যুদ্ধাপরাধ: ঝিনাইদহে দুই আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঝিনাইদহের কোলা গ্রামের তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তিন আসামির দুজন হলেন কোলা গ্রামের আবদুর রশিদ মিয়া (৬৬) ও সাহেব আলী মালিথা (৬৮)। মামলার স্বার্থে অন্য আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামি রশিদ মিয়া ও সাহেব আলী গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে। সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক এম সানাউল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জানানো হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৭ জুন তদন্ত শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান জানান, সাড়্গীদের জবানবন্দিসহ তিনটি ভলিউমে ৭৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়া হবে। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বলেন, আবদুর রশিদ মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তিনি ভোল পাল্টে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে এই আসামি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হলিধানী ইউনিয়ন সভাপতি হন। এখন পর্যন্ত তিনি এই পদে আছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবদুর রশিদ মিয়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর সাহেব আলী মালিথা একাত্তরে জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তদন্তের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সানাউল হক বলেন, তিন আসামির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৭ জুন তদন্ত শুরু হয়। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-প্রমাণ তদন্তে উঠে এসেছে। এসব অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিসহ মোট ৭৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটির তিনটি ভলিউম করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৭ জুন আব্দুর রশিদ মিয়ার নেতৃত্বে সহযোগী সাহেব আলী মালিথা ও পলাতক আসামিসহ ১০ থেকে ১৫ জন রাজাকার কোলা গ্রামে আজিবর ম লদের বাড়ি আক্রমণ করেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা মহির উদ্দিন মণ্ডল ও আসির উদ্দিন মণ্ডলকে না পেয়ে তাদের তিন ভাই আজিবর মণ্ডল, হবিবর রহমান মণ্ডল ওরফে হাবা মণ্ডল ও আনছার মণ্ডলকে আটক ও মারধর করেন। পরে তাদের পিঠমোড়া করে বেঁধে নিয়ে ধোপাঘাটা ব্রিজের ওপর গুলি করে হত্যার পর লাশ নবগঙ্গা নদীতে ফেলে দেন আসামিরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..