অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের প্রেরণা মুক্তিযুদ্ধ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাব্দী হতে চলেছে। মানুষ একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়েই শহিদ হয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সুদীর্ঘ কাল ধরে মানুষ যে চেতনা লালন করে এই জনপদের সংস্কৃতিকে বিকশিত করেছে, মুক্তিযুদ্ধ ছিল সেই চেতনার একটি পরিপূর্ণ রূপ। ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র একটি ভূখণ্ড বা পতাকা পাওয়ার বিজয় মাত্র নয়, এটি মানুষের অসাম্প্রদিক দেশ বিনির্মাণের লোকায়ত সংস্কৃতির চেতনা তারও বিজয়। কিন্তু এই এতো বছর পর এসে সেই চেতনা বাস্তবায়নের পথে আমরা কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছি- সেই প্রশ্ন উঠবেই। মুক্তিযুদ্ধে যে চার মূল নীতি- সেই মূলনীতি ধরে বাংলাদেশ কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে, সেই প্রশ্নও আসবেই। কারণ, এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হাতে শাসিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, সামরিক শাসন বারবার হানা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিও কি মুক্তিযুদ্ধের চার মূল নীতির আলোকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে? না তা করেনি। বরং সাময়িক ক্ষমতার লোভে, ভোটের লোভে, তাৎক্ষণিক লাভের কারণে অনেকেই নানা সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। কেউ কেউ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে অন্তরায় সাম্প্রদায়িক শক্তিকে লালন-পালন করেছে। ফলে দিনে দিনে সেই বিষবৃক্ষ আজ বড় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মূল চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে সচেষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল পরিবর্তন সাধন ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি নেই। এই কর্তব্য একক কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে, এমনকি কোনো রাজনীতিবিদদের পক্ষেও এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সমগ্র জাতির সর্বস্তরের জনগণের শক্তি-সামর্থ্যরে মিলিত প্রচেষ্টা এবং বাস্তবতার নিরিখে তার সৃজনশীল প্রয়োগের মাধ্যমে এই কর্তব্য সম্পাদন করা সম্ভব।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..