কৃষকদের পেনশন দেবে কেরালার বাম সরকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : কৃষকদের সহযোগিতায় ভারতের কেরালা রাজ্যের সরকারের উদ্যোগে তৈরি হলো ‘ফার্মারস ওয়েলফেয়ার বোর্ড’। সংশোধনীসহ এই বিল কেরালা বিধানসভায় পাশ করেছে সরকার। দেশের প্রথম এই কেরালা সরকার এমন অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কেরালা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী জানান এই বোর্ড তৈরির জন্য প্রথম ১৫ সদস্যের এক টিম তৈরি করেন। এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো কৃষক। ন্যূনতম ২ একর থেকে ১৫ একর জমি যাদের আছে তারাই পাবেন এমন সুবিধা। কৃষকেরা এই প্রকল্পে মাসিক ১০০ টাকা করে জমা করতে পারবেন, সরকার সমপরিমাণ বা ২৫০ টাকা অব্দি ওই খাতে জমা করবেন। ৫ বছর ধরে এভাবে এই প্রকল্পে টাকা জমা করলে ৬০ বছর বয়সের পর থেকে ওই কৃষককে পেনশন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কেরলা সরকার। এছাড়াও কৃষকদের রোগ-ব্যাধি, মেয়ের বিয়ে, ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প থেকে বিশেষ সুযোগ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কেরালার বাম সরকার। চলতি বছরের জুলাইয়ে অনবরত বৃষ্টির পাশাপাশি ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয় কেরালা। কিন্তু বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ার পরও কেরালাকে কোনও বাড়তি আর্থিক সাহায্য করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকি কেন্দ্রের সরকার আটকে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেয়া ৭০০ কোটি টাকা সাহায্যের প্রস্তাব। তবুও বন্যা কবলিত লোকজনকে উদ্ধারের বাম সরকার শতভাগ সফল ছিল। এমনকি এখনো চলছে ত্রাণ বণ্টন এবং পুর্নবাসন এর কাজ। রাজ্যে মোট ৩০৫টি ত্রাণ শিবিরে ১৬ হাজার ৭৬৭টি পরিবারের মোট ৫৯ হাজার ২৯৬ জনকে সহায়তা করে কেরালার বাম সরকার। পরিবার প্রতি ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দেয়া হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া হয় চাল, আটা, চিনি ও জামাকাপড়। এই বছরের বন্যাতে প্রাণ হারান ১০৪ জন মানুষ। সম্প্রতি একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের বন্যায় কেরলে মোট ৩১ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি তছনছ হয়ে যায়। কেরালার বন্যায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি জানান, কেরালার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। ফলে টাকার অঙ্কে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রাজ্যের বার্ষিক বাজেট-বরাদ্দের চেয়েও বেশি। বন্যায় রাজ্যের ৫৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে কেরালার কৃষি ব্যাবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ কৃষক নি:স্ব হয়ে যান। এছাড়া গত বছরও আগস্ট মাসে কেরালার বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণ হারান প্রায় ৪০০ জন মানুষ। ফলে সেই পরিস্থিতি থেকে এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাম শাসিত কেরালা। এমন অবস্থায় পেনশনের ঘোষণা কৃষকদের দেহে প্রাণ ফিরিয়েছে। ফলে দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি খুশি কেরালার ভোটাররা তাদের বাম সাংসদের কাজে। নীতি আয়োগ কমিটির সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে, কেরালার ৫২.৪% ভোটার তাদের সাংসদের কাজকর্মে খুব সন্তুষ্ট। এমনকি স্বাস্থ্য সূচকের নিরিখে দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে বাম শাসিত কেরালা। ভারতের অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে, গত ২০ বছরে দেশটিতে প্রায় ৩ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন প্রায় ৪০ জন কৃষক। ভারতীয় কৃষকদের বিপন্নতা বর্ণনাতীত। ক্ষুদ্র কৃষকেরা সেখানে বাস করছেন দুর্যোগের কিনারায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খড়া, বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা, করপোরেট বাজার ব্যবস্থার উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে টিকতে না পারায় আত্মহত্যাই সেখানকার কৃষকদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষকদের আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধান কারণ ঋণের বোঝা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুরক্ষার প্রশ্নে কার্যকর নীতি-পরিকল্পনার অভাব থাকার কারণেই সেখানে ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। তাদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ঋণের বোঝা থাকা, খরা ও আয় কমে যাওয়া ভারতের গ্রামাঞ্চলে কঠোর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ভারতীয় কৃষির ভবিষ্যতকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কৃষক ফেডারেশনের পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ৯৪ শতাংশ কৃষক উৎপাদিত পন্য নূন্যতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে সংকট সমাধানে বাম শাসিত কেরালা সরকারের ‘ফার্মারস ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ একটি দৃষ্টান্ত হতে চলছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..