কী করবে সরকার?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা পরিবেশ ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের জের ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে আসছে পরিবেশ আন্দোলকারীরা। বলা হচ্ছে মাংসের চাহিদা মেটাতে গিয়ে পশু পালনের কারণে বিশ্বে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণের পরিমান বাড়ছে। ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউরোপে সাড়ে নয় ভাগের বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হয়েছে কৃষিখাত থেকে। এমন অবস্থায় টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য পরিবেশবাদীরা ক্রমশ এইসব দেশের সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে প্রাণী হত্যা বন্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণী অধিকারের জন্য লড়া সংগঠনগুলো। ঠিক এমন এক অবস্থাতেই জার্মান সরকার নতুন কৃষি পরিকল্পনা হাজির করেছে সংসদে। কিন্তু এই নীতি গ্রহণ করা হলে যে পরিবর্তন ঘটবে তাতে কৃষকরা কীভাবে খাপ খাওয়াবে সেটি একটি বড় প্রশ্ন। ৫০ বিলিয়ন ইউরোর যেই খাতটির উপর জড়িত দেশটির প্রায় ১০ লাখ মানুষ, দুই লাখ ৭০ হাজার কৃষিভিত্তিক শিল্পও। কক্সবাজারে অনুমতি না নিয়েই শতাধিক সরকারি গাছ কাটলেন প্রত্যাবাসন কমিশনার! প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, ভবনে সূর্যের আলো পড়তো না, তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। সৌন্দর্য বর্ধনের নামে শতাধিক গাছ কেটেছে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ কার্যালয় চত্বরের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল। গাছগুলো কেটে ফেলায় স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গাছগুলো কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছেন সদ্য যোগ দেওয়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার। মূলত তারই ইশারায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘‘সদ্য যোগ দেয়া প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার হঠাৎ করেই পুরনো এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন। যা কক্সবাজার শহরের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।” তিনি বলেন, “বড় বড় গাছের জন্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় চত্বর দৃষ্টিনন্দন ছিল। পাশাপাশি সেগুলোতে অনেক পাখিরও আবাসস্থল ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনার কারণে শতাধিক গাছ নিধন করা হলো। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।” সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডালপালা ছাঁটার নাম করে শতাধিক বৃক্ষ কেটে ফেলা হয়েছে। এজন্য কোনো দরপত্রও আহবান করা হয়নি। নেয়া হয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র। স্থানীয় বন বিভাগও এ বিষয়ে কিছুই জানে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় থাকা শতাধিক গাছ কেটে টুকরো করে স্তূপ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বড় আকারের অর্ধশত মেহগনি গাছ কাটা হয়েছে। ছোট আকারের কিছু গাছও কাটা হয়েছে। গাছের গুঁড়িগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ভবন সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে অফিসের আঙিনায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, অফিস আঙিনায় এতো বেশি গাছ হয়েছিল যে, ভবনে সূর্যের আলো পড়তো না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘‘সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি মূলত বনবিভাগ দেখাশোনা করে। এখানে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে, বৃক্ষ নিধন অপরাধ। যে-ই কাটুক না কেন এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..