নিম্নমানের ভুট্টাবীজে প্রতারিত চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা। ফলে ভুট্টাবীজের চাহিদা বাড়ছে হু-হু করে। সেই সুযোগে নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এরই মধ্যে পেট্রোকেম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বীজ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোম্পানিটির বীজ বিক্রি বন্ধ হয়নি। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেট্রোকেম কোম্পানির ডিলাররা পাইওনিয়ার পি৩৩৫৫ ব্র্যান্ড নামে নিম্নমানের ভুট্টাবীজ বাজারজাত করছেন। এসব বীজের অঙ্কুরোদগমের হার কম এবং পোকায় খাওয়া; এমন অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে ভুট্টাবীজ বিপণনের কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে সাধারণ ভুট্টা কিনে পরে প্যাকেট করে বীজ ভুট্টা নামে বাজারজাত করে। উচ্চফলনশীল ভুট্টার বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগে এসব সিন্ডিকেট ব্যবসা করছে। অনেক সময় তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ও পোকাধরা বীজ গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের হাতে গছিয়ে দেয়। নিম্নমানের বীজ কিনে প্রতারিত হওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের অনিল কুমার, বরকত, আত্তাব, আরিফ, মন্টুসহ আরো অনেকে বলেন, পাইওনিয়ার পি ৩৩৫৫ জাতের ভুট্টাবীজ কিনে ঠকেছেন তারা। প্যাকেট খুলে দেখা গেছে অনেক বীজের মাথা পোকায় ছিদ্র করে ফেলেছে। অবশ্য গত বছর এ ব্র্যান্ডের বীজ ভালোই ছিল। বিষয়টি স্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিলার উজ্জ্বল হোসেন, সরোজগঞ্জ বাজারের ডিলার কামাল হোসেন বলেন, পাইওনিয়ার বীজ ৬৩০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট প্রতি ১০০ থেকে ৫০ গ্রাম বীজে পোকা থাকতে পারে। এ বীজে ফলন ভালো হয়, সুতরাং কৃষকদের লোকসান হবে না। পোকাধরা বীজ নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দর্শনার ডিলার কামাল আহম্মেদ সান্টু। তিনি হিজলগাড়ী ও দোস্ত গ্রামের বাজার এলাকায় বীজ সরবরাহ করেন। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বীজ বিক্রেতা জানিয়েছেন, মৌসুম শেষে অবিক্রীত বীজ পরের বছর নতুন প্যাকেটে ভরে বিক্রি করা হয়। পাইওনিয়ার পি ৩৩৫৫ জাতের বীজের ক্ষেত্রে তেমনটিই ঘটে থাকতে পারে। তবে পাশের জেলা থেকে তিনি একই বীজ এনেছেন, কোনো প্যাকেটে পোকা পাননি। চুয়াডাঙ্গার দোস্ত ও বেগমপুর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রমাণ সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ওই বীজের ডিলারদের বাজার থেকে বীজ তুলে নিতে বলেছি। এরপরও কেউ বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বীজ বিপণন বিভাগ এ বিষয়ে কেন কিছু করছে না এমন প্রশ্নে লোকবল সংকটের অজুহাত দেন চুয়াডাঙ্গা বীজ বিপণনের উপপরিচালক একেএম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, এটা দেখার কথা জেলা বীজ প্রত্যয়ন বিভাগের। জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আলুর পরিবর্তে ভুট্টাকে নিয়ন্ত্রিত ফসলের আওতায় আনা হয়েছে। বীজ বিক্রির লাইসেন্স দেয়া হয় মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগ থেকে। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য তাদের কাছে আসে না। তিনি বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান বলেন, বীজ কিনে প্রতারিত হওয়া কৃষক অভিযোগ করলে অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। গত বুধবার পেট্রোকেম কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে পাওনিয়ার পি৩৩৫৫ জাতের পোকাধরা বীজ বাজার থেকে উঠিয়ে নিতে বলা হয়েছে। জেলার সব ভুট্টাবীজ সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধিদের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ে ডেকে নিম্নমানের বীজ বিক্রির ব্যাপারে সতর্ক করা হবে। তারপরও কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বছর জেলায় ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..