করেছে । ১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করা বশির তিন দশক ধরে উত্তরপূর্ব আফ্রিকার এ দেশটি শাসন করে আসছিলেন। গণআন্দোলনের মুখে চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। বশিরকে উৎখাতের পর থেকেই তার দলের বিলুপ্তি ও নারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপকারী আইনটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সোচ্চার ছিলেন। এনসিপির পতনে যে আন্দোলন হয়েছে, নারীরাই তার সামনের সারিতে ছিলেন। অন্তর্র্বর্তী কাউন্সিল তাদের আদেশে এনসিপির সম্পদ জব্দে একটি কমিটি করা হবে বলেও জানিয়েছে। বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদক নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা বলছে, বাশারের দল জনগণের যে সম্পদ লুট করেছে তা ফিরিয়ে দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘সুদানের জনগণের লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধার করতেই এ পদক্ষেপ,’ টুইটারে বলেছেন হামদক। নতুন আইনে ‘১০ বছরের জন্য এনসিপি বা তাদের প্রতীক কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বশিরের শাসনামলে নারীদের পোশাক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল। ইসলামি শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যাসম্বলিত ওই আইনটিও বাতিল করেছে অন্তর্র্বর্তী কাউন্সিল। এ আইনের অধীনে প্রতিবছরই হাজারো নারীকে গ্রেপ্তার করা হত বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। বাশারের ক্ষমতাচ্যুতির পর উত্তরপূর্ব আফ্রিকার এ দেশটিতে চলতি বছরের ২৫ নভেম্বরই প্রথম নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের প্রত্যয় নিয়ে হওয়া আন্তর্জাতিক দিবসটি পালিত হয়। এদিকে আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বেনি শহরের কাছে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ব্যর্থতা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়তে থাকার মধ্যে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটলো। ১৯৯৯ সাল থেকে ডিআর কঙ্গোয় মোতায়েন রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন। বাংলাদেশসহ বহু দেশের সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত ওই মিশন সেখানে নিয়োজিত রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার সেনা সদস্য ও পর্যবেক্ষক, ১৩ হাজার পুলিশ ও অন্তত চার হাজার বেসামরিক কর্মকর্তা রয়েছে। হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার ও জাতিসংঘ বাহিনী তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জোনাস ক্যামবেলে নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘তাদের (শান্তিরক্ষা মিশন) হয় আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে নয় আমাদের দেশ ত্যাগ করতে হবে। আমরা মারা যাচ্ছি, আর তারা শুধু দেখছে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..