দেশজুড়ে সিপিবির পদযাত্রায় হামলা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

জামালপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, বরগুনাসহ সারাদেশে সিপিবি’র পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে সিপিবি’র বিক্ষোভ। ইনসেটে ঢাকায় ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত শ্রমিকনেতা মঞ্জুর মঈন [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পদযাত্রায় হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খানসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ২৮ নভেম্বর রাতে উপজেলার বালিজুড়ি বাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ হামলা হয়। নেতাকর্মীরা জানান, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা, দ্রব্যমূল্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দখলমুক্ত করাসহ ১৭ দফা দাবিতে সকালে জামালপুর জেলা সিপিবি আয়োজিত সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খানের নেতৃত্বে পদযাত্রাটি শুরু হয়। এটি ইসলামপুর, মেলান্দহ হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের একদল নেতা-কর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা সিপিবির ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। তারা সিপিবির নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগও ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ হামলায় মনজুর ছাড়াও হযরত আলী, শিবলুল বারী রাজু, আলী আক্কাছ, মারুফ আহাম্মেদ খান মানিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকার শান্তিনগরে প্রতিবাদ মিছিলেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিপিবির মিছিলটি কাকরাইলে পৌঁছালে অতর্কিতে হামলা হয়। হামলায় শ্রমিক নেতা মঞ্জুর মইন, ছাত্র নেতা অনিক রায়, হোসেন আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। জামালপুরে হামলার প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কেও সমাবেশ হয়েছে। ঢাকায় হামলার ঘটনায় পরদিন পল্টন মডেল থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারে পথসভায়ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা পার্টির কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান বাসার ও সাধারণ সম্পাদক পরেশ করসহ নেতৃবৃন্দকে লাঞ্ছিত করে। একইদিন মাদারীপুর কালকিনিতে পথসভায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা সিপিবির ব্যানার ছিড়ে ফেলার পাশাপাশি মাইকও গুড়িয়ে ফেলে। গুরুতর আহত হন সরোয়ার হোসেন মোল্লা ও খোকন শীল। তার আগে গত ২১ নভেম্বর বরগুনা শহরে পদযাত্রা চলাকালে পুলিশ ব্যানার কেড়ে নিয়ে যায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা পদযাত্রায় বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম পদযাত্রায় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান। তারা পার্টি কমরেডদের সকল হামলা-বাঁধা অতিক্রম করে পদযাত্রা সফল করার আহ্বান জানান। তারা কমরেড মনজুরসহ সিপিবির নেতা-কর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। ‘পুলিশের উপস্থিতিতে কমরেড মনজুরুল আহসান খানের মতো একজন বর্ষীয়ান জননেতার ওপর সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের হামলা সরকারের ফ্যাসিবাদী রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রবল গণআন্দোল গড়ে তুলে এসব হামলার যথাযথ জবাব দিতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বারে বারে কমিউনিস্ট পার্টির ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু হামলা-নির্যাতন করে কমিউনিস্ট পার্টিকে দমানো যাবে না। গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে সিপিবি তার লড়াই অব্যাহত রাখবে। এদিকে শেরপুরে সিপিবির পদযাত্রা থেকে পুলিশ জেলা কমিটির সভাপতি আবুল মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক মাসুম ইবনেসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। শেষ খবর পর্যন্ত তাদের ছাড়া হয়নি। বাম জোটের প্রতিবাদ: সিপিবির পদযাত্রায় সরকারি দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ২৯ নভেম্বর জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সমর্থন ছাড়া হামলা-নির্যাতনের পথে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাস তার সাক্ষী। বর্তমান সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। গণআন্দোলনে ভেসে যাবে দুঃশাসন। দেশজুড়ে সিপিবির পদযাত্রায় হামলায় ধিক্কার জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। বাম নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হটাতে হবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..