রাজপথে বামপন্থি

প্রবাসী নারীশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সৌদি আরবে নারী গৃহশ্রমিক নির্যাতন-হত্যা বন্ধ ও প্রবাসী নারীশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গত ১ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মহিলা ফোরাম এর ঢাকা নগর শাখার সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা, নারীনেত্রী প্রীতিলতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ঢাকা নগর শাখার সভাপতি জুলফিকার আলী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয় । সভায় বক্তারা বলেন, সৌদি আরবে অমানুষিক নির্যাতনে নাজমা বেগম (৪০) নামে মানিকগঞ্জের এক নারী শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর ১ মাস ২৪ দিন পর গেল ২৪ অক্টোবর দেশে আসে নাজমা বেগমের মৃতদেহ। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১০ মাস আগে মো. সিদ্দিক নামের এক দালালের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাজমা। সেখানে তাকে একটি হাসপাতালের পরিছন্নতাকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু যে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন সেখানে শুরু থেকেই চরম নির্যাতনের সম্মুখীন হন নাজমা। বাড়ির মালিকের ছেলে তাকে যৌন নির্যাতন করতেন। কথা না শুনলে বেধড়ক মারপিটও করা হতো তাকে। এমনকি ওই বাড়ির অন্যান্যরাও সুযোগ পেলেই তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাতেন। মৃত্যুর দু’দিন আগেও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনদের কাছে আকুতি জানান নাজমা। কিন্তু অর্থাভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি নির্যাতনের কথা জানিয়ে সৌদি আরবের বাংলাদেশি দূতাবাসে ফোনও করেছিলেন; কিন্তু তাকে কেউ সহযোগিতা তো করেইনি উল্টা গালিগালাজ করেছে। এভাবে গত দশমাসে সৌদিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাশ হয়ে ফিরেছেন ১১৯ নারী গৃহকর্মী। বক্তারা আরো বলেন, নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সৌদিতে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এরপর থেকে গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৩ লাখ নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দুই বছরের চুক্তিতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীরা মাসে বেতন পান বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১৭ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীদের বিনা খরচে সৌদি আরব যাওয়ার কথা; কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লেগে যায় সৌদি আরব যেতে। বাংলাদেশের দরিদ্র, প্রান্তিক, সরল, শিক্ষাবঞ্চিত নারীরা ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় বিদেশে যান কাজ করতে। কিন্তু পদে পদেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার হয়ে এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে দেশে ফিরেছেন ৮৫০জন নারী। এর মধ্যে আগস্ট মাসে একদিনেই ফিরেছেন ১০৯জন। বক্তারা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তারা বিদেশে কাজ করতে যেয়ে লাশ হয়ে ফিরছেন, নির্যাতন সইতে না পেরে সব খুইয়ে দেশে ফিরে আসছেন আর আমাদের সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলেও রেমিটেন্সের গল্প শোনাচ্ছেন। দেশে রেমিটেন্স পাঠনো এই শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না? প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা ও প্রবাসে দূতাবাসগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে না। এ সকল অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিচার যদি হতো তাহলে শত শত গৃহশ্রমিককে লাশ হয়ে ফিরতে হতো না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..