ব্রেক্সিট কার্যকরের নতুন সময়সীমা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া কার্যকরের সময়সীমা তিন মাস পিছিয়েছে। ৩০ অক্টোবর ব্রিটেনের অনুরোধ মেনে সময়সীমা পেছাতে রাজি হয়েছে ইইউ নেতারা। তারা জানিয়েছে, ব্রেক্সিট কার্যকরের নতুন তারিখ হচ্ছে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি। খবরে বলা হয়, ইইউ সময়সীমা না পেছালে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউ থেকে বের হয়ে যেত ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও তেমনটাই চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগেই ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকরের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বলেছিলেন, চুক্তিসহ বা ছাড়া, অক্টোবরের মধ্যেই ইইউ থেকে বের হয়ে যেতে চান তিনি। কিন্তু এই প্রচেষ্টায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তার দল। সৃষ্টি হয়েছিল ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক সংকটগুলোর একটি। বারবার চুক্তি পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে গত মাসে ‘বেন অ্যাক্ট’ পাস করেছিল বিরোধীরা। ওই আইনের আওতায়, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি পাসে ব্যর্থ হয়ে ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ করে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছেন জনসন। ইইউ এই অনুরোধে সাড়া দেয়ায় এখন তা মানতে বাধ্য তিনিও। প্রত্যাশানুযায়ী সময়ে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে পারছেন না তিনি। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড টাস্ক বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছানো হলেও কিছুটা শিথিল শর্ত বজায় রাখা হয়েছে। ব্রিটেন চাইলে নতুন নির্ধারিত সময়ের আগেও বের হয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, সময়সীমা পেছাতে রাজি হয়েছে ইইউ। এখন আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ড্যাভিড সাসোলি বলেছেন, এই সময়সীমা বৃদ্ধিটি ‘ইতিবাচক’ পদক্ষেপ। এতে ব্রিটেন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় পাবে। এদিকে, চুক্তি পাসে ব্যর্থ হয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন জনসন। এ ছাড়া, ৯ ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছে বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। জনসন জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট যদি ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের পক্ষে ভোট দেয় তাহলে তিনি নতুন করে তার ব্রেক্সিট চুক্তিটি পাস করাতে ফের চেষ্টা শুরু করবেন। গত সপ্তাহে চুক্তিটি প্রথম বাধা পার করে পার্লামেন্টে। মন্ত্রীরা এর প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু জনসন পার্লামেন্টে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনদিন সময় নির্ধারণ করে দেন। তার এই সময়সীমার প্রতি সমর্থন জানায়নি সংসদ সদস্যরা। তিনি বলেছেন, তার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবে সাড়া দিলে ওই সময়সীমা পিছিয়ে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করবেন তিনি। তবে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি জানিয়েছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা জনসনের প্রস্তাবে সমর্থন জানাবে না। দলটির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিষিদ্ধ করে বিল পাস করুক সরকার, তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই আমাদের। উল্লেখ্য, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই জনসন নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টির। লেবারের সমর্থন ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তাব পাস করা প্রায় অসম্ভব তার পক্ষে। এর আগে আরো দুইবার পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ‘ফিক্সড-টার্মস পার্লামেন্ট অ্যাক্ট ২০১১’ অনুসারে, আগাম নির্বাচনের জন্য অন্তত পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন লাগবে। বিরোধী দল এসএনপি জানিয়েছে, তারাও সরকারের প্রস্তাবে সমর্থন দেবে না। কিন্তু লেবারের পাশেও থাকবে না স্কটিশরা। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে ৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের ডাক দিয়েছে তারা। এদিকে বিরোধীদল লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করেছেন প্রচার। এক ভাষণে তিনি ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে দেশের রূপান্তর ঘটানোর বিরল সুযোগ বলে বর্ণনা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিটে দেরীর জন্য লেবার নেতা করবিনকে দায়ী করেছেন। ৩১ অক্টোবরে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে না পেরে জনসন রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে ১২ ডিসেম্বর নির্বাচন ডেকেছেন। ব্রেক্সিটের সময় বাড়াতে বাধ্য হওয়ার জন্য চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন জনসন। তবে নির্বাচনে কনজারভেটিভ দল জয়ী হলে অচলাবস্থার অবসান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টির দুই নেতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও এদিন থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য নির্বাচন প্রচার শুরু করছে। জনমত জরিপগুলোতে জনসনের কনজারভেটিভ পার্টিকে লেবারের চেয়ে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনসন সময়মত ব্রেক্সিট করতে না পারায় এবার নির্বাচনের মাধ্যমেই ব্রেক্সিটের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। লেবার নেতা করবিন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতকে হুমকিতে ফেলছেন বলে অভিযোগ করবেন তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..