পেঁয়াজ, দ্রব্যমূল্য ও বাজার-অর্থনীতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : দেশ এখন একটি ‘যন্ত্রণার রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে। নিত্যদিনের জীবন-যন্ত্রণায় জনগণ কাতর ও বিপর্যস্ত। জনগণ আজ কাহিল ও অবসন্ন। একের পর এক নানা যন্ত্রণাময় ঘটনা নিয়ে তোলপাড় উঠছে। এসব ‘কাণ্ড কারখানা’ দেশবাসীকে হতচকিত করে চলেছে। একটি তোলপাড় শেষ না হতেই, শুরু হয়ে যাচ্ছে অন্য আরেকটি তোলপাড়ের নতুন পর্ব। মাস তিনেক ধরে চলছে ‘পেঁয়াজ কাণ্ড’ নিয়ে ‘মহা-তোলপাড়’। গত ১/২ মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম লাফ দিতে দিতে এখন হিমালয়ের শৃঙ্গের সমান উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। অথচ এ নিয়ে সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যাথার লক্ষণ নেই। সরকার পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরঞ্চ এ বিষয়ে মন্ত্রীরা বলেছেন যে- দেশ এখন ‘পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির’ যে পথ অনুসরণ করছে সেখানে ‘বাজারের’ ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। তার প্রয়োজনও নাকি নেই। কারণ, বাজারের শক্তিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে। কিন্তু মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও সেই ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ’ ঘটে নাই। পেঁয়াজের দাম যখন কেজি প্রতি ২০০ টাকা ছুঁই-ছুঁই করছিল তখন একজন মন্ত্রী দায়িত্বহীনভাবে জনগণকে আশ্বস্ত(!) করে ‘এলান’ জারি করেছিলেন যে, ‘পেঁয়াজের বাজার এখন পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে’। মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে (তার ফলাফল হিসেবেই কিনা জানি না!) পেঁয়াজের দাম আরো ১০০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকার কাছাকাছিতে উপণীত হয়েছিল। কোনো কিছুতেই কিছু না হওয়ায় জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে সরকার জানিয়েছিল যে সহসাই কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই ‘সহসা’ পার হতে আরো ৩/৪ সপ্তাহ লেগেছিল। অবশেষে ঘোষণা এসেছিল যে পাকিস্তানি পেঁয়াজ বহনকারী বিমান ঢাকায় অবতরণ করেছে। সরকার পেঁয়াজের মূল্য সংকট দূর করতে না পারলেও সে বিষয়ে ‘রসিকতা করতে’ ও ‘জ্ঞান দিতে’ কার্পণ্য করেনি। বলা হলো যে ‘মানুষ চড়তে পারে না, আমি প্লেনে পেঁয়াজ নিয়ে এসেছি’। বলা হলো যে, জনগণ ৮০০ টাকা কেজিতে মাংস কিনে খেতে পারলে ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনতে পারবে না কেন? বলা হলো, পেঁয়াজ ছাড়াও তো রান্না করা যায়। জানানো হলো যে, প্রধানমন্ত্রীর রান্নাঘর এখন পেঁয়াজ-মুক্ত। এ খবরে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন যে, তিনি পেঁয়াজ ছাড়াই ১২ রকম তরকারি রান্না করতে পারেন। মন্ত্রী জনগণকে পরামর্শ দিয়ে বললেন যে– পেঁয়াজের দাম যতদিন ‘নাগালের বাইরে’ আছে ততদিন ‘পেঁয়াজ ছাড়াই’ চলুন না! এই পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন যে– পেঁয়াজের দাম বাড়লে ‘পেঁয়াজ ছাড়া’ চলাই যদি মন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন হয়, তাহলে জামা-কাপড়ের দাম বাড়লে তিনি জনগণকে কি একইভাবে ‘জামা-কাপড় ছাড়া’ চলার পরামর্শ দিবেন? শুধু পেঁয়াজ নয়, জনগণের নিতব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম অযৌক্তিকভাবে আকাশচুম্বি হওয়ার ঘটনা এদেশে এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ‘পেঁয়াজ কাণ্ড’ চলতে চলতেই, শুধু গুজবের ওপর ভিত্তি করে, সারা দেশে লবণের দাম ১০০ টাকায় উঠে গিয়েছিল এবং ২/৩ দিন বাজার থেকে তা প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনে চালের দাম হঠাৎ করে কেজি প্রতি ৬/৭ টাকা বেড়ে গেছে। আটা, ময়দা, সুজি, রসুন ইত্যাদির দামও একই সাথে বেড়ে গেছে। খাদ্য সামগ্রীসহ জনগণের নিত্যব্যবহার্য পণ্য সামগ্রীর মধ্যে কোনটার দাম যে কখন কতোটা বাড়বে তা কেউ বলতে পারছে না। এদিকে কৃষি পণ্যের বাজারে কৃষককে পানির দামে তার ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। সব ‘বাজারই’ এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মুনাফালোভী লুটেরা সিন্ডিকেট দ্বারা। ‘জনগণের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে লুটপাটের লালসায় চালিত একটি ক্ষুদ্র ‘লুটেরা সিন্ডিকেটের’ নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তা এখন পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে, শুধু পেঁয়াজের ক্ষেত্রেই নয়, সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের সার্বিক ক্ষেত্রে জনগণকে পিষ্ট হতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা ক্ষেত্রে একের পর এক ভয়ঙ্কর সব কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটে চলেছে। সম্প্রতি ‘বালিশ কাণ্ড’, ‘পর্দা কাণ্ড’, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের ‘চাঁদাবাজী কাণ্ড’, ‘বোরো ধান কাণ্ড’ ইত্যাদি একটির পর একটি ঘটনা জনগণকে স্তম্ভিত ও দিশেহারা করেছে। অনেকে বলছেন যে, একটা ‘কাণ্ড’ শেষ না হতেই আরেকটা নতুন ‘কাণ্ড’ সামনে এনে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই সরকার নিজেই এভাবে ‘কাণ্ডের পর কাণ্ডকে’ সামনে আনছে। কিন্তু একটির পর একটি ‘কাণ্ড’ সামনে আসছে আসলে এ কারণে যে– বর্তমানে যে অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুসরণ করে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, সেই ‘ব্যবস্থার’ অন্তর্নিহিত রুগ্নতাই অবধারিতভাবে এসবের জন্ম দিচ্ছে। রোগের আসল উৎস হলো প্রচলিত ‘ব্যবস্থা’, এবং তারই উপসর্গ হলো একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকা এসব ‘কাণ্ড’ সমূহ। চাল-ডাল-আটা-তেল-চিনি-পেঁয়াজ-মরিচ-মাছ-মাংস-তেল-সাবান ইত্যাদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রতিটি জিনিসের দামই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সেই সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত খরচ, শিক্ষা-চিকিৎসা-ওষুধপত্রের দাম, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির রেইট। অথচ দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আয়-উপার্জন সেই তুলনায় বাড়ছে না। ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা, তথা তাদের ‘প্রকৃত আয়’ ক্রমাগতভাবে কমছে। শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুরসহ স্বল্প আয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত জনগণের জীবন সংকট একারণে অসহনীয়ভাবে বেড়ে চলেছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে, ‘উন্নয়নের’ স্বার্থে দেশের ১ শতাংশ ‘ভাগ্যবান’ মানুষকে আইনি-বেআইনি সবরকম উপায়ে ফুলে ফেঁপে উঠতে সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের হাতে সম্পদের পাহাড় কেন্দ্রীভূত হতে দিলে, সেই সম্পদ ‘চুঁইয়ে পড়ে’ একসময় বঞ্চিত ৯৯ শতাংশের হাতে এসে পৌঁছাবে। তাই, দেশের ‘উন্নয়নের’ স্বার্থে ৯৯ শতাংশ মানুষকে এসব দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। এটি নাকি হলো ‘উন্নয়নের প্রসব বেদনা’। কিন্তু, যে বিপুল অর্থ-সম্পদ ১ শতাংশ লুটেরাদেরকে কুক্ষিগত করতে দেয়া হচ্ছে তার সিংহভাগ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নিয়োজিত হওয়ার বদলে তা বাস্তবে কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কিম্বা, তার বিপুল অংশ ভোগ-বিলাসে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে তা ‘চুঁইয়ে পড়ে’ ৯৯ শতাংশ বঞ্চিত মানুষের কাছে আসছে না– কখনই আসবেও না। তাই ‘উন্নয়নের’ এই হিসেব হয়ে থাকছে একটি প্রতারণাপূর্ণ শুভঙ্করের ফাঁকি। এই ফাঁকিবাজী ও প্রতারণা সম্পর্কে সরকারের কোনো কথা নেই। তা থাকবেই বা কেন? কারণ এই সরকার হলো ‘বিনা ভোটের’ নৈশকালীন অভিযানে ‘নির্বাচিত’(!) সরকার। এবং এ সরকার হলো সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি ও এদেশের ১ শতাংশ লুটেরা ধনীকের স্বার্থরক্ষাকারী সরকার। এ অবস্থায় দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষকে চিরদিন দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ায় পায়ের তলায় পিষ্ট হতে হচ্ছে। প্রশ্ন হলো– এ দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের পথ তবে কী? অনেকের ধারণা যে দেশের কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা শুধু সমালোচনা করতে জানে। কোনো সমস্যার সমাধান-সূত্র তাদের কাছে নেই। এ ধারণা সঠিক নয়। যেমন ধরা যাক, এবারের ‘পেঁয়াজ কাণ্ডের’ কথা। কিম্বা গত বোরো মৌসুমে কৃষককে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে যে তার ‘রক্তে বোনা ধান’ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল–তার কথা। কোন কোন বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পেঁয়াজ, ধান ইত্যাদি কৃষি পণ্যের দাম নিয়ে ‘উৎপাদক’ ও ‘ভোক্তা’ উভয়ের বঞ্চনা নিরসন করা যায় তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা উপস্থিত করেছে। এসব বাস্তব সমাধান-সূত্র তুলে ধরে তারা এ সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, জনজীবনের এসব যন্ত্রণা কোনক্রমেই ‘উন্নয়নের অবধারিত প্রসব বেদনা’ এবং সেকারণে বিধিলিপি বলে মেনে নেয়ার বিষয় নয়। জনগণের ওপর এ ধরনের অমানবিক ও নির্মম ‘প্রসব বেদনা’ চাপিয়ে দেয়া ব্যাতিরেকেই আরো দ্রুত ও আরো গভীরতা সম্পন্ন ‘প্রকৃত উন্নয়ন’ অর্জন করা সম্ভব। সেই রূপকল্প ও পথনির্দেশ তারা হাজির করেছে। এবারের সংকট ও গণদুর্ভোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরা দেখিয়েছে যে, শুধুমাত্র ‘পেঁয়াজ কাণ্ডে’ জনগণের পকেট কেটে কমপক্ষে ৪/৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়া হয়েছে। গবেষকদের হিসেব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লুট করে নেয়া এই টাকা দিয়ে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে অস্থায়ী ‘ফসল-সংরক্ষণাগার’ নির্মাণ করা যেতো। জাতীয় বাজেটের মাত্র একশো ভাগের একভাগ অর্থ ব্যয় করলেও সে কাজটি করা যেতো। ইউনিয়নে-ইউনিয়নে সরকারের উদ্যোগে ফসল ক্রয় কেন্দ্র ও ‘অস্থায়ী ফসল-সংরক্ষণাগার’ থাকলে কৃষি পণ্যের ‘উৎপাদক’ ও ‘ভোক্তা’–এই দুই পক্ষের কোনো পক্ষকেই ‘লুটেরা বাজার সিন্ডিকেটের’ লালসার অসহায় শিকার হয়ে এভাবে নিঃস্ব ও ধ্বংস হতে হতো না। ধান, পেঁয়াজ ইত্যাদি ফসল ওঠার সাথে সাথে ‘উৎপাদকরা’ তা পানির দামে ‘সিন্ডিকেটের’ কাছে বিক্রি করে দেয়ার বদলে ন্যায্য মূল্যে সরকারের কাছে তা বিক্রি করতে, অথবা নিজেদের সমবায় প্রতিষ্ঠা করে তার পক্ষ থেকে তাদের ফসল সুবিধাজনক সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারতো। গ্রামে গ্রামে কৃষকদের ‘উৎপাদক সমবায়’ প্রতিষ্ঠা করে এবং তার সমান্তরালে সর্বত্র ‘ভোক্তা সমবায়’ প্রতিষ্ঠা করে, এই দুই সমবায়ের মধ্যে সরাসরি কেনা-বেচার ব্যবস্থা করলে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম থেকেও রেহাই পাওয়া যেতো। ‘দ্রব্যমূল্য’ এমন একটি বিষয় যা কোনো বিবেচনাতেই ‘লুটেরা সিন্ডিকেটের’ লালসা ও মুনাফার-খেলার কাছে জিম্মি হতে দেয়া যেতে পারে না। এ কারণে তাই বাজার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে করে কোনো অশুভ ও জনস্বার্থ বিরোধী শক্তি দ্রবমূল্য নিয়ে ‘খেলা করতে’ না পারে। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ আজ বিশেষভাবে জরুরি। ১। বাজারের উপরে মুনাফা শিকারী লুটেরাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির দর্শন ও ‘মার্কেট ফান্ডমেন্টালিজম’ নীতি থেকে বের হয়ে আসা। ২। পাইকারি ও খুচরা বাজারে রাষ্ট্রের প্রভাব-সক্ষমতা সৃষ্টি করা। একই সাথে বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতা হিসেবে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা। ৩। পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগরে মাধ্যমে গ্রাম-শহরসহ সারা দেশে সাশ্রয়ী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ চালু করা। ৪। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বিশেষত দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। এ জন্য ছবিসহ রেশন কার্ড করা। এসব দরিদ্র মানুষদেরকে রেশনে কন্ট্রোল দামে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনি এবং প্রয়োজনমত অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রদান করা। ৫। টিসিবি’র কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্য সামগ্রীর আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত ও সচল রাখা। ৬। রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু করা এবং ‘ভোক্তা সমবায় সমিতি’ সংগঠিত করে দেশব্যাপী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ৭। বিএডিসির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে সারা দেশে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্য মূল্যে এবং সময় মতো খোদ কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা। ৮। একদিকে উৎপাদক-কৃষক ও অন্যদিকে ভোক্তা-সাধারণকে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ, ‘ভোক্তা সমবায়’ এবং কৃষকদের ‘উৎপাদন সমবায়ের’ মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও লেনদেনের ব্যবস্থা করা। ৯। সরকারের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ফসল ক্রয়ক্রেন্দ্র’ চালু করা এবং ‘অস্থায়ী ফসল সংরক্ষণাগার’ নির্মাণ করা। ১০। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যাপ্ত সাইলো, গোডাউন ইত্যাদি নির্মাণ করে খাদ্য দ্রব্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য সামগ্রীর বাফার স্টক গড়ে তোলা। ১১। পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং একইসাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন সাধন, হাট-বাজারে ইজারাদারি ব্যবস্থা ও তোলা আদায়ের অত্যাচার বন্ধ করা। ১২। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন মার্কেট সেইল, মার্কেটিং অপারেশন, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রভৃতি কর্মসূচিসহ দ্রুত ঝটিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সব সময় প্রস্তুতি রাখা। ১৩। সব ধরনের বিলাস দ্রব্য আমদানি আপাততঃ নিষিদ্ধ করা। ১৪। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হলে যেমন দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতিজনিত বর্তমান সঙ্কট বহুলাংশে লাঘব করা যাবে, ঠিক তেমনি তা ভবিষ্যতে দেশকে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার দাপট থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..