বাংলাদেশকে বাঁচালো সুন্দরবন মানুষ এবার সুন্দরবন বাঁচাবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ডা. মনোজ দাশ : এবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন। সিডর-আইলার মতো আবারও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সামনে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচালো সুন্দরবন। বুলবুলের ১০নং বিপদ সংকেতের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করেছে সুন্দরবন। সুন্দরবনের বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে বুলবুলের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার কমে যায়। জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতাও হ্রাস পায়। সুন্দরবন অতিক্রম করতে ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং গতি কমে আসে। ফলে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারেনি। শুধু সিডর-আইলা-বুলবুল নয়, পঞ্চদশ শতক থেকে আজ পর্যন্ত ২০টি বড় বড় সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে বাঁচিয়েছে সুন্দরবন। আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে সুন্দরবনের এমন একটি ভূমিকার বর্ণনা আছে। ১৫৮৫ সাল। সমগ্র বাংলাদেশ তখন মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। সম্রাট আকবর দিল্লীর সিংহাসনে। তার রাজত্বের ২৯শ বর্ষে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হয় তখন। কিন্তু ঝড়ের সামনে বুক চিতিয়ে বাধার প্রাচীর গড়ে তুলে সুন্দরবন সুরক্ষা দেয় উপকূলীয় মানুষজনকে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ইতিহাস প্রমাণ করে, সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম। সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া মানেই উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। সুন্দরবন না থাকা মানেই বহু লক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো। পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন প্রাণ-বৈচিত্র্যে বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদের উৎস, এক অতুলনীয় ইকো সিস্টেম, পরিবেশ শোধনের সবচাইতে বড় প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশের ফুসফুস। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলই শেষ ঝড় নয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের আঘাত মোকাবিলায় সুন্দরবনই আমাদের প্রধান ঢাল। অথচ একদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে এই অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় সুন্দরবনকে ধ্বংসের আয়োজন চলছে, অন্যদিকে অরিয়নের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিপইয়ার্ড, সাইলো, সিমেন্ট কারখানাসহ নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরাতার মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থেই সুন্দরবনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে এবারও সুন্দরবন তার দায়িত্ব পালন করেছে মায়ের মতোই। প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বুক পেতে দিয়ে সুন্দরবন আমাদের বাঁচিয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়েছে। সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করেছে বারবার। এখন আমাদের দায়িত্ব সুন্দরবনকে বাঁচানো। কিন্তু সব গবেষণা-পরামর্শ-আন্দোলন উপেক্ষা করে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি শক্তির লুণ্ঠন-আগ্রাসন-ষড়যন্ত্রে সুন্দরবনকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের আয়োজন চলছে। বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হয় ২০১৩ সালে। যৌথ উদ্যোগে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে মংলা সমুদ্র বন্দরের কাছে রামপালে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এই চুক্তি ও উদ্যোগ অর্থনৈতিক-পরিবেশগত ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী। প্রথমত চুক্তিটি অসম ও অস্বচ্ছ। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ৭০% ঋণ নেয়া হবে। বাকি ৩০ শতাংশ অর্থের ক্ষেত্রে ভারতের থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি দেবে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৪০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের পিডিবি ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৪০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্র যেহেতু বাংলাদেশেই হবে তাই ৭০ শতাংশ ঋণের সুদ, ঋণ পরিশোধের দায় যৌথ কোম্পানির হলেও মূল দায় পড়বে বাংলাদেশের। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির দায়িত্ব বাংলাদেশের। সময়মতো কয়লা না পাওয়া গেলে, অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলে ক্ষতির দায় বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। জমি-কয়লা-ব্যাংকঋণ সব কিছুর দায় মূলতঃ বাংলাদেশের হলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিন্তু ভাগ হবে সমান সমান! মুনাফার টাকা ভারত নিয়ে যেতে পারবে ট্যাক্স ছাড়াই। আবার কয়লাভিত্তিক অন্যান্য প্রকল্পে বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে চার দশমিক ৪০ টাকা (কিলোওয়াট-আওয়ার)। কিন্তু এ প্রকল্পে বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে আট দশমিক ৮৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ক্ষতি চার দশমিক ৪৫ টাকা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৩০ বছর ধরে চলবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ৬৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাবে। তাতে ৩০ বছর ধরে বিদ্যুৎ পেলে, বেশি দাম দিতে হবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত, এ প্রকল্পের জন্য যে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ সুন্দরবনের অস্তিত্ব ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। দেশি-বিদেশি গবেষক ও ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষণ থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবনের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। ধ্বংস হয়ে যাবে সুন্দরবন। তৃতীয়ত, এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পূর্ণ করা, এলাকার মানুষের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। তা হয়নি। বরং এ প্রকল্পের শুরু থেকেই চলছে অনিয়ম ও নিপীড়ন। প্রয়োজনীয় সমীক্ষার শর্তপূরণ না করে ভূমি অধিগ্রহণ, সন্ত্রাসী, পুলিশ দিয়ে গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ইউনেস্কোর পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পূর্ণ করার শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। ফলে সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ পড়ার হুমকির মধ্যে আছে। চতুর্থত, জোর জবরদস্তি, অন্যায় অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে জনগণের আন্দোলন মতামত উপেক্ষা করে এ ধরনের জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠেছে, এ প্রকল্পের সাথে সরকারের ক্ষমতায় থাকা এবং ভারতের অর্থনৈতিক লাভের সাথে সাথে ভূ-রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ জড়িত আছে কিনা। ধীরে ধীরে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী ভূ-রাজনীতি বিকাশের চক্রান্তের সাথে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সমর্থন দিচ্ছে ভারত। আর বিনিময়ে ভারত একতরফাভাবে পাচ্ছে তার ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের সুযোগ। এ ধরনের প্রকল্প ভারতে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু যে যুক্তিতে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারতে বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশে তা প্রযোজ্য হচ্ছে না। কৃষিজমি, নিকটবর্তী জনবসতি ও শহর থাকা, নদীর পানি স্বল্পতা, পরিবেশগত প্রভাব ইত্যাদি নানা বিবেচনায় যে থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছে, ভারতের সেই থার্মাল পাওয়ার কোম্পানিই বাংলাদেশের সাথে কথিত যৌথ বিনিয়োগে একই রকমের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাগেরহাটের রামপালে নির্মাণ করতে যাচ্ছে। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কটি বাঘ, পাইথন এবং হাতির জন্য বিখ্যাত এবং একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বনাঞ্চলটির বিস্তৃতি ৬৪৩ বর্গকি.মি. জুড়ে যা সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তনের দশ ভাগের এক ভাগ। ২০০৭ সালে এই রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক থেকে ২০ কি.মি. দূরে কর্ণাটক রাজ্যের মাইসুর জেলায় চামালপুর গ্রামে ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়। রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কি.মি. এর মধ্যে কৃষিজমি নষ্ট করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাটি জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে ভারত সরকার ২০০৮ সালে বাতিল করতে বাধ্য হয়। ভারত তার নিজ দেশে সুন্দরবনের চেয়ে দশ ভাগের এক ভাগ আয়তনের একটি বনাঞ্চলের ২০ কি.মি. এর মধ্যে ১ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি। সেই ভারত এবার বাংলাদেশে সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, জীব বৈচিত্র্যের অফুরন্ত আধার, রামসার সাইট এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে ঘোষিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাত্র ১৪ কি.মি. এর মধ্যে কৃষিজমি ও পরিবেশ ধ্বংস করে, হাজার হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে! এখন প্রশ্ন হলো, যে যে বিবেচনায় খোদ ভারতে ভারতীয় কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারলো না, বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের বেলায় কেন সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করা হলো না? এখন যুক্তি দেখানো হচ্ছে, এখানে সুপার ক্রিটিক্যাল, আল্ট্রা ক্রিটিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার করা হবে যাতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে ভারত কেন তার দেশে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার সাপেক্ষে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি দেয়নি। প্রকৃত সত্য হলো, ১ শতাংশ দক্ষতা বাড়লে ২ শতাংশ পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ কম নির্গত হয়। সাবক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের চাইতে সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারকারী কেন্দ্রের দক্ষতা ২ শতাংশ বেশি, আল্ট্রা ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারকারী কেন্দ্রের দক্ষতা ৫ শতাংশ বেশি। তা হলে আল্ট্রা ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারকারী কেন্দ্রে ১০ শতাংশ কম দূষণ সৃষ্টি করবে। কিন্তু দূষণতো ঘটবেই। সরকার পরিবেশ সমীক্ষাতেই রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দৈনিক ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড, ৮৫ টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, বার্ষিক ৯ লাখ টন ছাই উৎপাদন হবে। যা সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাবে। সকলেই বিদ্যুৎ চায়। কিন্তু সুন্দরবনকে ধ্বংস করে নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে। সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই। খোদ ভারতও বিকল্প পথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজের দেশে তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই সুন্দরবন বাঁচাতে হলে আমাদের বিকল্প পথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবতে হবে। সরকার সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কেন্দ্রসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়বহুল, পরিবেশবিধ্বংসী, ঋণ-নির্ভর, বিপজ্জনক পথ গ্রহণ করেছে। দরকার কম দামে পরিবেশবান্ধব উপায়ে, নিরাপদ বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পথ সনাক্ত করা। সরকার যখন পশ্চাৎমুখি, লুণ্ঠন ও ধ্বংসমুখি, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক উন্নয়ন চিন্তার অধীনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তখন গত প্রায় দু দশকের আন্দোলনের শক্তি ও জনআকাঙ্খার উপর দাঁড়িয়ে জাতীয় কমিটি গত বছরের ২২ জুলাই ভবিষ্যতমুখি, প্রগতি ও সমতামুখি প্রবৃদ্ধি, প্রাণ-প্রকৃতি ও মানববান্ধব উন্নয়ন চিন্তার গণতান্ত্রিক কাঠামোতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করেছে। সরকার সেই মহাপরিকল্পনা বিবেচনায় না নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করার কথা বলে, দেশি বিদেশি লুটপাটকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনগণ ও দেশের জন্য সর্বনাশা পথ গ্রহণ করছে। ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত, সাগরের গ্যাস ব্লক অসম শর্তে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা, কুইক রেন্টালের নামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৪ থেকে ১৭ টাকা, কিংবা সুন্দরবনে কৃষিজমি পরিবেশ ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি সব কিছুই মুনাফা ও লুটপাটের আয়োজনের অংশ। মানুষ সুন্দরবন ধ্বংসের প্রচেষ্টা মেনে নেবে না। সুন্দরবন তার অস্তিত্বের শর্ত। সিডর-আইলার মতো আবারও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সামনে মায়ের মতো বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছে সুন্দরবন। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলই শেষ ঝড় নয়। সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম। সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস। সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া মানেই উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। ১৯৮ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর আমেরিকান এসএসএ কোম্পানির কাছে লিজ দেয়ার চক্রান্ত, বিবিয়ানার গ্যাস ভারতে পাচারের ষড়যন্ত্র, বিনিয়োগের নামে ভারতের টাটার লুণ্ঠন, ফুলবাড়ির জমির পরিবেশ ও কৃষি ধ্বংস করে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন ধ্বংসের চক্রান্ত, জনগণের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী লুণ্ঠন ও ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে মানুষ তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..