আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। এই কনভেনশন শুধু দেশগুলোতে গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয় বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য বিচার করতে বাধ্য করে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সমর্থিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানী (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) মিশন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও নানা ধরনের বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। গণহত্যা ঠেকানো, তদন্ত করা এবং এর শাস্তির আইন করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। মিশন বলেছে, নারীদের ওপর ধর্ষণ চালানো হয়েছে, এর প্রকৃতি ও মাত্রা থেকেই বোঝা যায় মিয়ানমারের ইচ্ছা ছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করা। এর আগে গত ৪ অক্টোবর গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী মিয়ানমারকে আইনের আওতায় আনতে নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রী আবুবকর তামবাদাউ বলেছিলেন, আমরা মামলার সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি জানি, মিয়ানমারের নাগরিকরা কতটা অসহায় হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে। কক্সবাজার পরিদর্শনকালে তাদের করুণ দশা শুনেছি। রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক মহলের জবাবদিহি করতেই হবে। ‘রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে’: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাজধানীতে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে এসব কথা বলেন। সু চিরও বিরুদ্ধে প্রথম মামলা: মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের দায়ে আং সান সু চির বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় মামলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই নোবেল জয়ীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। মামলায় সু চি ছাড়াও আসামির তালিকায় মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত নানা অপরাধের বাইরেও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আদালত চাইলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..