বলিভিয়ায় ক্যু, মোরালেস মেক্সিকোতে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় মার্কিন মদদপুষ্ট বিরোধীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে উৎখাত করে ক্ষমতা নিয়েছে। মোরালেসের সমর্থকরা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলে সেনা-পুলিশ ও কট্টর ডানপন্থিদের মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৪ নভেম্বর রাতে মোরালেসের দল মুভমেন্ট ফর সোশালিজম ও ক্ষমতাদখলকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন নির্বাচন আয়োজনে সমঝোতা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে অভ্যুত্থানের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কিউবা, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো, স্পেন। ডানপন্থিরা মোরালেসকে মেরে ফেলতে পারে এ শঙ্কায় মোরালেসের পদত্যাগের কয়েক মিনিটের মধ্যে মেক্সিকো তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রথমদিকে বলিভিয়ায় থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেও সহযোদ্ধাদের পরামর্শে মেক্সিকোর বামপন্থি লোপেজ ওব্রাদর সরকারের প্রস্তাবে রাজি হন বলিভিয়ার অবিসংবাদিত আদিবাসী নেতা মোরালেস। মোরালেসকে উৎখাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং বেশ ক’জন রিপাবলিকান নেতার সঙ্গে বলিভিয়ার বিরোধীদলের নেতাদের ‘ষড়যন্ত্রের’ ফোনালাপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করেই এ ষড়যন্ত্র হয়। প্রথম দফার ওই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংবিধান মোতাবেক ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মোরালেসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণার একপর্যায়ে ‘কিছু সময়ের কালক্ষেপণকে’ ইস্যু করে জল ঘোলার কাজ শুরু করে মার্কিন মদদপুষ্ট বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক কর্মসূচি নিলেও সরকার তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। টানা তিন সপ্তাহ আন্দোলন করেও জনসমর্থন না পেয়ে হতবিহ্বল ষড়যন্ত্রকারীরা আর রাখঢাক রাখেনি। এবার তারা সরাসরি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থদের অভ্যুত্থানে নামিয়ে দেয়। প্রথমে পুলিশের কিছু সদস্যকে সড়কে বিরোধীদের সঙ্গে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়; একদিন পর সেনাবাহিনী মোরালেসকে পদত্যাগ করতে বলে। পরিস্থিতি শান্ত করতে মোরালেস প্রথমে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরে ব্যাপক প্রাণহানি ঠেকাতে এবং তাকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র রোধে পদত্যাগ করেন। কিছু সময়ের মধ্যে পদত্যাগের খবর আসে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনেটপ্রধানের। বিরোধীদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিনেটের ডেপুটিপ্রধান জেনাইনা আনিয়েজ পরে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের’ দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মোরালেসের পদত্যাগের পর মুখোশধারী একদল সশস্ত্র লোক বলিভিয়ায় ভেনেজুয়েলার দূতাবাস তছনছ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। বলিভিয়ায় অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা, ইকুয়েডরের রাফায়েল কোরেয়া, যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট মনোনয়নপ্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স। ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের টাকা ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে কিনতে না পারলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থদের কিনতে পেরেছে। তিনি লাতিনের জনগণকে মার্কিন ষড়যন্ত্র ঠেকাতে একযোগে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল বলিভিয়ার অভ্যুত্থানকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে কোনো কাজের পরিণতি হবে ভয়ংকর। মোরালেসকে ক্ষমতাচ্যুত করার খবর পেয়ে বলিভিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তার লাখ লাখ সমর্থক ও আদিবাসীরা রাজধানী লা পাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বলেছে, মার্কিন মদদপুষ্ট এ ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মোরালেসকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করা। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপে অভ্যুত্থানকারীরাও শুরু থেকেই বেশ চাপে পড়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এদিকে ১৪ নভেম্বর সমঝোতার পর মোরালেসের বলিভিয়ায় ফেরার পথ সুগম হয়েছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ৬২ বছর বয়সী এ আদিবাসী নেতা শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..