পুরান ঢাকায় হকারদের অবরোধ

৩ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত ২৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হকাররা মিছিল নিয়ে এসে চার থানার (বংশাল থানা, কতোয়ালী থানা, সূত্রাপুর থানা, ওয়ারী থানা) সংযোগস্থল রায়শা বাজার চৌরঙ্গী অবরোধ করে। সেখানে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ৪০ মিনিট পুরান ঢাকা অবরোধ করে সমাবেশ করে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবীর। বক্তব্য রাখেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা শাহিনা আক্তার, মো. ফিরোজ, আনিছুর রহমান পাটোয়ারী। সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুলিশ প্রশাসন নির্বিচারে হকার উচ্ছেদ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্যকারী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এ বছর এপ্রিল মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার জনাব আসাদুজ্জামান মিয়া দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদ্বয়ের সাথে পরামর্শক্রমে হকারদের ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ প্রদান করেছিলেন। সরকারি ছুটির দুইদিন পূর্ণদিবস এবং বাকি ৫ দিন বেলা ৩টা থেকে। সেই নিয়ম মেনে হকাররা শৃংখলার মধ্য দিয়ে জীবন-জীবিকা করে আসছিলেন। ক্যাসিনো কাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন হকারদের জোরপূর্বক ফুটপাত থেকে তুলে দেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার, জেল-জরিমানা অন্যদিকে পুলিশের মামলা-হামলা-নির্যাতন-মালামাল নষ্ট-লুটপাট-গ্রেফতার বাণিজ্যে হকাররা দিশেহারা। সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের এই জুলুম নির্যাতন বন্ধ না হলে হকাররা পরিবার পরিজন নিয়ে রাজপথে নামবে। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল হাশিম কবীর বলেন, গত ৬ নভেম্বর আমরা শান্তিপূর্ণ সুশৃংখল মিছিল করার পরও পুলিশ প্রশাসন আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।পরদিনও হকাররা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীর। বক্তব্য রাখেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, শহীদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা মো. ফিরোজ, আনিছুর রহমান পাটোয়ারী, শাহীনা আক্তার প্রমুখ। সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ফুটপাতের হকারদের উপর সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসনের জুলুম-নির্যাতন-মামলা-হামলা- মালামাল নষ্ট-লুটপাট-জেলা জরিমানা-গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে এবং প্রতিদিন মাত্রা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে হকাররা দিশেহারা হয়ে সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমেছে। এই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হকারদের উপর হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধ করা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের কিন্তু পুলিশ যদি মানুষের জান-মালের ক্ষতি করে তা দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সুনামগঞ্জের পুলিশ অফিসার মেহেদী হাসান কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর জলে নেমে মানুষের জীবন রক্ষা করেছিলেন যা পুলিশের মর্যাদা আকাশচুম্বী হয়েছে, আমরা পুলিশের এরকম ভূমিকা দেখতে চাই। তিনি আরও বলেন, হকারদের উপর হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধ না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল হাশিম কবীর বলেন, ঢাকাা মহানগরীতে ৪ লক্ষ হকার পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ। এই বিপুল সংখ্যাক জনগোষ্ঠীর পেটে লাথি মারার অধিকার সরকার বা প্রশাসনের নেই। তাই হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিয়ে পুনর্বাসনের পূর্ব পর্যান্ত শৃঙ্খলার সাথে ফুটপাতে বসতে দিন, জীবন-জীবিকা করতে দিন। সমাবেশের পূর্বে মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার হকার মিছিল করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..