শিক্ষাঙ্গনে চাই আরো বেশি রাজনীতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মেহেদী হাসান নোবেল: গত এক দশক ধরে ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য নানা অপকর্মের কারখানায় পরিণত করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। গণরুমে এবং গেস্টরুমে ম্যানার শেখানোর নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা মাত্রার শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালায় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের নির্যাতনের সর্বশেষ উদাহরণ বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। আবরার নিহত না হলে হয়তো ছাত্রলীগ যে বর্বর নির্যাতন চালায় তা প্রকাশিত হতো না। আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্রলীগের টর্চার সেল রয়েছে। ভিন্নমত দমনে এই টর্চার সেল কাজ করে থাকে। ছাত্রলীগের নানা মাত্রিক নির্যাতনকেই বুয়েট শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি বলে জেনে আসছে। আবরার ফাহাদ নিহত হবার পর বুয়েট শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানায় এবং এক ধরণের সুযোগ সন্ধানী মিডিয়া ও সুশীল সমাজ বুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবির সূত্র ধরেই সারা দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য উঠে পড়ে লাগে। ছাত্রলীগ যে ধরনের অপকর্ম করেছিল তা কি আসলে ছাত্র রাজনীতি? হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম বা অপরাধ কিভাবে ছাত্র রাজনীতি হয়? এর আগেও নানা সময়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সুপারিশ ইউজিসি’র কৌশলপত্রেও আছে। সে কৌশলপত্রের মূল সুর শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষাকে বাণিজ্যিক ধারায় পরিচালিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই বামপন্থি প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা নির্যাতন-মামলা-হামলা সহ্য করেই প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার চক্রান্ত রুখে দিয়েছে। আজকে যদি প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যায় তাহলে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ইউজিসি’র কৌশলপত্র বাস্তবায়ন সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় এক ধরনের অগণতান্ত্রিক আইনে চলছে। বুয়েট চলছে ১৯৬১ সালে আইয়ুব শাহীর তৈরি আইনে। আমরা মনে করি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেক হোল্ডার ছাত্রদের স্বাধীন মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের পূর্বশর্ত। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল যে কাজ জ্ঞান তৈরি, জ্ঞান বিতরণ এবং জ্ঞান সংরক্ষণ– এই তিন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়য়ের স্বায়ত্তশাসন জরুরি। ছাত্র রাজনীতি বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশে চেপে বসা স্বৈরাচারকেও দূর করছে এদেশের ছাত্র সমাজ। আগামীতেও বাংলাদেশকে পথ দেখাবে এদেশের ছাত্র সমাজ। সুতরাং ছাত্র রাজনীতি বন্ধের মাধ্যমে ছাত্র সমাজের মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করা ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। ছাত্রলীগের সন্ত্রাস অপকর্মের কারণেই বুয়েট প্রশাসন ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পেরেছে। কিন্তু ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের দায় অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো নিতে পারে না। অবিলম্বে বুয়েটসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয় বরং আরো বেশি রাজনীতি চর্চাই পারে সুস্থ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..