পেঁয়াজে আগুন, সবজির বাজারও চড়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : পেয়াঁজের দামের অগ্নিমূল্য এখন সারাদেশের হট টপিক। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এ পণ্যটি ৩৫ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ২৪০ এ পৌঁছেছে। সরকার এ মূল্য নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে পেঁয়াজের দাম যখন ১০০ পেরিয়েছিল, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী ‘পেয়াঁজের দর নিয়ন্ত্রণে আছে’ শুনে বাজার আরও গরম হয়ে যায়। মন্ত্রীর ওই কথাকে বাহ্বা দেয়ার জন্যই পরের কয়েকদিন পাল্লা দিয়ে এর দাম বাড়তে থাকে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই এ দামবৃদ্ধি শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন গত সপ্তাহে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবকেও। জনগণ স্পষ্ট বুঝতে পারছে এর মধ্যে কোনো না কোনো কারসাজি তো অবশ্যই আছে। সেই কারসাজি ঠেকাতে সরকারও ব্যর্থ; হতে পারে সরকারি হর্তাকর্তাদের সঙ্গেই ওই মজুতদার বা কারসাজি করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াদের যোগাযোগ আছে, ভাষ্য ক্ষুব্ধ জনগণের। শুধু পেঁয়াজ নয়, বেড়েছে আদা-রসুনের দামও। গত সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন বাজারে আদা ২০০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারও খুব চড়া। ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ঝিঙা ৫০-৬০ টাকা, শিম ১১০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, তিতকরলা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ ৩০-৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, শসা ৫০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৬০ টাকায়। ঢাকায়ও সবজির দামে হাত দেয়া যাচ্ছে না। এখানেও ফুলকপি বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ১০০-১২০ টাকা, বাধাকপি ৯০-১০০ টাকা, শিম ১১০-১৩০ টাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিমানপথে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকে বলছেন, পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ছাদে বা বারান্দায় পেঁয়াজ চাষেরও পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়িক কারসাজিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এভাবে বাইরে থেকে কতদিন, কতগুলো পণ্য আমদানি করা সম্ভব? বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..