লুটপাট দমনে ব্যর্থ, এখন নেমেছে গরিব দমনে

ফরিদপুরে অটো রিক্সা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে চলমান রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, সরকার লুটপাট দমন করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গরিব মানুষ দমন শুরু করেছে। তিনি বলেন, রিকশা বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। রিকশা কিনতে কোন বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় না। পেট্রোল বা ডিজেলের দরকার পরে না। রিকশার টাকা গ্রামে যায় দেশেই থাকে। রিকশা চালকরা বিদেশে টাকা পাচার করে না, বিদেশে ছেলে মেয়েদের পড়ায় না, চিকিৎসা করায় না, দালান কোঠাও বানায় না। রিকশায় মটর লাগানোর ফলে অতীতে যে অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো তা অনেক লঘু হয়েছে। ব্যাটারি চার্জ করতে যে বিদ্যুৎ ব্যয় হয় তা ধনীদের আরাম আয়েশ বিলাসের ব্যয়ের তুলনায় কিছুই না। তিনি বলেন, রিকশা চালকদের কষ্ট লাঘবের জন্য রাষ্ট্র যদি এইটুকু দায়িত্ব যদি নিতে না পারে তবে বুঝতে হবে দেশ ‘গণপ্রজাতন্ত্রের’ বদলে ‘লুটেরা ধনিক তোষণতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে। মনজুর আরো বলেন, দেশে আমরা অনেক শাসক দেখেছি। অনেকে রাজপথ থেকে রিকশা, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করতে চেয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাঁরা নিজেরা উচ্ছেদ হয়ে গেছেন। কিন্তু রিকশাচালকেরা টিকে আছেন। তিনি রিকশাকে পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী গণপরিবহন হিসাবে আরো উন্নত করা এবং অবিলম্বে ফরিদপুরসহ সর্বত্র ব্যাটারি চালিত রিকশা অবাধে চলতে দেয়ার দাবি জানান। ‘ভাত দে-কাজ দে, নইলে রিকশা চালাতে দে’ এই শ্লোগানে ফরিদপুর শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়ার দাবিতে গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে অষ্টম দিনেরমত রিকশা চালকেরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হন। সেখান থেকে মিছিল সহকারে কয়েক হাজার শ্রমিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। সেখানে আরও বক্তব্য রাখেন, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি রফিকুজ্জামান লায়েক, সাধারণ সম্পাদক অরুন কুমার শীল, শ্রমিকনেতা হযরত আলী, মঞ্জুর মঈন, রিকশা শ্রমিক ফিরোজ ফকির, নুরুল হক, আলমগীর, জাহিদ, শেখ মাসুদ, ছাত্রনেতা বলাই পাল, আবরার নাদীম ইতু প্রমূখ। অবস্থান সমাবেশের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী রিকশা চালকদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে আন্দোলনকারী রিকশা শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে তিন ছাত্রসহ অন্তত বিশজন শ্রমিক আহত হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..