তিন বছরে বিলীন ৫০০ বসতঘর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশালের নদীবেষ্টিত উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। এ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বহু বছর ধরে। গত তিন বছরে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়েছে ইউনিয়নটির অন্তত ৫০০ বসতবাড়ি। সম্প্রতি ফের নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে পুরো ইউনিয়ন। জানা গেছে, গত তিন বছরের ভাঙনে শ্রীপুর বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মহিলা মাদ্রাসা, একটি কওমি মাদ্রাসা, একটি দাখিল মাদ্রাসা, বেশকিছু মসজিদ, মন্দির ও হাজারো হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অন্তত ৫০০ বসতবাড়ি বিলীন হওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষ। কয়েক দিন ধরে তেতুলিয়া নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এর আগেও একাধিকবার ভাঙন দেখা দিলে তা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে এবারো এ ইউনিয়নের বহু মানুষের বসতবাড়ি বিলীন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে এমনকি পুরো ইউনিয়ন। শ্রীপুরের বাসিন্দা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. লোকমান হোসেন বলেন, নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় একাধিকবার মানববন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙনে বিপন্ন এ জনপদের দুর্দশার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বহুবার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। লোকমান হোসেন আরো বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ভাঙনে একাধিকবার বাড়ি বিলীন হওয়া মানুষের সংখ্যা অসংখ্য। তারা বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব। এ অবস্থায় অবিলম্বে শ্রীপুর ইউনিয়নকে চলমান নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার চেয়ারম্যান একে এম মাহফুজুল আলম লিটন। এদিকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সফি উদ্দিন বলেন, শ্রীপুর ইউনিয়নকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই কাজ শুরু হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..